কক্সবাজারপাহাড়ের সংবাদবান্দরবান সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

চিংড়ি ঘেরের বিরোধের জেরে পেকুয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ২, ৭টি অস্ত্র উদ্ধার

পেকুয়া (কক্মবাজার) প্রতিনিধি: পেকুয়ায় চিংড়ি ঘেরের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ব্যক্তি। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি জীপ গাড়ি, তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার ও এক নারীসহ ১১ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। ২৩ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলহাচুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, একই এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে নেজাম উদ্দিন(৪২) ও জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আজিজুল হক প্রকাশ রাখাল(৩০)। আহতরা হলেন, মো. শওকত (২৪), মো. তোফাইল (২৮), রেজাউল করিম (৩০), জুলফিকার আলী (৪০) ও মাহমুদুল করিম (৩৮)।

নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জিয়া উদ্দিন বলেন, গুলির ও মারধরের আঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পেকুয়া সদরের বিলহাচুরা এলাকায় চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া জামে মসজিদের নামে ৬৩ একর ৩৫ শতক জমি রয়েছে। এই জমির লাগিয়ত ও শাসিয়ত নিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মমতাজ উদ্দিন ও জালাল উদ্দিনের মধ্যে বিরোধ চলছে। শনিবার সকালে এ জমির মৎস্য ঘেরে পানি ঢুকানোর চেষ্টা করেন জালাল ও তাঁর লোকজন। এতে বাঁধা দেন মমতাজের লোকজন। একপর্যায়ে জালাল ও তার লোকজন বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মমতাজের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এতে নেজাম উদ্দিন ও আজিজুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, ঢেমুশিয়া জামে মসজিদের মতোয়াল্লী হালিমা বেগমের কাছ থেকে আমার ভাই মমতাজুল ইসলাম চার কানি জমি কেনেন। এই জমি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দখলে রয়েছে। হঠাৎ করে জালাল ও তাঁর লোকজন মৎস্যঘেরে লবণ পানি ঢুকালে আমরা বাধা দিই। এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বহিরাগত সন্ত্রাসীসহ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একটি জীপ গাড়ি ও তিনটি মোটরসাইকেল সহ চকরিয়া থেকে আসা বহিরাগত চার সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে নিহত দুজনকেই তাঁর লোক বলে দাবি করেন ইউপি সদস্য আরিফুল।

পেকুয়ার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় জালালের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে সাতটি লম্বা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১১জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, অস্ত্র উদ্ধার ও হামলায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।