খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদলক্ষ্মীছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

বন্ধ হওয়া লক্ষ্মীছড়ি খাদ্য গুদামটি ২৩ বছরেও চালু হয় নি

মোবারক হোসেন: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় খাদ্য গুদামটি অকেঁজো অবস্থায় পরে রয়েছে বিগত ২৩বছর ধরে। ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। উপাজেলা প্রতিষ্ঠার ৪ বছরের মাথায় চাল রাখার অনুপযোগী হয়ে পড়ায়  খাদ্য গুদামটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই থেকে আজো পর্যন্ত নতুন খাদ্য গুদাম নির্মিত হয় নি।

খবর নিয়ে জানা যায়, সরকারের বরাদ্দকৃত খাদ্য শস্য মানিকছড়ি উপজেলা খাদ্য গুদাম হতে উত্তোলণ করতে হয়। এতে করে খাদ্য শস্য কালো বাজারেই বিক্রি হয়ে যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে। ফলে এলাকায় বরাবরই খাদ্য ঘাটতিসহ চালের মূল্য স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেশি বলেই ক্রেতাদের অভিযোগ। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, খাদ্য শস্য রাখার অনুপযোগী হওয়ায় ১৯৮৬-৮৭সালের দিকে ২৫০মে: টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন লক্ষ্মীছড়ি খাদ্য গুদামটি তালা ঝুঁলিয়ে দেয়া হয়। সেই থেকে আজো পর্যন্ত খাদ্য গুদামটি চালু কিংবা নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বিগত ২৩বছরেও। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় খাদ্য গুদাম না থাকায় সরকারের দেয়া ভিজিডি/ ভিজিএফ/ টিআর/ কাবিখা সেনাবাহিনীর শান্তরণসহ সকল খাদ্য শস্য উত্তোলন করতে হয় মানিকছড়ি খাদ্য গুদাম হতে। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা থেকে মানিকছড়ি উপজেলার দুরুত্ব ১৫কি: মি:। অতিরিক্ত যানবাহন খরচের কারণে লক্ষ্মীছড়িতে খাদ্য শস্য আনা হয় না। ফলে বরাদ্দের অধিকাংশ খাদ্য শস্য কালো বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। জরুরী মূহুর্তে খাদ্য শস্য আনা হলেও অতিরিক্ত যানবাহন খরচ গুনতে হয় সুবিধাভোগীদের। এছাড়াও খাদ্য ব্যবসাকে কেন্দ্র  করে চাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠেছে। এই সিন্ডিকেটের প্রভাবে জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প চেয়ারম্যান কিংবা সুবিধাভোগীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কিংবা চাউলের মূল্য স্থিতিশীল রাখার সরকারের যে উদ্দেশ্য তা লক্ষ্মীছড়িতে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পষিদের ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু এ বিষয়ে বলেন, বর্তমান পরিষদের প্রথম সভা থেকেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে খাদ্য গুদাম সংকটের বিষয়ে পরিষদের সিদ্ধান্তমতে একাধীকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কার্যত এখনো কোনো বাস্তবায়নের মুখ দেখে নি।  লক্ষ্মীছড়ি নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ ইকবাল জানান, নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের কাজ অনেকটা এগিয়েছে। হাতিয়াছড়া নামক এলাকায় জায়গাও নির্ধারণ হয়েছে। হয়ত খুব শিগ্রই খাদ্য গুদাম নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যায়। খাদ্য ঘাটতি নিরসন কিংবা চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে এমনটাই আশা করছে এলাকাবাসী।