ধর্ম ও জীবনশিরোনামস্লাইড নিউজ

মাহে রমজানের সওগাত-১৯

                                      মুহম্মদ আলতাফ হোসেন
মাহে রমজানের আজ ১৯তম দিবস আল্লাহর রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস এই রমজান। এই মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহর বিরাট নিয়ামত। এই মাস কল্যাণ ও সৌভাগ্যেপূর্ণ। নেক কাজের মওসুম হচ্ছে মাহে রমজান। এই মওসুমে নেক কাজ করার সুযোগ অনেক বেশী। তাই একজন মুমীন নিজে ঈমান ও আমলকে উন্নত করার জন্য ১১মাস অপেক্ষা করে। যারা বেশী বেশী নেক কাজ করে এই মাসকে কাজে লাগতে পারে, তারাই সৌভাগ্যবান। পক্ষান্তরে যারা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারে না, তারা অবশ্য হতভাগ্য। মাহে রমজানের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে: রমজান তাকওয়া অর্জনের মাস। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বলা হয়েছে, সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধের চাইতেও উৎকৃষ্ট ও প্রিয়। রোজাদার ইফতার না করা পর্যন্ত তার জন্য ফেরেশতারা গুনাহ মাফের দোয়া করতে থাকে। রোজাদারের সম্মানে বেহেশ্তে রাইয়ান নামের একটি বিশেষ দরজা খোলা হবে। সেই দরজা দিয়ে তারা বেহেশতে প্রবেশ করবে। মহান আল্লাহ ঈদ পর্যন্ত প্রতিদিন বেহেশত বা জান্নাতকে রোজাদারদের জন্য সাজাতে থাকেন। এই মাসে শয়তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রমজান মাসের প্রতি রাতে রোজাদার মুমিনদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয় এবং শেষ দিন সারা মাসের সমান সংখ্যককে মুক্তি দেয়া হয়। এমাসেই রয়েছে শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। এই রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই মাসের প্রথম দশ দিন রহমতের, মাঝের দশ দিন ক্ষমা ও শেষ দশ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবস। মাহে রমজানে যে কোনো নেক কাজের বিনিময় বহু গুণ বেশী। মহান আল্লাহ নিজেই সেই সীমা-সংখ্যাহীন পুরস্কার প্রদান করবেন। মাহে রমজান পবিত্র কুরআনের মাস। এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে। কাজেই এই মাসে বেশী বেশী কুরআন পাঠ অপরিহার্য। মাহে রমজানকে পবিত্র কুরআনে বিজয়ের মাস বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ এই মাসে অনেক বড় বড় জিহাদে মুসলমানরা বিজয়ী হয়েছেন। মাহে রমজানের শেষ দশ দিন লাইলাতুল কদর তালাশে ই’তেকাফ করার সময়। আল্লাহর রসুল (সা:) প্রতি রমজানে ই’তেকাফ করতেন। ইফতার করা হচ্ছে মাহে রমজানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রতিদিন ইফতারের সময় একটি দোয়া কবুল হবে বলে আল্লাহর রাসুল (সা:) ঘোষণা করেছেন। মাহে রমজানের নফল ইবাদত অন্য সময়ের ফরজ ইবাদতের সমান। আর এ মাসের ফরজ ইবাদতের সওয়াব সত্তুর গুণ বেশী। এই মাসে ওমরাহ পালন করলে পবিত্র হজ্জ পালনের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। মাহে রমজান হচ্ছে সবর ও ধৈর্যের মাস। এই মাসে কোন রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু রোজাদারের সওয়াবের কোন কমতি হবে না। রোজাদার রমজান মাসের শেষ দিন ক্ষমা লাভ করে ধন্য হবেন। মাহে রমজান শেষে শাওয়াল মাসে ৬টি রোজা রাখলে পুরো বছর আল্ল¬াহর কাছে রোজাদার হিসেবে গণ্য হবেন এবং রোজার সওয়াব পাবেন। মাহে রমজানের সেহরী খাওয়ায় অপরিসীম বরকত রয়েছে। মাহে রমজানের রাত্রি জাগরণ,তারাবী, তাহাজ্জুদ আদায়ে অতীতের সকল গুনাহ মাফ হয়। মাহে রমজানের সাদাকতুল ফিতর রোজার সকল ত্র“টি-বিচ্যুতি দূর করে। মাহে রমজানের রোজা বহু শারীরিক ব্যাধি দূর কওে ও নিয়ন্ত্রণে থাকে। সিয়াম পালনের মাধ্যমে জিহবা, চোখ, কানকে সংযত রাখা হয়। ফলে মুসলিম সমাজ থেকে নিন্দা-গীবত, অপবাদ ও চোগলখোরীর মত সামাজিক ব্যাধি হ্রাস পায়। মাহে রমজান তওবার মাস বিধায় তওবা করে গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রোজার উপবাসের মাধ্যমে ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর অভাবী মানুষের দু:খ বুঝা সহজ। এভাবেই রোজা মুসলমানদের মধ্যে সহানুভূতি. মমত্ববোধ ও ভ্রাতৃত্বের সৃষ্টি করে। এ সবের বহি:প্রকাশ ঘটে সিয়াম সাধনা শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতরে।