খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা ও অসৎ আচরণের বিরুদ্ধে আশংকা প্রকাশ করে ওয়াদুদ ভূইয়া’র সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিপক্ষের সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত ও অবৈধ পন্থায় ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা ও অসৎ আচরণের বিরুদ্ধে আশংকা প্রকাশ করে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। ১৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে কলাবাগানস্থ্য ওয়াদুদ ভূইয়ার বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অত্যাচার নির্যাতনের জবাব দিতে হবে। ভয়-ভীতি উপক্ষো করে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানান তিনি। সে ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষা ভূমিকা পালনেরও অনুরোধ করেন। ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সাংবাদিকের ভোট কেন্দ্র পাহাড়া দিয়ে জনগণের রায়কে সু-নিশ্চিত করার সকল ধরনের সহযোগিতা কামনা করেন ওয়াদুদ ভূইয়া। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.এন আবছারসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

এর পর জেলা নির্বাচন অফিসার এর বরাবরে দেয়া এক লিখিত অভিযোগের বরাত দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো: ইব্রাহীম খলিল বলেন, পৌর নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারী আমার প্রতিপক্ষ মোবাইল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণাসহ ধারাবাহিক ভাবে চলমান নির্বাচনী কর্মকান্ড বাঁধাগ্রস্থ করার উদ্দেশ্যে অপ্রত্যাশিত সন্ত্রাসী আচরণ করে যাচ্ছে। যা কখনই একটি নির্বাচনের জন্য শুভকর নয়, বরং সুষ্ট ভোটের অন্তরায়।

তিনি নিন্মলিখত অভিযোগ তুলে ধরেন:- ১.“মোবাইল” প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা“ ধানের শীষ” প্রতিকের প্রার্থীর গত ১২ জানুয়ারি-২০২১আনুমানিক সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় মুসলিম পাড়ায় আমার উঠান বৈঠক চলমান অবস্থায় মিটিংস্থলের পাশেই খাগড়াছড়ি জামে মসজিদের পেছন থেকে ককটেল ফাটিয়ে জনমনে ও আমার সমর্থকদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিয়ত“ মোবাইল, নৌকা” প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর সন্ত্রসীরা এজেন্টদের ও ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি প্রদর্শন করছে। ২. পাশা পাশি নির্বাচনের দিন ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেন না যেতে পারে সে জন্য মোবাইল প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল আলমের সন্ত্রাসী ও অপরাপর প্রার্থীর সমর্থকরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা সমূহে পথরোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাতে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে না পারে। আমি বিশ^স্থ্য সূত্রে তা জানতে পেরেছি। আমি বিশ^স্থ্য সূত্রে আরো জানতে পেরেছি বহিরাগত লোকজন দিয়ে তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে পারে কেন্দ্র গুলোতে এবং তার সত্যতা রয়েছে। ৩. উল্লেখ্য, “মোবাইল” ও অপরাপর প্রার্থীর প্রতিকের মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সাধারণ ভোটারদের নির্বাচনে ভোট প্রদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্যকে পাকা পোক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের পালিত সমর্থকদের দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করার পায়তারা করছে। ৪. আমি আরো জানতে পেরেছি ইভিএম মেশিনে পূর্ব থেকেই মেমোরী কার্ড ঢুকিয়ে রেখে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে পূর্ব থেকেই অগ্রগামী দেখানোর পরিকল্পনা করেছে। ৫. বুথের মধ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসী ঢুকে থেকে ভোটারদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের পছন্দের বা নিজেদের প্রার্থীকে বোতাম টিপে অবৈধ ও জোর পূর্বক ভোট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৬. ভোটারদের ভোট প্রদানের প্রাথমিক পর্ব অর্থাৎ আঙ্গুলের ছাপ দেওয়ার পর বুথে গিয়ে পছন্দের প্রার্থী বা প্রতীকে বোতামে চাপ দেওয়ার আগেই ভোট হয়ে গেছে বলে ভোটারদের চলে যাওয়ার কথা বলবে বলেও জানা গেছে। আমি উল্লেখিত উপায়ে ভোট জালিয়াতির আশংকা করছি।

তাই অবাধ সুষ্ঠ ও আনন্দঘন পরিবেশে উক্ত নির্বাচনে ভোটারদের ভোট প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আইন লঙ্গনকারীদেরকে আইনের আওতায় আনা আবশ্যক বলে মনে করছি এবং নির্বাচনের দিন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা এবং তাদের পক্ষীয় সন্ত্রাসীরা যেন কোন ধরনের অপ্রত্যাশিত/অনাকাঙ্খিত ও উল্লেখিত অবৈধ উপায়ে ঘটনা ঘটিয়ে ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে না পারে সে দিকে সর্বোচ্চ শতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাচ্ছি। অতএব, উল্লেখিত বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বিনীত মর্জি হয়।