খাগড়াছড়িজাতীয় সংবাদপ্রবন্ধ ও কবিতাবিশেষ প্রতিবেদনস্লাইড নিউজ

পোশাক স্বাধীনতার পোশাক শালীনতার

DSC_0395॥ ওমর ফারুক শামীম ॥

স্বাধীনতা আর আধুনিকতার নামে নতুন প্রজন্মের মেয়েদের দৈনন্দিন পোশাকে অনুপ্রবেশ ঘটছে প্রথাবিরোধী অশালীন রীতির পোশাক। এই পোশাক উস্কে দিচ্ছে বিপরীত লিঙ্গের কু-প্রবৃত্তিকে। ঘটছে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানীসহ নানান অপ্রীতিকর ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রীতিকর ঘটনার সহায়ক হয়ে কাজ করছে প্রথাবিরোধী এসব পোশাক।

পোশাক স্বাধীনতার, পোশাক সামাজিকতার, পোশাক শালীনতার। সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ, ছাত্র-ছাত্রীসহ সমাজের বিশিষ্টজনরা বলছেন, আমাদের সমাজে অপ্রচলিত বা প্রথাবিরোধী স্বল্পবসনা পোশাক, বা শরীরে এঁটেসেটে থাকা পাতলা মসৃন কাপড়ের পোশাক এক শ্রেণীর মানুষের মাঝে বিকৃত অকাঙ্খার চাহিদাকে উস্কে দেয়। সুস্থ মনোবৃত্তিকে অশ্লীল ভাবনায় নিয়ে যেতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, আধুনিকতার নাম, বদলে যাওয়ার অপব্যবহার আর বিপরীত লিঙ্গের প্রতি নিজের আকর্ষণ বাড়াতেই মেয়েদের পোশাকে এখন প্রথাবিরোধী এই সিনেমা ঢং। একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ডিজাইন আর ফ্যাশনের নামে ঢুকে পড়েছে অশালীন রীতির এই রগরগে পোশাক। প্রজন্মের দৈনন্দিন পোশাকে বাঙ্গালী সমাজের প্রথাবিরোধী এই পোশাক এখন ছেয়ে গেছে রাজধানীসহ গ্রামের হাটবাজারেও। স্বল্পবসনের এসকল পোশাকে ডিজাইনের নামে উপস্থাপন হচ্ছে অশালীন ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ তৈরী হবার বিকৃত ধরণ।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, পোশাক ব্যক্তির স্বাধীনতা, মর্যাদা, রুচি ও নিজেকে প্রকাশের এক অন্যতম মাধ্যম। পৃথিবীর সকল দেশে নিজেদের সামাজিকতার বিষয়টি চিন্তা করেই পোশাকের রীতিনীতি প্রচলিত রয়েছে। সব দেশেই রুচিশীল আধুনিক শালীন পোশাক রয়েছে। অথচ আমরা বাঙ্গালীরা পরসংস্কৃতি চর্চা করতে গিয়ে অতি আধুনিকতার নামে নিজেদের স্বত্তা হারিয়ে ফেলছি। শো-বিজের পোশাক ঢুকে পড়ছে সামাজিক পোশাকে। যে পোশাক অশ্লীলতা বা কু-প্রবৃত্তিকে আরো উস্কে দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশেক মাহমুদ শিমুল এই পোশাক সম্পর্কে বলেন, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, সবকিছুতে পরিবর্তন আসছে, নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে, রুচির পরিবর্তন হচ্ছে। আবার অর্থনীতির সাথে পাল্লা দিয়ে আধুনিক সভ্যতা আর প্রযুক্তির সাথে নতুন করে পরিচয় ঘটছে। কোনটি স্থায়ী কোনটি অd-4স্থায়ী, কোনটি গ্রহণ করার বা কোনটি পরিহার করার সে বিষয়ে আমাদের প্রজন্মের মাঝে মানসিক বৈকল্য আছে। প্রযুক্তির সাথে পাল্লাদিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়ে প্রজন্মের একটি অংশ নিজের প্রতি অন্যের দৃষ্টি বাড়াতে ব্যাতিক্রম আর ভিন্নতার নামে প্রকাশ করছে নিজেকে। আবার অনেক নারী অল্প পোশাকে নিজেকে প্রকাশ করে একধরনের যৌন তৃপ্তি অনুভব করে। যা আমাদের সমাজে অশালীন পোশাক হিসেবেই বিবেচিত হয়। দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারনে এসব আমাদের সমাজে দৃষ্টিকটু এবং প্রথাবিরোধী ।এই শিক্ষক নিজেকে দিয়ে উদাহারন দিয়ে বলেন, স্বাভাবিক পোশাকে কাসে গেলে ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে নিয়েও মন্তব্য করেন-স্যার এখনো সেকেলেই রয়ে গেছেন।

সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রবীণরা বলছেন, স্কীন ড্রেসের নামে উঠতিবয়সী যুবতীরা যেন নগ্নতার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামের মেঠোপথে। এক শ্রেণীর পোশাক ব্যবসায়ী ছেলেদের মোটা কাপড়ে টাইট ফিটিংস এবং মেয়েদের পাতলা এবং একেবারে হালকা মসৃন কাপড়ের স্কীন ড্রেস বাজারজাত করছে। মেয়েদের এই পোশাক যেন বস্ত্রহীন শরীরে এক স্তর রংয়ের প্রলেপ। দেখলে মনে হয় এ যেন পশ্চিমা চিত্র শিল্পীদের নগ্নদেহে রংয়ের চিত্রকর্ম।

( প্রসংগত: বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে পশ্চিমা চিত্র শিল্পীরা শৈল্পিক চেতনায় নারীর নগ্নদেহে রংয়ের ব্যবহার করে পিছনে প্রকৃতির ক্যানভাসে ক্ষণিকের জন্য বিশাল চিত্রকর্ম তৈরী করে থাকে।)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, যতই দিন যাচ্ছে ততই নারীকে বিভিন্ন মিডিয়ায় পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যখন তাদের স্বল্পবসনা ভিন্ন পোশাকে টেলিভিশনে উপস্থিত করা হয় তখন একধরনের পুরুষদের মধ্যে অসুস্থ মানসিকতার সৃষ্টি হয়। ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও সিনেমায় আধুনিক পোশাকের নামে দর্শকের দৃষ্টি স্থীর রাখতে নারীকে স্বল্পবসনা অথবা পাতলা মসৃন কাপড়ের টাইট পোশাক পরিয়ে উপস্থাপন করা হয়। যে পোশাকে নারীর সম্ব্রম পরিপুর্ণভাবে আচ্ছাদিত হয়না। বর্তমানে নারীরা যে পোশাক পরে তাতে তারা নিজেদেরকে সৌন্দর্য্যে উপস্থাপিত হচ্ছে বলে মনে করে। নারীর এ ধরনের প্রকাশ দেখে একধরনের পুরুষ যৌন হতাশায় ভোগে। আর্থিক অসংগতি ও অন্যান্য অসংগতির কারনে পুরুষটির তখন সেই নারীর কাছে যাওয়া সম্ভব হয়না। ফলে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হওয়ায় এই ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের পোশাকে নারীকে উপস্থাপনের ফলে নারীর প্রতি বিকৃত লালসা, নির্যাতন, ধর্ষণ, অবহেলা অশ্রদ্ধাসহ প্রতিদিন অপ্রীতিকর ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের আরেক শিক্ষক বলেন, আমাদের দেশে নারীর অনেক উন্নতি হয়েছে, শিক্ষায় ক্ষমতায়নে, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারী অনেকদুর এগিয়েছে। তবে বাঙ্গালীর বাঙ্গালীয়ানা বা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি ভেবে দেখা জরুরী। কারণ আমাদের অর্থনীতি, প্রযুক্তি যেভাবে এগুচ্ছে সামাজিক ধ্যানধারণায় সে গতিতে পরিববর্তন হচ্ছেনা বা হবেনা, কারণ সমাজ ব্যবস্থাতেই আমাদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি লালন পালন হয়। আমরা মানুষরাই সমাজবদ্ধ জাতি। দীর্ঘ সময়ে কালের বিবর্তনে কিছু বিষয়ের পরিবর্তন ঘটে। সমাজ একেবারে বদলে যায়না। এটি মনে রাখা উচিত। এই শিক্ষক নারীনেত্রী এবং নারী উন্নয়ন কর্মীদের প্রতি এসকল বিষয়ে উদ্যোগী হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারী তার নিজেকেই সম্মানের জায়গায় উপস্থাপিত হতে নিজেদের তৈরী করতে আরো অধিক সচেতন হতে হবে। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের একছাত্রী নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পোশাক স্বাধীনতার বিষয়। আমাদের সমাজে এসকল পোশাকের প্রচলন কম বলেই এমন হচ্ছে। এই ছাত্রী পুরুষের স্বল্পবসনা পোশাকের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরাতো স্বল্প পোশাকের পুরুষের প্রতি উত্তেজক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবিনা। সঙ্গে থাকা অপর ছাত্রী যুক্তি খন্ডন করে বোঝালেন, না ভাবার কারণ হচ্ছে তুমি আমরা এভাবেই দেখে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। কিন্তু অপ্রচলিতও অশালীন পোশাকে নারীদের দেখে কেউই অভ্যস্ত নয়।

অপরদিকে, এই পোশাক সম্পর্কে খোজ নিয়ে জানাগেছে, এক শ্রেণীর চিত্র নির্মাতারাই এই পোশাকের উদ্ভাবক। রূপালী পদায় দর্শকের মনোজগতে উত্তেজক ভাবনা আর দৃষ্টি স্থীর রাখতেই ছবির ব্যবসা সফলতার জন্যে এই পোশাকের ব্যবহার শুরু করেন। ফ্যাশন ডিজাইনারদের মাধ্যমেই চলচ্চিত্র থেকে প্রযুক্তির জোয়ারে প্রতিযোগিতার বাজারে এই পোশাকের প্রবেশ। পাশাপাশি নিত্য নতুন নামের ব্যবহারতো আছেই। আধুনিকতার নামে উঠতি বয়সীদের মাঝে রাতারাতি বাজার পেয়ে যাওয়ায় এই পোশাক এখন শিশু ও মাঝবয়সী নারীদের জন্যেও বাজারজাত করা হচ্ছে। স্কীন ড্রেস নামে পরিচিত এই পোশাক প্রজন্মের একটি অংশের কাছে যেন সামাজিক পোশাকে পরিণত হয়েছে।

বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মো: মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে নারীদের পোশাক উগ্র। অনেক নারী যে পোশাকে বের হয় তাতে শালীনতা থাকেনা। নারীর পোশাকে শালীনতা না থাকলে বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষণ বাড়বে। এমনভাবে চলাফেরা করতে হবে যাতে অন্য পুরুষ নিজের সৌন্দর্য্যরে প্রতি আকৃষ্ট হতে না পারে। যারা বোরকা পরতে পারেনা তাদের উচিত অন্তত চাদর বা বড় ওড়না দিয়ে শরীর আচ্ছাদন করে চলা। বর্তমানে দেশে ধর্ষনের মতো ঘটনাগুলোর জন্যে অনেক কারনের মধ্যে পোশাকও একটি কারণ।

এদিকে, ঘরে বাইরে সামাজিক আচার অনুষ্ঠান, হাটবাজারেসহ দৈনন্দিন চলাফেরার সকল পরিবেশেই এই পোশাকের ব্যবহার বেড়ে গেছে। বাঙ্গালীর প্রথাবিরোধী এই পোশাক নিয়ে রক্ষনশীল মুসলিম পরিবার, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের পছন্দ অপছন্দ নিয়ে কলহ রয়েছে। বাদ-বিবাদে ঘটছে কঠিন মনোমালিন্যের ঘটনা। অনেক প্রবীণরা বলছেন, এসকল পোশাকধারীদের প্রতি বখাটেদের অশ্লিল ইঙ্গিত বা কটুক্তির ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে।

আরামবাগের ব্যবসায়ী এ.এম.আবুল হোসেন মামুন জানান তার দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ার কথা। তিনি বলেন, পোশাক প্রত্যেকটি মানুষের জন্যে অতি প্রয়োজনীয় এবং স্পর্শকাতর বিষয়। যদি অশালীন রীতির এই পোশাকের বিরুদ্ধে বলি তাহলে হয়তো এর ব্যবহারকারীরা বলবেন আমি মৌলবাদী / নজরখারাপ / শিক্ষার অভাব / আনস্মার্ট, সবশেষে বলতে পারে চরিত্রগতক সমস্যা আছে। আর যদি তাদের পক্ষে বলি তাহলে এক কথায় বলতে হবে আমি বিবেকহীন। পরিপাটি শালীন, মার্জিত রুচির পোশাক ঐসব মেয়েদের পছন্দ নয়। এর কারণ এসব মেয়েরা মনে করে স্বাভাবিক পোশাকে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তি তার প্রতি আকৃষ্ট হবেনা, এজন্যে তারা পাতলা কাপড় পরিধান করে নিজেকে উপস্থাপন করে। এই ব্যবসায়ী প্রশ্ন রেখে বলেন, যেসব মেয়েদের পোশাক সম্পর্কে এমন ধারণা তাদের ভাবা উচিত বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তি তাকে মূল্যায়ন করছে নাকী তার উগ্র আবেদনের দেহকে মুল্যায়ন করছে। কোন মেয়ে যদি মনে করে ঐধরনের পোশাকে তাকে স্মার্ট লাগছে বা তাকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবে তাহলে মনে করতে হবে তার মধ্যে ব্যক্তিত্ব নেই। নজরটা আসলে তাদেরই খারাপ যারা এই ধরনের পোশাক পড়ে । তারা আয়নার সামনে দাড়িয়ে মেকআপ গেটআপে ব্যস্ত থাকেন নিজেকে বিপরীত লিঙ্গের কাছে কতো আকর্ষণীয় করা যায়। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এসকল আবেদনময়ী মেয়েদের কারনে চরিত্রহীন পুরুষরা যেন ইভটিজিং, ধর্ষন, যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধে লিপ্ত হতে না পারে। এই ব্যবসায়ী বলেন, অন্যায় যে করলো তাকে খুজে বের করে শাস্তি দেয়া যেমন জরুরী তেমনি এই অন্যায়ের বা ঘটনার উৎস বা কারণ খোজাটাও জরুরী । নাহয় এসব অপরাধ ক্রমাগত বাড়তেই থাকবে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সমাজের বিশিষ্টজনরা বলেছেন, আমাদের সমাজে এই পোশাকের ব্যবহারকারীর চেয়ে মগ্নদৃষ্টির দর্শকের সংখ্যাই বেশী। এই পোশাকধারী টিনেজার কিংবা যুবতী প্রমীলারা- চলচ্চিত্রে, অনুষ্ঠান মঞ্চে, ষ্টুডিওতে, রাস্তা কিংবা গাড়ীতে যাতায়াতের সময় বিপরীত লিঙ্গের অধিকাংশদের দৃষ্টি দখলে রাখে। এর কারণ এই পোশাকধারীদের পোশাক অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং এই পোশাকে দেহসৌষ্ঠবের অভ্যন্তরীন অংগ পুরোপুরি আচ্ছাদন করেনা।

ইডেন কলেজের কয়েকজন ছাত্রী তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরাও মেয়ে, আমাদের সমাজে যে প্রচলিত পোশাক রয়েছে তার মধ্যেও অনেক আধুনিক রুচিশীল পোশাক রয়েছে। পোশাকে অবশ্যই শালীনতা থাকা প্রয়োজন। পোশাকে দেশীয় সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় মুল্যবোধের বিষয়টি বজায় থাকলে সমাজে নারীর প্রতি এমন ঘটনা হয়তো এভাবে ঘটতোনা। ঢাকা কলেজের ছাত্র জিল্লুর রহমান এই পোশাক সম্পর্কে বলেন, আজকাল স্কুল কলেজ রাস্তাঘাট সব জায়গাতেই মেয়েদের অশালীন উগ্র পোশাক পরতে দেখা যায়। যা অনেক পুরুষের মধ্যে খারাপ মানসিকতার সৃষ্টি করে। ফলে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটি থাকেনা, ভিন্ন মনসিকতার সৃষ্টি হয়। নটরডেম কলেজের বিজ্ঞানবিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আকাশ আহম্মেদ বলেন, বাঙ্গালীর এৗতিহ্যবাহী পোশাকের সংস্কৃতি ধরে রাখা উচিত। মেয়েদের কিছু অংশ যে পোশাক পড়ছে তা অশালীন বলা চলে এতে বিপরীত লিঙ্গের মানসিক বিকৃতি ঘটায়।

সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বলছেন- নারীর প্রতি অবমুল্যায়ন এবং শ্লীলতাহানীর মতো ঘটনাগুলোতে চলচ্চিত্রের যৌন উদ্দীপক ছবি এবং এই ধরনের পোশাকের উগ্র মাদকতার প্রভাব রয়েছে। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতে মেডিকেল ছাত্রী জ্যোতি সিং ( যা এতোদিন নির্ভয়া নামে প্রকাশ ছিলো) চলন্তবাসে গনধর্ষনের শিকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে অবশেষে মারাগেছেন। নির্ভয়ার মা ঘৃণ্য ঐ ঘটনার জন্যে দোষীদের বিচার চেয়েছেন এবং পাশাপাশি মেয়েদের পোশাক পরিচ্ছদে আরো সচেতন হবার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ গনধর্ষনের জন্যে নির্ভয়ার পরিহিত পোশাকও কিছুটা দায়ী ছিলো বলে নির্ভয়ার মা বিবিসিরএক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন। অপ্রত্যাশিত এসকল ঘটনার পেছনে আমাদের সমাজের প্রথাবিরোধী এসকল পোশাকও দায়ী বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, পোশাক আমাদের সকলের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য্য অংশ। যার মাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিত্ব, রুচিবোধ ও পরিচয় ফুটে উঠে অন্যের কাছে। পোশাকের মাধ্যমে আমরা একে অপরের কাছে মুল্যায়িত হবার চেষ্টা করি। সে পোশাকই যদি হয় অশোভন এবং অশ্লীল ধারার আবেদন প্রকাশের, তাহলে সেটি হবে মুল চেতনার বিপরীত। নির্দিধায় অসামাজিক।

অপরদিকে, প্রবীণরা বলচেছন, অনুকরণপ্রিয় বাঙ্গালীর নতুন প্রজন্মের একটি অংশ আধুনিকতার নামে অপসংস্কৃতি গ্রহণ করছে। সমাজে অসামাজিক ঘটনা সৃষ্টিতে অদৃশ্যভাবে সহায়ক ভুমিকা রাখছে এসকল উগ্র পোশাক। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে অভিভাবক এবং পোশাক ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

( লেখক : সাংবাদিক, Email-ofshamimcht@yahoo.com )

Comment here