ধর্ম ও জীবনশিরোনামস্লাইড নিউজ

মাহে রমজানের সওগাত-১৩

                                        মুহম্মদ আলতাফ হোসেন
পবিত্র মাহে রমজানের আজ ত্রয়োদশ দিবস। মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক অর্থাৎ মাগফিরাত বা ক্ষমা লাভের দশক অতিক্রম করছি আমরা। মহান আল্লাহর ক্ষমা লাভের প্রধানতম উপায় হচ্ছে পবিত্র কুরআনুল করীমের দিক নির্দেশনা অনুসরণ করা। আর মাহে রমজান হচ্ছে আল-কুরআন নাজিলের মাস। মহান আল্লাহ বলেন, রমজান মাস যাতে ও যার সম্বন্ধে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। যে কুরআন মানুষ জাতির পথ প্রদর্শক এবং সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্যকারী। অতএব যারা এই মাস প্রত্যক্ষ করবে তাদের রোজা পালন করতে হবে (সুরা আল-বাকারা ঃ আয়াত ১৮৫)। পবিত্র কুরআন হচ্ছে মহান আল্লাহর নজিলকৃত সর্বশেষ কিতাব ও বিধান, আল্লাহর কালাম এবং তার আদেশ ও নিষেধ। এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে আইন ও জীবন ব্যবস্থা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআন নাজিল হওয়ার কারণেই পবিত্র মাহে রমজান সম্মানিত ও মূল্যবান। বোখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীসে রয়েছে, জিবরীল আলাইহিস সালাম রমজান মাসের প্রতি রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। হজরত ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে অপর এক বর্ণনায় এসেছে, হজরত জিবরীল আলাইহিস সালাম প্রতি বছর রমজানে একবার রসুল্লাল্লাহর কাছে কুরআন নাজিল করতেন অর্থাৎ পড়ে শুনাতেন। কিন্তু তার ইন্তেকালের বছর দুইবার রসুল্লাল্লাহর কাছে কুরআন পেশ করেন। পবিত্র মাহে রমজানেই অতীতের উম্মতগুলোর কাছে আল্লাহর হেদায়াতের বাণী এসেছিল। এদিক থেকে মাহে রমজান হচ্ছে মহা কল্যাণ, পুরস্কার ও হেদায়েতে ভরা মওসুম। তাই মাহে রমজানে পবিত্র কুরআন পড়া ও শিক্ষা করা অতি উত্তম। মহানবী (সা:) বলেছেন, তোমরা কুরআন পড়, হাশরের দিন কুরআন নিজ সাথীদের জন্য সুপারিশ করবে। আমরা কুরআন পড়া অর্থে বুঝি শুধু তেলওয়াত করা। অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার কোন প্রয়োজন অনুভব করিনা। পবিত্র কুরআন না বুঝে পড়লেও সওয়াব হবে, সে কথা ঠিক। কিন্তু কুরআনের প্রতি এটা এক ধরনের জুলুম। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, আমরা আপনার নিকট যে কিতাব নাজিল করেছি তা বরকতপূর্ণ। লোকেরা যেন এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে এবং জ্ঞানী লোকেরা যেন অবশ্যই তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। প্রশ্ন হচ্ছে, কুরআনের অর্থ না বুঝলে তার ব্যাখ্যা বুঝবে কিভাবে এবং কিভাবে চিন্তা ভাবনা করবে বা গবেষণা করবে। যারা কুরআন নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে না সুরা মুহাম্মদের ২৪ আয়াতে আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেন, তারা কি কুরআন নিয়ে ভাবনা চিন্তা করেনা, নাকি তাদের অন্তরে তালা লেগে গেছে ? অপর দিকে রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়। কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়ার অর্থ না বুঝে কেবল তেলাওয়াত শিখা ও শিখানো নয়। আর কুরআনের অর্থ, ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য নিয়ে চিন্তা না করা বদ্ধ অন্তর বা তালাবদ্ধ অন্তরের পরিচায়ক। আল্লাহ আমাদের অন্তরকে খুলে দিন ও তালামুক্ত করুন। আমীন!