কাপ্তাইপাহাড়ের সংবাদরাঙ্গামাটিরাঙ্গামাটি সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে রাইখালী-রাজস্থলী সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ

শান্তি রঞ্জন চাকমা, কাপ্তাই: এশিয়া উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে রাঙ্গামাটি এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাইখালী-রাজস্থলী সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চলতি অর্থবছর এপ্রিল মাসে কার্যাদেশ মোতাবেক প্রকল্পে চারটি পেইজে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পেইজে নারানগিরি সরকারী পাইলট হাই স্কুল থেকে হেডম্যান বাড়ি পর্যন্ত ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩৭৫ মিটার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

প্রকল্পের কাজের শুরুতে উপজাতীয় নামধারী সন্ত্রাসীদের মোটা অংকের চাঁদা দাবীর মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকে। বিষয়টি প্রশাসনিক ভাবে জানানো হলে প্রকল্পের কাজ চালু রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়। চলতি বছরের আগষ্ট মাসে কাপ্তাই ওয়াগ্গা ছড়া ১৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জোন কমান্ডারের নেতৃত্বে স্থানীয় হেডম্যান-কার্বারী, গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। প্রশাসনের সহযোগীতায় প্রথম পেইজের কাজ প্রায় শেষের দিকে বলে জানা গেছে। প্রথম পেইজে প্রকল্পের কাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে নামপ্রকাশে অনিশ্চুক একাধিক গ্রমাবাসী দাবী করেন।

নারানগিরি গ্রামের মো. রাসেল বলেন, রাজস্থলী-রাইখালী সড়ক নির্মিত হলে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রা মাত্রা বদলে যাবে। দূর্গম পাহাড়ি এলাকার হাজার হাজার কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করতে পারলে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। সড়কটি নির্মিত হলে মিতিঙ্গাছড়ি, তিনছড়ি, পানছড়ি, ভালুক্কা, বালামছড়ি, কেংড়াছড়ি, মইদং, নারাছড়ি সহ প্রায় ২০ গ্রামের উন্নয়নের নবদিগন্ত সূচনা হবে। পাহাড়ি বাঙ্গালীর দীর্ঘদিনের দাবী রাজস্থলী-রাইখালী সড়ক প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন।  ভালুক্কা গ্রামের মনিষা তংচংগ্যা জানান, রাইখালী থেকে রাজস্থলী মাত্র ১২ কিলোমিটার সড়কে আধাঘন্টায় পৌঁছানো সম্ভব। চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া-রাজস্থলী সড়কে প্রায় ২ঘন্টা ব্যয় হয়। রাইখালী-রাজস্থলী সড়ক নির্মাণ হওয়ায় দেড়ঘন্টা সময় সাশ্রয় হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় পেইজের ঠিকাদার ওমর ফারুক জানান, প্রথম পেইজ প্রকল্পর কাজ প্রশাসনের সহযোগীতায় শেষের দিকে। সন্ত্রাসীদের মোটা অংকের চাঁদা দাবীর কারনে দ্বিতীয় পেইজের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের সহযোগীতা পেলে দ্বিতীয় পেইজের ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি ব্রিজসহ মিতিঙ্গাছড়ি থেকে বালামছড়ি পর্যন্ত কাপের্টিং সড়কের নির্মাণ কাজ যথা সময়ে সম্পন্ন হবে। তৃতীয় ও চর্তুথ পেইজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা। ৩ টি ব্রীজসহ সড়কে কার্পেটিং কাজ ঠিকাদারেরা কাজ শুরু করে সন্ত্রাসীদের মোটা অংকের চাঁদা দাবীর মুখে কাজ না করেই চলে যেতে হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে নির্মাণাধীণ ব্রীজের পাইলিং কাজ শেষ না করতেই প্রকল্পের কাজ থমকে যায়।

সম্প্রতি এডিপি মিশন সিএইচটি প্রকল্পের প্রধান মোহাম্মদ শহিদুল আলাম, এডিবি বিআরএম বিশেষজ্ঞ আকলিমা, কনসালটেন্ট শিশির কুমার সাহা, প্রকল্প পরিচালক নুরুল কাদির, সুকৃতি রঞ্জন চাকমা, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আলাউদ্দিন হোসাইন, কাপ্তাই উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম প্রথম পেইজ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন।