খাগড়াছড়িপাহাড়ের সংবাদমাটিরাঙ্গাশিরোনামস্লাইড নিউজ

মাটিরাঙ্গায় মোটরসাইকেল চালক শান্তকে হত্যার দায় স্বীকার করলো আটক আসামীরা

খাগড়ছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেল চালক মোঃ আজিজুল হাকিম শান্তকে অপহরণের পর তিনজন মিলে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তী দিয়েছে। নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে খগেন্দ্র ত্রিপুরাকে লাশটি পাহারার দায়িত্ব দিয়ে অন্য দুইজন পালিয়ে যায়।
এসময় এক বোতল মদ দিয়ে খগেন্দ্র ত্রিপুরাকে সুবিধামতো সময়ে নিহতের লাশটি পুড়িয়ে ফেলার কথা বলা হয়। মদের নেশায় মাতাল খগেন্দ্র লাশটি যাতে করে ভালো করে পুড়তে পারে সেই লক্ষ্যে লাশের পাশে বসে সেটি পাহারা দিয়ে পচন ধরার অপেক্ষায় থাকে। সে অনুযায়ী পুড়ানোর প্রস্ততিও নিতে থাকে খগেন্দ্র। কিন্তু বিধি বাম তার আগেই নিহত শান্তর লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় খগেন্দ্র ত্রিপুরাকে। পরে তারই ভাষ্যমতে আটক করা হয় অপর সন্দেহভাজন ধন বিকাশ ত্রিপুরাকে। রিমান্ডে আটককৃত দু’জনই হত্যাকান্ডের কথা এভাবেই স্বীকার করেন।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী জানান, আটককৃতদের বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) আদালতে তোলা হলে খাগড়াছড়ি জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আটককৃত খগেন্দ্র ত্রিপুরাকে দুই দিন ও ধন বিকাশ ত্রিপুরাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নেয়ার পর তারা দু’জনই হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে।
মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন টিটু জানান, প্রাথমিকভাবে শান্ত হত্যায় তিনজন জড়িত ছিলো বলে জানা গেছে। যেখানে মরদেহ ফেলে রাখা হয় সেদিকে কেউ যেন যেতে পারে না পারে সে জন্য খগেন্দ্র ত্রিপুরাকে নজর রাখতে বলা হয়। এছাড়া, সুবিধাজনক সময়ে মরদেহ পুঁড়িয়ে ফেলার নির্দেশনাও দেয়া হয় তাকে। তিনি আরও জানান, খগেন্দ্র মরদেহ পুঁড়িয়ে না দিয়ে ওই স্থানে পাহারা দিতে থাকে। পরে মরদেহে পচন ধরে গন্ধ বের হওয়ায় রবিবার রাতে মরদেহ পুঁড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
গত বৃহস্প্রতিবার দুপুরে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক আজিজুল হাকিম শান্ত ভাড়া নিয়ে যাওয়ার পর আর বাড়িতে ফিরেনি। সে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নতুনপাড়া এলাকার মো. ছালেহ আহাম্মদ এর ছেলে।

Comment here