উপজেলা নির্বাচনখাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদমানিকছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

মানিকছড়িতে নির্বাচনী প্রচারনায় জেলা পরিষদ সদস্য জব্বার

আলমগীর হোসেন: পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মানিকছড়িতে নির্বাচনী মাঠে শেষ প্রচারনা কলসের পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্য এমএজব্বার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ডলি চৌধুরনী কে জয় করার লক্ষ্যে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। মানিকছড়ি গুচ্চগ্রাম,ডাইনছড়ি ছদুরখীল, বড়বিল, কালাপানি, যোগ্যালোসহ এই প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য এমএম জব্বার। তাকে জয় করতে মরিয়া আওয়ামীলীগের উপজেলা নেতাকর্মীরা।

চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর শুধু মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নির্বাচনি  প্রচারনা   এখানে আওয়ামী লীগে  ৩জন প্রার্থী হওয়া এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ে এসে একজনকে অঘোষিতভাবে দলীয় সমর্থন দেয়ায় একদিকে যেমন ভোটাররা দ্বিধাদ্বন্দ্বে অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে শেষ প্রচারনা লড়াই চলেছে। ফলে ভোটাররা দলীয় প্রার্থী ব্যাতিত অন্য প্রার্থীর বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

নির্বাচনী মাঠ এবং প্রার্থী সূত্রে জানা গেছে, ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোট গ্রহণ আগামী ১৮ মার্চ। ফলে দেশব্যাপী সর্বত্রই মাঠে এখন নির্বাচনী আমেজ। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় শুধু মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আর এ ক্ষেত্রে প্রার্থী ৪জন।

এর মধ্যে ৩জনই আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং ১জন বিএনপি সমর্থিত(সম্প্রতি বিএনপি তাকে দল থেকে বহিস্কার করেছে)। আর নির্বাচন ঘোষণার শুরুতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক থাকা বাধ্যতামূলক করায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন নৌকা প্রতিকে, বিনা প্রতিদন্তীতায় নির্বাচিত হয়েছে।ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি তাজুল ইসলাম বাবুল নিবাপ্রতিদন্তীতিায় নির্বাচিত হয়েছে।

দলীয় সমর্থন পেয়েছেন উপজাতী নেত্রী ও সাবেক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ডলি চৌধুরী ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান(মহিলা)রাহেলা আক্তার এবং নুর জাহান আক্তর লাকী, সাবেক ইউপি সংরক্ষিত সদস্য শিউলি বেগম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন।

অন্যদিকে দলীয় সমর্থন(অঘোষিত) পাওয়া ডলি চৌধুরীকে জেলা ও উপজেলার সকল আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ সমর্থন দিয়ে তাঁর পক্ষে কাজ করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেয়ায় এবং দলের আরো ২জন প্রার্থী(স্বতন্ত্র) থাকায় ভোটাররা এক ধরণের বিপাকে রয়েছে।

দলের ৩জন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকা স্বত্ত্বেও কেনই বা দল অঘোষিতভাবে একজনকে সমর্থন দিচ্ছে এ নিয়ে চলছে নানা ধরণের হিসেব-নিকেশ! তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের একাধিক সূত্রের দাবি আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং একজন প্রার্থী যেহেতু উপজাতি তাই দলের উচিত তাঁর জন্য তৃণমূলে কাজ করা। এছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য কারো নেই। এদিকে গত তিনচারদিন  ধরে দলের ডলি চৌধুরানীর জন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারনা করছেন।

অন্য প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে কোন নেতা-কর্মী সাথে পাচ্ছেনা বলে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মাঠে নির্বাচনী পরিবেশ জমজমাট করার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছে সরকার এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত করেছে। সেক্ষেত্রে কেনইবা দল এখানে একজনের পক্ষে সকল নেতা-কর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়তে নির্দেশ দিচ্ছে! বিষয়টি আমাদের কাছে বোধগম্য নয়! এ নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি ৪ প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান রাহেলা আক্তার(ফুটবল),দলীয় মৌন সমর্থন পাওয়া ডলি চৌধুরী(কলস), প্রতীক ও নূরজাহান আক্তার লাকি(হাঁস) এবং সাবেক বিএনপি নেত্রী শিউলি বেগম(প্রজাপতি)। তারা প্রতিদিন গণসংযোগ ও প্রচারণায় নিজস্ব আঙ্গিকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়া, দুর্নীতি, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, প্রতিবন্ধী ও সমাজে অবহেলিত নাগরিকদের মূলস্রোত ধারায় এনে সমাজ উন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করছে। অন্যদিকে প্রশাসন নির্বাচন র্নিবিঘ্নে করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।