Friday , 17 August 2018
স্মৃতির পাতা,অতীত ও বর্তমান-সেই আমাদের লক্ষ্মীছড়ি কলেজ

স্মৃতির পাতা,অতীত ও বর্তমান-সেই আমাদের লক্ষ্মীছড়ি কলেজ

Pa 1নির্বাণ পাল:

খাগড়াছড়িকে বলা হয় বাংলাদেশের কাশ্মীর। সেই বঙ্গ কাশ্মীরর ঘুরতে এসে আমার তো মাথা ঘুরে যাওয়ার দশা। এমন ছবির মত সাজানো শহর আর দেখিনি। পাশেই কলকল রবে বয়ে চলছে ধুরুং নদী। এই ছোট নদীর উপর ছোট ছোট দুটি লোহার পুল(সাকো)পেরিয়ে গেলেই লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শহর পাহাড়ি বাঙালীর অপূর্ব সম্মিলন এখানে। বুধবারের সাপ্তাহিক হাট হাজার জনতার ভরপুর। পাহাড়ি শষ্য বিক্রয়ের ধুম পড়েছে গমগম করা লোক সমাগমের ছোট বাজারে।

বাজারের পাশেই মন্দির টিলা দর্শনে গেলাম। জনমানবহীন কালী মন্দির দেখে গা কাটা দিয়ে উঠে। আশে পাশে খুঁজতে গিয়ে পেলাম আরেকটি মন্দির। নাম শালবন বৌদ্ধ বিহার। শালবন বিহারে তরুন শ্রমন অস্পান (যে চট্রগ্রামে নাসিরাবদ স্কুল ৯ম শ্রেণীতে পড়ে) পুড়ো মন্দির ঘূরে দেখানো। শহরে ছোট বাজারে নেমে শ্রাবণী লাইব্রেরী পত্রিকা কিনতে গিয়ে পরিচিত হলাম সুবাসের সাথে। যে স্থানীয় লক্ষ্মীছড়ি পাইলট স্কুল থেকে পাশ করে ফেনীর রামগর সরকারী কলেজে বাণিজ্য বিভাগে পড়ে। তাকে সাথে নিয়েই পরির্দশনে গেলাম লক্ষ্মীছড়ি একমাত্র কলেজ। পাহাড়ের সুউচ্চ চুড়ায় সগৌরবে দারিয়ে থাকা একটি কলেজ। বাংলাদেশে এতো উচুঁতে বেশি কলেজ হয়তো নেই। কলেজের পাদদেশে দাড়িয়ে শিয়রে গেলাম। পাহাড়ের বূক চিড়ে সুর্দীঘ কালের বাধাঁন সিড়ি উঠে গেছে চুড়া পর্যন্ত। ১০৮টি সিড়ি ভেংঙে কলেজে উঠতেই আকাশ ভেংঙে বৃষ্টি গড়িয়ে পরল মাথায়। বৃষ্টিকে পাত্তা না দিয়ে ঢুকে পড়লাম প্রশাসনিক ভবনে। সেখানে খুঁজতেই পেয়ে গেলাম অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সফিউল্লাহ মীর সাহেবের সাথে। সাদা হাস্যজ্জল নবীন এই শিক্ষা প্রচারককে দেখে খুব উৎফুল্ল হলাম। কুমিল্লা মুরাদনগরের এই কৃতি পুরুষ চবি থেকে দর্শনে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষার ফুল ফোটাতে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন। বৃষ্টি ভেঙে সফি উল্লাহ স্যারকে নিয়ে ১ম বর্ষে কাসে ঢুকলাম। পরিচিত হলাম কিছু শিক্ষার্থীর সাথে। সুশীল চাকমা, তাসলিমা খানম, মায়াদেবী চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি কলেজের আশে পাশেই থাকে। তারা জানালো তাদের বন্ধুরা পাশ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য শহরে চলে যায় কিন্তু নব্য প্রতিষ্টিত এই কলেজেই র্ভতি হয়েছি। যাতে কলেজটা প্রতিষ্টা পায়। অধ্যক্ষ স্যার জানালেন ১ম ও ২য় বর্ষ মিলে পঞ্চাষেক ছাত্র-ছাত্রী তাঁর। শিক ৩ জন। তিনি জানালেন, সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসনসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে চলছে এই কলেজ তবে তিনি অপে করে বলেন কলেজে বড় অর্থ ফান্ড না থাকায় ভাল শিক্ষা আনা যাচ্ছেনা কিংবা আসলেও থাকছেন না। তিনি আশা করেন লক্ষ্মীছড়িবাসীর সার্বিক প্রচেষ্টায় এই কলেজ অত্র এলাকায় একদিন মাথা উঁচৃ করে দাঁড়াবে। আমরাও চাই এই কলেজ শিক্ষার আলোয় ভরিয়ে তুলুক লক্ষ্মীছড়িকে। লক্ষ্মীছড়ি প্রশাসন ও খাগড়াছড়ি জেলা কর্তৃপ একটু কৃপা দৃষ্টি দিলেই হয়ত কথনো বন্ধ হবে না এই শিক্ষাপীঠ।

(সূত্র: মাসিক পাহাড়ের আলো)

Share This:

Leave a Reply

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes