চট্টগ্রাম সংবাদফটিকছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.)’র বার্ষিক ওরশ শরীফ সম্পন্ন

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে শেষ হলো ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফের অধ্যাত্ম শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) এর ১১৪ তম বার্ষিক ওরশ শরীফ । এ মহান ওরশ শরীফে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ এবং দেশের সার্বিক সুখ সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে আখেরী মুনাজাত করেন গাউছিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী (ক.)।

অপরদিকে মোনাজাতে গাউছুল আজম হযরত শ্হাছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ (ক.) এর দর্শনের যথাযথ অনুসরণের মাধ্যমেই মিলবে ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি, মুক্তি ও মর্যাদা উল্লেখ করে বিশ্ব নিপেড়ীত মানুষের কল্যাণ ও বিশ্বেবাসীর শান্তি কামনা করে দরবারের বিভিন্ন মঞ্জিল পক্ষে মোনাজাত পরিচালনা করেন, গাউছিয়া রহমান মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

প্রতি বছর হযরত গাউছুল আজম শাহ্ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)’র বার্ষিক ওরশ শরীফ মহান ১০ মাঘ, ২৪ জানুয়ারি গুরুত্বের সাথে পালিত হয়।

রাতব্যাপী ভক্তদের ক্যাম্পে চলে জিকির আজকার, ছেমা মাহফিল, কাওয়ালী ও মর্মীগানের আসর। ভক্তদের বিভিন্ন বাদ্যবাজনার শব্দে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর রওযা ঘিরে আশেক ভক্ত জায়েরিন পূণ্যলাভের আশায় আল্লাহর দরবারে কান্না করতে দেখা যায়।

ওরশ শরীফ চলাকালে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আল্লাহ-আল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জিকির, মিলাদ ও ছেমা মাহফিলের ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হতে থাকে। আইন শৃংখলা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের বিশেষ টীম কাজ করে। প্রতিবছরের মতো ওরস উপলক্ষে গাউছিয়া আহমদীয়া মনজিল, গাউছিয়া রহমান মনজিল, গাউছিয়া মঈনীয়া মনজিল, গাউছিয়া হক মনজিলসহ প্রতিটি মনজিলে খতমে কোরআন, খতমে গাউছিয়া, খতমে খাজেগান, মিলাদ মাহফিল, হালকায়ে জিকির, বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হয়।দরবার শরিফে আসা ভক্তদের আপ্যায়নে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। দরবারের পাঁচটি মনজিল ভক্তদের জন্য খাবারের আয়োজন করেছে।

দরবার শরীফ সূত্রে জানা গেছে, ১৯০৭ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ মাঘ ঔতিহ্যবাহী এই ওরস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের কমবেশি প্রায় সব এলাকা থেকেই ভক্তরা আসেন এখানে। এ উপলক্ষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেন। সড়কপথে বাস, ট্রাক, কার, মাইক্রো, মিনিবাস, টেম্পো ইত্যাদি নিয়েও আসেন ভক্তরা।

ওরস আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন সহায়তা দিয়েছে । দরবার কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ একযোগে কাজ করছে এ লক্ষ্যে। সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন-ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।