খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

খাগড়াছড়ি পৌর নির্বাচনে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রচারণা, পাড়ায় পাড়ায় প্রার্থীদের গণসংযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: দিন গণনার হিসেবে আর মাত্র ২ দিন পর আগমী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ১৬ জানুয়ারি শনিবার পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নিজের পাক্ষে বিজয় নিশ্চিত করতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে রাজি নন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। কখনো প্রার্থী সরাসরি ভোটারদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন আবার বিপরীত দিকে যেখানে প্রার্থী স্ব-শরীরে যেতে পারছেন না সেখানে কর্মী সমর্থকরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সমর্থক বাড়াতে দলীয় প্রার্থীকে বিজয় করতে উপজেলা থেকেও নেতা-কর্মীরা এসে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। এটি শুধু মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রেই হয়েছে।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভা এলাকায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ছেয়ে েেগেছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ খুব একটা না থাকলেও কে হচ্ছেন এবারের মেয়র তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে তুমূল আলোচনা। এই উত্তাপ ছড়িয়েছে জেলা থেকে প্রতিটি উপজেলায়।

খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪০ জন নির্বাচন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী নৌকা প্রতীকে লড়ছেন। এদিকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন বর্তমান মেয়র মো. রফিকুল আলম।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল। এদিকে আর এক প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী রয়েছেন জাতীয় পার্টি মো. ফিরোজ আহমেদ।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা বিদ্রোহী প্রার্থী। বিদ্রোহীদের বিষয়ে কেন্দ্র অবগত রয়েছে। তাদের কঠিন জবাব দেওয়া হবে। এবার মেয়র পদে জনগণ পরিবর্তন চায়। তাই খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে একাট্টা আওয়ামী লীগ।
বর্তমান পৌর মেয়র মো. রফিকুল আলম নিজেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘জনগণ ও পৌরবাসীর অনুরোধেই আমি নাগরিক কমিটির ব্যানারে আমি নির্বাচন করছি। সকল নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। আমি বিশ্বাস করি পৌরসভার উন্নয়নের স্রোতধারা ধরে রাখতে পৌরবাসী আমাকে আবারো সুযোগ দিবেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। সব সময় জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও আমি চিন্তিত নই। পৌরবাসী এবার পরিবর্তন চায়। খাগড়াছড়ি আওয়ামী লীগ পরিবার এবং জনসাধারণরা নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। আসন্ন পৌর নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। নির্বাচনে পৌরবাসী আমাকে মূল্যায়ণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকেরে প্রার্থী মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এবং জনগণের সেবা করার জন্য মেয়র পদে নির্বাচন করছি। জনগণ যদি তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেন তাদের কল্যাণে আজীবন কাজ করে যাবো। তিনি আরো বলেন, সকল এলাকার সমহারে উন্নয়ন, অযাচিত পৌর কর পরিহার, পৌর এলাকা ও ঠিকাদারী কাজের সম-বন্টনসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে পৌর নির্বাচন নিয়ে হোসনেয়ারা বেগম বলেন, প্রতিদিনই প্রার্থীরা বাড়িতে এসে ভোট চাচ্ছেন। রাস্তা-ঘাট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গতবারের মত এবার আর ভুল করব না। এবার যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিবো। আরেক ভোটার আব্দুস সবুর জানান, শহরের রাস্তা-ঘাট পোস্টার ব্যানারে ভরে গেছে। মাইকিং করেও ভোট চাচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মেয়র প্রার্থী নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি পৌরসভায় এবার মোট ভোটার ৩৭ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০ হাজার ৩৫১ জন এবং নারী ভোটার ১৬ হাজার ৭৩৬ জন। এ নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৮টি। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ইভিএম পদ্ধতিতে।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ রাজু আহমেদ বলেন, ১৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮ পর্যন্ত প্রর্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। ১৬ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহণের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।