চট্টগ্রাম সংবাদফটিকছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

সরকারি ভূমি দখলের মামলায় হালদা ভ্যালির ম্যানেজার সেই জাহাঙ্গীর কারাগারে

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: সরকারি ভূমি দখলের মামলায় ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা ভ্যালি চা বাগানের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। একই মামলায় চা-বাগানটির সহকারী ম্যানেজার রাজীব আহমেদ রানাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বন আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিহান সানজিদার আদালতে একটি বন মামলায় (১০৯/১৯) হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বছর নারায়ণহাট রেঞ্জ অফিসার সুজিত চৌধুরী বাদি হয়ে বন মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়াও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সৃজিত সরকারি সামাজিক বনায়নের পাহাড়ের একটি অংশ স্কেভেটর দিয়ে কেটে পিলার স্থাপন অতঃপর বালুখালি বিটের বনকর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা, মোটরসাইকেল ছিনতাই, ভূমিদস্যুতা এবং হালদা ভ্যালির পক্ষে হয়ে শত শত একর বনভূমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে ২১টি মামলা হয় জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ফটিকছড়ির নারায়ণহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ভুমিদস্যু জাহাঙ্গীর আলম বন বিভাগের জন্য এক আতঙ্কের নাম। তার নেতৃত্বে বালুখালি বিটের শত শত একর জায়গা দখল করে রেখেছে হালদা ভ্যালি চা বাগান। তাদেরকে বাধা দিতে গেলে তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। বিশাল আয়তনের বনভূমি একের পর এক দখল করে নিলেও প্রশাসনের কেউ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছিল না। বন আইনে একে একে ২২টি মামলা হলেও জাহাঙ্গীর আলম এই প্রথম কারাগারে গেলেন। তার কারান্তরীণ হওয়ার ঘটনায় স্বস্তি নেমে এসেছে এলাকায়।
উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সৃজিত সরকারি সামাজিক বনায়নের পাহাড়ের একটি অংশ স্কেভেটর দিয়ে কেটে পিলার স্থাপন করে অতঃপর বালুখালি বিটের বনকর্মীদের উপর সংঘটিত হয়ে হামলা, মোটরসাইকেল ছিনতাই, ভূমিদস্যুর অভিযোগ সহ প্রায় ১২টির অধিক মামলা রয়েছে চা বাগান ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। মামলাগুলো দায়ের করেন চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ। এলাকার উৎবাস্তু লোকজন ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে মানববন্ধন করে বিচার দাবী করেন।
গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বিবিন্ন পত্রিকা হালদা ভ্যালির সফলতা, চাকচিক্যের আড়ালে অন্ধকার লুকিয়ে থাকার বিষয়টি ‍উঠে আসে। তখন চট্টগ্রাম জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় ‘হালদা ভ্যালি’র প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি দখল, বনজসম্পদ ধ্বংস ও বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বিপুল পরিমাণ বনভূমি জবরদখলের অভিযোগ উঠার পরও ‘হালদা ভ্যালি’র সীমানা নির্ধারণ করতে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠে।