খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদগুইমারাপাহাড়ের সংবাদস্লাইড নিউজ

কনকনে শীতে নাকাল গুইমারাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার: কনকনে শীতে নাকাল গুইমারা’র আদিবাসী পল্লীগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। গত কয়েক দিনের টানা প্রচন্ড শীতে নাকাল পুরো পার্বত্যাঞ্চল। পাহাড়ে বসবাসরত অধিবাসীদের বিশেষত: পিছিয়ে থাকা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট যেন আকাশ ছুঁয়ে যায়। অতিরিক্ত শীতে খাগড়াছড়ি’র গুইমারা উপজেলা’র দূর্গম পাহাড়ি জনপদ ধনীরামপাড়া, শনখলাপাড়া, মাইরুংপাড়া, চৌধুরীপাড়া, দেওয়ানপাড়া, বাইল্যাছড়ি সহ পুরো উপজেলাবাসীর জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবি দরিদ্র মানুষগুলো রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে অর্থনৈতিক সংকটও। প্রয়োজনীয় শীতবন্ত্র না থাকায় এসব এলাকার মানুষগুলো উষ্ণতার জন্য ঘরে আগুন জ্বালিয়ে শীতের তীব্রতা থেকে মুক্তির চেষ্টা করছে। দীর্ঘকাল থেকে পার্বত্যাঞ্চলের আদিবাসীরা কাঠে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করলেও বর্তমানে আগুন দিয়ে শীত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না এরা। এছাড়াও বিভিন্নভাবে চলছে শীত নিবারনের শত চেষ্টা।

গরম কাপড়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে ছিন্নমুল হতদরিদ্র মানুষের। গত কয়েকদিনের অব্যাহত প্রচন্ড শীতে দিনের অধিকাংশ সময়েও মিলেনি সুর্যের দেখা। রাতের আধাঁর নামার সাথে সাথে ঘন কুশায়া যেন শীতের বাড়তি যোগান দিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।
আবহাওয়া অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী ১৯৬৮সালের ৪ফেব্রুয়ারী শ্রীমঙ্গলে সর্বশেষ ২.৮তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০১৮সালে তা বেড়ে গিয়ে দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা তেতুলিয়ায় রের্কড করা হয়েছে ২.৬ডিগ্রি সেঃ। দিনাজপুরের তেতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে স্মরণকালের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা। আর খাগড়াছড়িতে সর্বনি¤œ ৭ডিগ্রি সেঃ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

দিনের কয়েক ঘন্টা সময় সূর্য উঁকি দিয়ে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমালেও গুইমারা উপজেলায় বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশায় উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বাড়ছে শীতের বিভিন্ন রোগ। গুইমারা উপজেলায় কোন হাসপাতাল না থাকায় উপজেলাবাসীকে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসাজনিত বাড়তি বিড়ম্বনায়। গুইমারা’র অসুস্থ মানুষগুলোকে পার্শ্ববর্তী মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেকে যেতে হচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে। গত এক সপ্তাহের মাত্রাতিরিক্ত শীতে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শিশু-বৃদ্ধদের পরিমানটাই বেশি বলে জানালেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আর.এম.ও)খায়রুল আলম।

কয়েকদিনে পাহাড়ে কনকনে শীতে কষ্টে থাকা অবহেলিত মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন ও সেনাবাহিনী। গুইমারা উপজেলা ৩টি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গত কয়েক সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে আসা ৯শ কম্বল শীতার্ত মানুষের মাঝে বিলি করা হয়েছে বলে জানান, গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়–য়া। শীতার্ত মানুষের শীত নিবারনের জন্য ১৭জানুয়ারী গুইমারা রিজিয়নের উদ্যোগে লেঃ মুশফিক বিদ্যালয় মাঠে ৪৫০জন শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। এছাড়াও সিন্দুকছড়ি জোন, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান ফোরাম, গুইমারা থানা পুলিশ, গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শীতবন্ত্র বিতরণ করে অনেকে প্রত্যান্ত অঞ্চলে গিয়ে বাড়ীতে বাড়ীতে শীত বস্ত্র পৌছে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। শীতবস্ত্র বিতরণ করার কথা শুনলেই উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকার মানুষগুলো দীর্ঘ লাইন ও জড়ো হওয়ার ছিল বেশ লক্ষনীয়। অনেকে শীতবন্ত্র না পেয়ে

সরেজমিনে গুইমারা দেওয়ানপাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ে পাদদেশে মাচাং ঘুরে বসেই সময় পার করছেন মানুষগুলো। অতিরিক্ত ঠান্ডায় কাজ না থাকায় শীত বস্ত্র কিনতে পারেনি ক্যহলাচিং মারমা। লেপ না থাকায় গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া সরকারী কম্বল দিয়ে পরিবারের ৩সদস্য শীত নিবারন করছে।  শীতে প্রকোপ থেকে বাঁচতে উপজেলা হাট-বাজারের ফুটপাতের পুরাতন(টালের) শীতবস্ত্রই নি¤œআয়ের মানুষগুলোর ভরসা। গুইমারা বাজার ঘুরে দেখা যায়, মার্কেটের দোকান গুলোর তুলনায় ফুটপাতে শীতবস্ত্র ক্রেতার পরিমাণ অনেক বেশী।
শীতবস্ত্র কিনতে আসা কংজরী মারমা জানান কম দামে ফুটপাতে উষ্ণ কাপড় পাওয়া যায় বলে পরিবারের সবার জন্য তিনি এখান থেকেই শীতবস্ত্র কিনছেন। গুইমারা বাজারের শনি ও মঙ্গলবার রাস্তার পাশে ভীড় জমিয়ে শীতবস্ত্র কিনতে আসা মানুষগুলোর অধিকাংশই আদিবাসী ও নি¤œ-আয়ের। আপাত: দৃষ্টিতে মনে হবে চারদিকে গোল করে ঘিরে ধরা মানুষগুলো সাপের খেলাই দেখতে। কিন্তু ভাল ভাবে লক্ষ্য করছে বুঝা যাবে সবাই যার যার পছন্দ মত সাধ্যের মধ্যে শীতবস্ত্র কিনছেন।