খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদরামগড়শিরোনামস্লাইড নিউজ

ফেনী নদীর চরে আটকে আছে মানবতা, পতাকা বৈঠকেও সুরাহা হয়নি

রামগড়  প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির রামগড়ে ভারত সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর বালুর চরে আটকে আাছে মানবতা। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে ওই নদীল চরে আটকে আটকে আছেন মানসিক প্রতিবন্ধি এক নারী। ওই নারীকে  ভারত থেকে পুশইন করা হয়েছে বলে দাবি বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে ফেরত পাঠাতে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ দফায় দফায় পতাকা বৈঠক করেও এখনও পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বিজিবি-বিএসএফ এর মধ্যকার পতাকা বৈঠক কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে সংশ্লিষ্ঠ বাহিনী জানিয়েছেন, নারীটি বারবার ভারতের দিকে যেতে চাইলে বিএসএফ ও স্থানীয় লোকজন তাকে বাঁধা দেয়। এদিকে বিএসএফের এমন অমানবিক কর্মকান্ডে বাংলাদেশ সীমান্তের লোকজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে করোনা ভাইরাসের আতংক।

এদিকে শুক্রবার সকাল ১০টায় আনন্দপাড়া আবাসিক এলাকা নোমেন্স ল্যান্ডে দুবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে প্রথম পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকাল সাড়ে ৫ টায় মহামুনি সংলগ্ন বালাদেশ ভারত মৈত্রী সেতুর-১ নোমেন্স ল্যান্ডে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্টিঠিত হয়। দুটি বৈঠকই ফলপ্রসু কোন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।
এই বিষয়ে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে রামগড় ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্নেল তারিকুল হাকিম জানান, গত বৃহঃবার থেকে ওই নারীকে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর নোমেন্স ল্যান্ডে দেখাযায়। ওই নারী যখন বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করতে চায় তখন বিজিবি সদস্যরা তাকে বাঁধা দেয়। অন্যদিকে বিএসএফ পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে নারীটি বাংলাদেশী। কিন্তু বাংলাদেশের কোন জায়গা থেকে এখনো পর্যন্ত কেউ তাকে দাবী না করায় বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এইদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভারসাম্যহীন নারীটিকে অমানবিক ভাবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের দিকে ঠেলে নদীর মাঝখানে ফেলে রেখেছে। প্রথমদিন অধ্যাহারে অনাহারে কাটালেও গত দুইদিন যাবত বাংলাদেশী লোকজন ঐ নারীর কাছে খাদ্য ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন। এদিকে- রামগড় ৪৩ বিজিবি’র পক্ষে অসহায় নারীর ছবি সম্বলিত সন্ধান প্রদানের লক্ষে পোষ্টার লাগিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এলাকা বাসীর দাবি বর্তমানে সীমান্তে থাকা ঐ নারীকে তার প্রকৃত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির সহায়তা কামনা করেছেন।