জাতীয় সংবাদপ্রবন্ধ ও কবিতাশিরোনামসম্পাদকীয়স্লাইড নিউজ

মহান বিজয় দিবস

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়। এবার ১৬ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে  স্বাধীনতার ৪৫তম বছর। ১৯৭১ সালে ডিসেম্বর মাসটি ছিল ঘর ছেড়ে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়া সেই বীরযোদ্ধাদের সদর্পে গৃহে প্রত্যাবর্তনের মাস। মুক্তিপাগল বাঙালি এ মাসেই পান তাদের চির প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত বিজয়।

১৯৭১ সালের এই ডিসেম্বর বাঙ্গালি জাতির জীবনে নিয়ে এসেছিল মহান এক অর্জনের আনন্দ। সেই আনন্দ স্বাধীনতার, সেই আনন্দ বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম স্থান করে নেয়া। ডিসেম্বর আমাদের বাঙালি জাতির জন্য সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অর্জনের মাস। হাজার বছরে বাঙালির জীবনে এই ডিসেম্বর যেমন বীরত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তসাগর পেরিয়ে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালীর প্রতিরোধ যুদ্ধ এ মাসেই বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। আর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানিদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সূচিত হয় বিজয়।

এ মাসের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে কোণঠাসা করতে শুরু করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। নিশ্চিত পরাজয় টের পেয়ে এ জাতি যেন কখনোই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতো না পারে সেজন্য ১৪ ডিসেম্বর হানাদারদের এদেশীয় দোসররা নির্বিচারে হত্যা করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের। এই মাস আমাদের শোক আর বেদনারও স্মৃতি বহন করে। তাই ডিসেম্বর শুধু বিজয়ের আনন্দে ভেসে যাওয়ার দিন নয়, এই মাস অনেক বেদনা আর শোকের স্মৃতিরও।  দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এ মাসেই বিজয় অর্জিত হয় বাঙালির। ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের মাঠে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও বর্নাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে বিজয়ের মাসের প্রতিটি বিশেষ দিবস। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে থাকবে নানা কর্মসূচি। প্রাণের গভীর থেকে সারা মাসজুড়েই ঘরে ঘরে বাজলো ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’

ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের দেশপ্রেমের চেতনায়  অনুপ্রাণীত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্লাটফর্ম। সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ।

Comment here