Wednesday , 15 August 2018
বাঘাইছড়িতে তামাকের আগ্রাসন ঘিলে খাচ্ছে রবি শস্যের আবাদ

বাঘাইছড়িতে তামাকের আগ্রাসন ঘিলে খাচ্ছে রবি শস্যের আবাদ

মঈন উদ্দীন বাপ্পী, রাঙ্গামাটি: পাহাড়ের প্রায় সর্বত্রই এখন তামাকের আগ্রাসন। প্রায় দুই দর্শক আগে যখন পাহাড়ে তামাক চাষ বিস্তার লাভ করতে শুরু করে, তখনও রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাধারণতঃ চাষাবাদের অযোগ্য ও সবজি খেতে তামাক চাষ করা হতো। কিন্তু এবারে প্রথম বোরো আবাদের জমি গ্রাস  করে তামাক চাষ করা হয়েছে হরহামেশায়। তামাক চাষের আগ্রাসনের কারণে এবারে এ উপজেলায় বোরো আবাদ কম করা হয়েছে। তামাক চাষ বেড়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন উপজেলা খাদ্য উৎপাদন কমবে অন্যদিকে জীব বৈচিত্র ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে কৃষিবিদরা জানিয়েছেন।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবছর কাপ্তাই হ্রদের পানি না বাড়ার কারণে অধিকাংশ জমি পানিতে ডুবেনি। ফলে সেচের অভাবের আশঙ্কায় একাংশ কৃষকরা বোরো চাষ না করে লাভের আশায় তামাক চাষ করেছেন।

উপজেলার লাল্যাঘোনা গ্রামের  বিনয় রতন চাকমা বলেন, প্রতি বছর কাপ্তাই হ্রাদের পানিতে বোরো আবাদের জমি পাঁচ মাস পানিতে ডুবে থাকার কারণে জমিতে পলি জমে উর্বর হয়। এতে বোরো চাষ করার সময় কোনো সার কিংবা সেচ দেওয়া প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এ বছর হ্রদের পানি বৃদ্ধি না বাড়ার কারণে অধিকাংশ কৃষক তামাক চাষ করেছেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলায় মোট আট হাজার ৬৪৫ একর বোরো আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৭ হাজার ৬৫৭ একর, ২০১৫ সালে ৭২৭৯ একর ও ২০১৬ সালে ৫০২৬ একর বোরো আবাদ করা হয়েছে। চাষীরা বর্তমানে বোরো আবাদের পরিবর্তে তামাক চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তুলাবান, মাস্টারপাড়া, লাল্যাঘোনা উলুছড়ি ও শিজক এলাকায় বোরো আবাদের জমিতে এবার ব্যাপক তামাক চাষ করা হয়েছে।

কৃষি কার্যালয় এবং তামাক কোম্পানিদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় নভেম্বরের মাঝামাঝি তামাক চাষ শুরু হয়। খেদারমারা,সারোয়াতলী, বাঘাইছড়ি, মারিশ্যা, রুপকারী ইউনিয়ন ও পৌরসভায় দুই হাজার একরের বেশি তামাক চাষ হয়েছে এবার । গত বছর ওই সব এলাকায় দেড় হাজার একর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে।

শিজক এলাকায় কৃষক কালাচান চাকমা বলেন, এখন বোরো চাষ করতে খরচটাও ওঠে না। তাই বোরো চাষিরা বর্তমানে অধিক লাভের আশায় দিনদিন তামাক চাষের দিকে ঝুকঁছেন। এ কৃষক জানান,এককানি জমিতে তামাক চাষ করলে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। আর একই জমিতে   ধান চাষ করলে ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকা পাওয়া যায়। যার কারণে অধিক লাভের আশায় বোরো ধানের পরিবর্তে কৃষকরা তামাক চাষের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছেন।

বাঘাইছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রাণী বিজ্ঞান সমিতির সদস্য মো. আবুল ফজল বলেন, তামাক চাষ বেড়ে যাওয়ার  স্বাস্থ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতি বছর তামাক পাতা শুকাতে বনের ব্যাপক গাছ কাটা পড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ চাইলে বনের গাছ কাটা নিষেধাজ্ঞা এবং তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে এ উপজেলায় তামাকের আগ্রাসন বন্ধ করা সম্ভব  বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.আল ইমরান বলেন,সরকারিভাবে তামাক চাষের কোনো নিষেধাজ্ঞা করা হয়নি। যে কারণে আমরা কৃষকদের তামাক চাষে নিষেধাজ্ঞা করতে পারছি না। তিনি বলেন, তবে কৃষকদের তামাক চাষ থেকে সরে আসতে আমার প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। তিনি জানান, তামাক চাষের ক্ষতিকারক বিষয়ের উপর কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) মো.তাজুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় তামাক চাষ  নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যার কারণে তামাক চুল্লিগুলোতে কঠোরভাবে অভিযান চালানো হবে। কারণ বনের আইনে কাঠ পুড়ানো বিধান নেই। তিনি বলেন, অভিযান অব্যহত থাকলে তামাক চাষ অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

Share This:

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes