খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদজাতীয় সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

সারা দেশে ডেঙ্গু রোগী ৯হাজার, খাগড়াছড়িতে ৬০জন

ডেস্ক রিপোর্ট: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তি আছেন মোট ৯ হাজার ৪২০ জন এবং এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। এর মধ্যে ঢাকা শহরে ভর্তি পাঁচ হাজার ২৫৮ জন এবং ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগসহ আট বিভাগে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা চার হাজার ১৬২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় (৯ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ১০ আগস্ট সকাল ৮টা) নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৩৩৪ জন। ১১ আগস্ট রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এই তথ্য জানানো হয়। এদিকে, শনিবার (১০ আগস্ট) পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম ২৯ রোগীর মৃত্যুর কথা জানালেও শনিবার নতুন করে আরও ১১ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা হলো ৪০। কন্ট্রোল রুম জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ১৭৮ জন আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ হাজার ৩৮৪ জন।

রাজধানী ঢাকার ১০টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৬৯১ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৪২ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৬৬ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৩৭ জন, বিএসএমএমইউতে ১৬১ জন, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ৮৬ জন, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫৫২ জন, বিজিবি হাসপাতালে ২২ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৭০ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩২৩ জন।অপরদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮৭ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২০৫ জন, বারডেম হাসপাতালে ৪১ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৬৩ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ১০১ জন, কমফোর্ট হাসপাতালে ৬১ জন, শমরিতা হাসপাতালে ২২ জন, মিরপুরের ডেলটা হাসপাতালে ৬০ জন, ল্যাবএইড হাসপাতালে ৩৭ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১০৬ জনসহ মোট ১ হাজার ৮২১ জন ভর্তি আছেন ৩০টি হাসপাতালে। এসব হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ হাজার ১২৭ জন। কন্ট্রোল রুমের তালিকা থেকে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট থেকে রবিবার পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

৮ আগস্ট ঢাকার ভেতরে রোগী ছিল এক হাজার ১৫৯ এবং ঢাকার বাইরে ছিল এক হাজার ১৬৭ জন, ৯ আগস্ট ঢাকার ভেতরে রোগী ছিল ৯৫৭ আর ঢাকার বাইরে ছিল এক হাজার ৫৫ জন, ১০ আগস্ট ঢাকার ভেতরে রোগী ছিল এক হাজার ৬৫ জন আর ঢাকার বাইরে ছিল এক হাজার ১১১ জন আর সর্বশেষ রবিবার (১১ আগস্ট) ঢাকার ভেতরে রোগী ছিল ৯৮১ জন এবং ঢাকার বাইরে ছিল এক হাজার ৩৫৩ জন।

খাগড়াছড়ি: ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে খাগড়াছড়িতে এক রোগীর মৃত্যু, ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬০ জন। খাগডাছড়িতে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জনি ত্রিপুরা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ আগষ্ট) খাগড়ছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত জনি ত্রিপুরার খাগডাছড়ির রামগড় উপজেলার বাসিন্দা। এদিকে, খাগডাছড়ি সদর হাসপাতাল, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন আছে। এ নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬০ জনে ছাড়িয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক বাড়ছে। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নয়ন ময় ত্রিপুরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে গুরুত্বর অবস্থায় এক ম্যালেরিযা রোগী ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২ টা ২৫ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু থেকে রক্ষায় সচেতনতার বিকল্প নাই। তাই নিজ অফিস ও বাড়ির আঙ্গিনার আবর্জনা পরিস্কার রাখাসহ সকলের মাঝে সচেতনতা দৃষ্টি করতে হবে। সে সাথে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে। আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সকলকে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি। পরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে সচেতনতামুলক একটি র‌্যালি করা হয়। পরে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু ও হাসপাতে সকল রুগির খোঁজ খবর নেন। এবং হাসপাতালের চারিদিকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা আছে কিনা নিজে গুরে দেখেন।

মানিকছড়ি: রাজধানী ঢাকা ছেড়ে ডেঙ্গু এখন তৃণমূলে। গত এক সপ্তাহে ৩জন আক্রান্ত হওয়ার খবরে জনপদে ডেঙ্গু আতংক ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা সরকারী হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তের কীট না থাকায় স্থানীয় ক্লিনিকে রক্ত পরীক্ষায় রোগীর চাপ বাড়ছে। ফলে উপজেলা প্রশাসন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নজরদারী বাড়িয়েছে। ১১ আগস্ট বিকালে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর ভ্রাম্যমান আদালত ‘জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে’ লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলায় পর পর ৩জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয় স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এ খবর দ্রুত জনপদে ছড়িয়ে পড়ায় সর্বত্র ডেঙ্গু আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসকরা যে কোন জ্বরের রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেই তাকে ডেঙ্গু, আইসিটি,সিবিসি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। উপজেলা হাসপাতালে এসব পরীক্ষায় সুযোগ না পেয়ে রোগীরা স্থানীয় ক্লিনিকে ভীড় জমায়। বেসরকারি ক্লিনিকে উক্ত তিনটি পরীক্ষায় কমপক্ষে ১৫শত থেকে ১৮শত টাকা ব্যয় নির্ধারণ হওয়ায় সাধারণ রোগীরা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে গেলে ১১ আগস্ট বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) রুবাইয়া আফরোজ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় ক্লিনিকে আসেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রতন খীসা উপস্থিত ছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া আফরোজ ক্লিনিক‘ জনসেবা ডায়াগনস্টি সেন্টারের রেজিস্টার, লাইসেন্স, এক্স-রে রুম ঘুরে দেখেন। এতে কিছু ত্রুটি পরীলক্ষিত হওয়ায় এবং লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় দ্রুত সময়ে তা নবায়ন করার শর্তে দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এছাড়া ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে রক্ত পরীক্ষায় পৃথক পৃথক ভাবে মূল্য নির্ধারণ করতে আদেশ প্রদান করেন।