খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদজাতীয় সংবাদপাহাড়ের সংবাদপ্রবন্ধ ও কবিতাবিশেষ প্রতিবেদনমানিকছড়িশিরোনাম

খাগড়াছড়ির “তাছলিমা সুমন” একজন সফল নারী উদ্যোক্তা

পাহাড়ের আলো ডেস্ক: খাগড়াছড়ির মেয়ে “তাছলিমা সুমন”। যিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৭ সাল থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি চালিয়ে যান জীবন সংগ্রামের একটি অংশ অনলাইন ব্যবসা। তবে থেমে থাকেননি তিনি। দুর্গম পথ এবং ব্যার্থতার গ্লানি উপেক্ষা করে আজ সাফল্যর দ্বারপ্রান্তে ” তাছলিমা সুমন”। হাটি হাটি পা পা করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে তিনি হয়ে উঠেন খাগড়াছড়ির সফল নারী উদ্যোক্তা। বর্তমানে থাকেন ঢাকায়।

”উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প নিয়ে টেকজুমের এবারের আয়োজন। খাগড়াছড়ির মেয়ে “তাছলিমা সুমন” এর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিবিসিনিউজ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার। পাঠকদের উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

আপনার সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন: আসসালামু আলাইকুম। আমি তাছলিমা সুমন। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির মেয়ে। খাগড়াছড়ি পড়াশোনা। বতমানে ঢাকায় বাসাবোতে থাকি। আমি দুই সন্তানের জননী। বতনানে সংসার বাচ্চাদের সামলিয়ে অনলাইন অফলাইন ব্যবসা করছি।

উদ্যোক্তা আগ্রহ কিভাবে তৈরি হলো: উদ্যোক্তা হওয়ার সব চেয়ে বড় কারন আমার বাচ্চারা, আমার খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়। এক বছরের ব্যবধানে দুই ছেলে । তখন পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়া টা হয়ে উঠেনি। তবে কাজ করার ইচ্ছা টা ছিলো শুরু থেকে।আমার বাচ্চাদের যখন ৪/৫ বছর তখন আমার মনে হলো,পড়াশোনা টা শুরু করা দরকার। যখন পড়াশোনা শুরু করলাম তখন মনে হলো,আমার ঘরে বসে এমন কোন কাজ দরকার। যেটা করলে,সংসার এবং বাচ্চাদের কোন সমস্যা হবে না। কারন, আমার সংসারের উদ্দে কিছু না। একসাথে দুইটায় করতে পারবো ঐ ইচ্ছা টা থেকে উদ্যোক্তা হওয়া।

আপনি এই অনলাইন বিজনেসে কাকে আইডল হিসেবে দেখছেন?
আমার বিজনেস টা শুরু থেকে ছিল মূলত অফলাইন আর অনলাইনে বিজনেস শুরু করেছি ২০১৭ থেকে। যদি জানতে চান আইডল হিসাবে কাকে দেখেছি তবে সত্যিই বলতে হবে এমন করে কাউকে অনুসরণ করা হয়নি। তবে হ্যা বিভিন্ন পেইজ, গ্রুপ ও অনেক লাইভ দেখেছি দিনের পর দিন আবার অনলাইনে অল্প কিছু কেনাকাটা করে বোঝার চেষ্টা করেছি কেমন ফলাফল পাওয়া যায়। সবকিছু একটু একটু করে বোঝার পর নিজের পেজ ওপেন করা ও অনলাইনে কাজ শুরু করা। তবে এখন অনলাইনে বেশ সাড়া পাচ্ছি আমি।

কতটুকু সফলতা লাভ করেছেন বলে মনে করেন?
যতটুকু পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ।।তবে এখনো অনেক পথ চলা বাকি।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
আমার কাজগুলো যেহেতু আমি নিজেই ডিজাইন করি তাই কারো সাথে আমার কাজের হুবহু মিল খুজে পাওয়া যাবে না। আরও ইউনিক ডিজাইনের কাজ করার ইচ্ছা আছে এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন পণ্য নিয়ে হাজির হবো ইনশাআল্লাহ। উদ্যোক্তা হওয়ার পথের এই যাত্রা চলবে অবিরত।

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যদি বলতেন? আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা আমি বতমানে বিএসএস করছি।

আপনার চ্যালেঞ্জ গুলো কিভাবে মোকাবেলা করেছেন?

শুরুটা তেমন ভালো ছিলো না। প্রথমে বলেছি আমি মানিকছড়ির মেয়ে এবং আমিই প্রথম মহিলা উদ্যোক্তা মানিকছড়ির। সবাই অনেক মজা করেছে, আমাকে নিয়ে,এমন কি নিজ এলাকার বন্ধ বান্ধবী তো আছেই। এমনও অনেকে বলেছে যে জামাইয়ের অনেক আছে,তা ও কাপর বিক্রি করে। সবার সব কথাতে আমি থেকে থাকিনি। আমার স্বামী বলেছে যে,অনেকে অনেক কিছু বলবে শুনার দরকার কি? আল্লাহ ইচ্ছায় এখন আমি মানিকছড়ি পরিচিত একটা মুখ। যারা বলতো তারাই এখন আমার পথ চলার সাথি।

আপনার নতুন প্রোডাক্ট গুলো কি কি?
বোরকা, খিমার,চাদর, তাঁত, বুটিক্স, জয়পুরি, বাটিক, বিডি লোন, ইন্ডিয়ান থ্রিপিজ, পাকিস্তানি থ্রিপিজ, হাতের কাজের থ্রিপিস। আমার পেইজের নাম: Tasli’s creation

বর্তমানে কোভিড-১৯ এ ই-কমার্স?
করোনা একটি প্রাণঘাতী ও মরণব্যাধি ভাইরাস। বর্তমানে কোভিড১৯ কারণে ই-কমার্স সাড়া পাচ্ছে সারা দেশ ও সারা বিশ্ব।বাংলাদেশ কম সাড়া পাচ্ছে না কিন্তু ঠকছে তার চেয়ে বেশি। অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করার জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। তবে ঘরে বসে অনলাইন এ কেনাকাটা করার আগ্রহ বেড়েছে মানুষের মদ্ধে।নিজেকে সেইভ রেখে ঘরে বসে অনলাইন কেনাকাটাকে গ্রহন করছে মানুষ।কিন্তু প্রতারণা করছে কিছু চক্র, এদের থামানো গেলেই আরও বেশি সামনে এগিয়ে যেত ই-কমার্স।

পরিশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?
পরিশেষে আমি পাঠকদের বলবো না সব মেয়েদের বলবো যে মেয়েরা কোন কিছুতে এখন পিছিয়ে নেই, একটা কথা আমি নিজেকে নিয়েই বিবেচনা করে বলবো, মেয়েরা চাইলে অনেক কিছু করতে পারে, জীবনটা গুছাতে পারে মানুষ আমাদের অনলাইন বিজনেসটাকে খারাপ চোখে দেখে একদিন এ ভুল ভাঙ্গবে, কে কি বলবে তা সুনে বসে থাকলে চলবে না নিজেকে নিজের মতই গড়ে তুলতে হবে।তাই বলছি যে সব আপুরা ভাবছেন যে নিজে বিজনেস করবেন তাদের উদ্দেশ্য বলছি আপনারা নিজের মনকে প্রাধান্য দিন দেখবেন সাহস এমনি চলে আসবে। সম্পাদনা: মোবারক হোসেন, সূত্র: বিবিসিনিউজ২৪ ।