ক্রীড়াখাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদমানিকছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা অর্জন নিলামে তুলে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে চায় মানিকছড়ি ইমন

মো. ইসমাইল হোসেন: আমি সাকিব, তামিম বা মুশকিদের মত সেলিব্রেটি নই। কিন্তু তাই বলে যে তাদের অনুসরণ করা যাবে না তা কিন্তু একদমই অযৌক্তিক। আমার এই ক্রেস্ট বিশ^কাপ এ খেলতে গিয়ে পাওয়া না, সো যত পারেন বলেন সমস্যা নাই। এমন একটা আবেগঘন ফেইসবুকে স্ট্যাটাস লিখেছেন মানিকছড়ি উপজেলার ক্রীড়ামোদী উদীয়মান তরুণ খেলোয়ার, মানিকছড়ি ফুটবল একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইন্স এবং খাগড়াছড়ি জেলার ফুটবল দলের সহকারি প্রশিক্ষক মো. ইমরান হাছান ইমন। এছাড়াও তিনি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি অনার্স বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। তিনি তার খেলোয়াড়ী জীবনের সবচাইতে সেরা অর্জন আজ নিলামে তুলেছেন। যার প্রাথমিক মূল্য মাত্র ২৫ লিটার তৈল বা সমমূল্যের অর্থ। যা কিনা সে একটি সেচ্ছাসেবী সংঘঠন প্রেরণার মাধ্যমে উপজেলার অসহায়-হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সামান্য ঈদ উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার জন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তিনি তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ২০১৫ সালে খাগড়াছড়ি জেলা ক্রিকেটলীগে মানিকছড়ি উপজেলা প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। উক্ত খেলায় চ্যাম্পিয়ন দলের ম্যান অব দ্যা ফাইনাল হওয়ায় একটি ক্রেস্ট পান। ঐ খেলায় সে ব্যক্তিগত ভাবে ৭৮ রান করে এবং ৪ টি ইউকেট শিকার করে। যার ফলে মানিকছড়ি উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তিনি আরও লিখেন, এটা অনেকের কাছে সামান্য হলেও খবর নিয়ে দেখবেন সেদিনের সেই পার্ফরমেন্সেই মানিকছড়িবাসীকে ভাসিয়েছিল আনন্দে এবং পুরো জেলা মানিকছড়ির ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের সমীহ করে দেখে। তাই অনেক ক্রেস্টের মধ্যে এটা তার জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ একটি ক্রেস্ট।

তিনি জানান, তার খেলোয়াড়ী জীবনে উপজেলা, জেলা-বিভাগীয় পর্যায়সহ দেশের অনেক স্থানেই ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে নিজের একাধিক অর্জন রয়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষ করোনা মোকাবিলায় আজ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। তাই নিজ উপজেলার গৃহবন্দি হয়ে পড়া অসহায়-হতদরিদ্র মানুষের জন্য কিছু না করতে পারলে নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছিল। তাছাড়া সামান্য টিউশনি করে নিজে চলার চেষ্টা করছি। পারলে পরিবারকেও সাহায়তা করছি। তাই পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যক্তিগত সকল অর্জন নিলামে বিক্রি করে উপজেলার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আর এ কাজে সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। ইতোমধ্যে আমার জীবনের সবচাইতে বড় অর্জনের ক্রেস্টটির মূল্য ৬ হাজার টাকা উঠেছে এবং আরও পর্যাপ্ত সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি আমার অর্জনের টাকা দিয়ে কিছু পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও কিছু ঈদ উপহার তুলে দিতে পারব।