খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ে উন্নয়নপাহাড়ের সংবাদবিশেষ প্রতিবেদনশিরোনামস্লাইড নিউজ

করোনা সংক্রমন বাড়ছেই, বাঁচতে হলে সতর্ক হোন

পাহাড়ের আলো: হয়তো অনেকেরই পড়ার সময় হবে না, তবে পড়াটা মনে হয়, সবার জন্যই অনেক জরুরি। আমি একজন কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়া সস্তে¡ও বাস্তবভিত্তিক এ লেখাটা অনেক কস্ট করে লিখেছি। এর দ্বারা যদি একজন লোকও ন্যূনতম সচেতন হয়, একটি জীবনও বেঁচে যায়, তবেই আমার এ কস্টের লেখা ন্যূনতম সার্থক হবে বলে মনে করি। প্রিয় খাগড়াছড়ি একটি ছোট্ট শহর হলেও কোভিড-১৯ এর সংক্রমন আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় খাগড়াছড়ি ক্রমেই চরম ভয়াবহতার দিকে এগুচ্ছে মর্মে প্রতীয়মান।

নিম্নের ডেইটওয়াইজ সংক্রমনের পরিসংখ্যানটি তারই ইঙ্গিত বহন করে: ২৮জুন ২১ জন, ২৯জুন ২৩ জন, ৩০জুন ৪৫ জন, ১জুলাই ৩৯ জন এবং সর্বশেষ ২জুলাই শুক্রবার খাগড়াছড়ির করোনাকলীন ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড ৪৮ জন শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সর্বশেষ ৫ দিনে ১৭৬ জন সংক্রমিত হলো। তার মানে ইন-এভারেজ ক্রম ঊর্ধ্বগতি বহমান। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বসবাসরত অধিকাংশ জনসাধারণই এ ব্যাপারে বেশ উদাসিন, কিংবা ব্যক্তিগত অপারগতা, অসচেতনতার কারণে স্যাম্পল প্রদানপূর্বক টেস্ট কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে না। এ থেকে অনুমান করাই যায়, প্রশাসন, স্বাস্থ্য, পুলিশ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল ডিপার্টমেন্ট এর সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকা সত্তে¡ও প্রিয় খাগড়াছড়ি চরম বিপর্য়ের সম্মুখ দ্বার প্রান্তে।

এবার নিজের প্রসংগে একটু খানি বলি, কোভিড-১৯ এর শুরু অর্থাৎ ২০২০ এর শুরু থেকেই আমি, আমার ফ্যামিলি সর্বোচ্চ সতর্ক ছিলাম, এখনো আছি। পাশাপাশি ফেইসবুকের কল্যাণে অন্য সকলকেও সতর্ক রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। তথাপিও কোথা থেকে, কার সংস্পর্শে অতি সম্প্রতি আমি নিজেই এফেক্টেড হয়ে পড়ি। প্রসংগত বলে রাখছি, আমি কিন্তু কোভিড-১৯ এর দুই ডোজ টিকাই নিয়েছিলাম। আজ আমার প্রিয় পরিবারের প্রতিজন সদস্যও ১০০% ঝুঁকিতে। সুতরাং আমি মনে করি, সচেতন, সতর্ক থাকার পরও, টিকা নেয়ার পরও কেউ নিশ্চিন্ত, টেনশনমুক্ত হওয়ার ন্যূনতম সুযোগ নেই। যে কেউ, যে কোন সময় এফেক্টেড হয়ে পড়তেই পারেন।

তাই, আর কথা নয়, একটাই চাওয়া-সবার আগে সবাই আল্লাহপাক এর কাছে কান্নাকাটি করুন, তওবা এসতেগফার করুন, আল্লাহপাক যেন আমাদের ক্ষমা করে দেয়, আমাদের প্রিয় খাগড়াছড়ি থেকে, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে এ গজব উঠিয়ে নিয়ে যায়। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ভাইরা স্ব- স্ব ধর্ম অনুযায়ী স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করুন।
পাশাপাশি সর্বোচ্চ সচেতনতা, সতর্কতা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণসহ সরকার নির্দেশিত সকল বিধি-বিধানকে সর্বোচ্চ মান্য করি। বিশেষ করে, নিজে বাঁচার, নিজের সকল প্রিয়জনকে বাঁচানোর এ যুদ্ধে সবাই সমন্বিতভাবে নিজ নিজ সামর্থ্যের সবটুকু যোগ করে শামিল হই। সর্বোপরি, চলমান ৭ দিনের লকডাউনে একেবারেই ঘরবন্দি থাকি, এ একটিমাত্র লকডাউনকে অন্ততঃ সর্বোচ্চ কস্ট স্বীকার করে হলেও সর্বোচ্চ সার্থক করি। নিজে বাঁচি, অপরকে বাঁচাই, সরকারি আইন, নির্দেশনা মান্য করি, সরকারকে সহযোগিতা করি।

বিঃদ্রঃ জীবন চলার পথে ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত কারণে কারো মনে কস্ট দিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এবং আল্লাহপাকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমার এবং আমার ফ্যামিলির সবার জন্য আপনাদের সকলের আন্তরিক দোয়া চাই।-সম্পাদনা: মোবারক হোসেন।(একজন করোনা পজিটিভ রোগীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যক্তিগত ফেইসবুক স্টাটাজ থেকে নেয়া)