অন্য মিডিয়াখাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপানছড়িপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

পানছড়ির বাঙালি গুচ্ছগ্রামের খাদ্যশস্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার ১২ টি বাঙালি গুচ্ছগ্রামের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্ডধারীদের কাছ থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে কম মূল্যে খাদ্যশস্য কিনে নিয়ে তা কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে। জেলার ও বাইরের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যানরা দিনের পর দিন এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে থাকায় এমন অনিয়মের প্রতিবাদ করতে সাহস করছে না ভুক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পানছড়ির ১২টি বাঙালী গুচ্ছগ্রামে কার্ডধারীর সংখ্যা ৪ হাজার ১ শত ২৯ জন। তিন মাস অন্তর অন্তর প্রতি কার্ডধারী ৩৫ কেজি চাল ও ৫৫ কেজি করে গম পাওয়ার কথা। গুচ্ছগ্রামের খাদ্যশস্য বিতরণের জন্য ২ বছর পরপর প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কার্ডধারীদের দারিদ্র্যতা সুযোগ নিয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যানরা বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে অগ্রীম টাকা প্রদান করছে। যার বিনিময়ে বন্ধক রাখা হচ্ছে কার্ড। বিতরণের সময় চেয়ারম্যানরা নিজস্ব লোকজন দিয়ে কাগজপত্র তৈরী করিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই বিতরণ কেন্দ্রেই খুলে বসেছে ক্রয় বিক্রয়। কার্ডধারীদের কাছ থেকে কম মূল্যে কেনা খাদ্যশস্য সুবিধা মতো সময়ে পাচার করা হচ্ছে কালোবাজারে।

মধ্যনগর গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারী(৪২০১) তাসলিমা আক্তার জানান, বিপদে টাকা দিয়ে সহায়তা করায় বাজারমূল্যের চেয়ে কম দিলেও বাধ্য হয়ে তাদের কাছে আমাদের খাদ্যশস্য দিতে হয়।

জিয়া নগর গুচ্ছগ্রামের এক বাসিন্দা জানান, আব্দুর রাজ্জাক প্রকল্প চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে কোন কার্ডধারীই গম পাচ্ছে না। খাদ্য গুদাম থেকে নিম্নমানের গম দেয়া হয় উল্লেখ করে আমাদের প্রতিকেজি গমের জন্য ৫-৭ টাকা করে দেয়।

পরপর দু’বারই একই পরিবার থেকে প্রকল্প চেয়ারম্যান হয়েছে মধ্য নগর গুচ্ছগ্রামে। বর্তমান প্রকল্প চেয়ারম্যান ছকিনা বেগম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিতরণ কেন্দ্রে উন্মুক্ত ভাবে টাকা লেনদেন করে ক্রয় করছে খাদ্যশস্য। যারা খাদ্যশস্য নিতে চায় না তাদের সুবিধার্থে টাকা দেয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করেনও ছকিনা বেগম।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে সাবেক এক প্রকল্প চেয়ারম্যান জানান, গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রভাবের কারণে ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করার সাহস করে না। সুযোগ কাজে লাগিয়ে খাদ্য বিভাগকে হাত করে খাদ্যশস্য বিক্রী করে দেয়া হচ্ছে কালোবাজারে।

পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রকল্প চেয়ারম্যান জয়নাথ দেব জানান, অপকর্মের জন্য নানা সময়ে আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কৃতরা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের তদারকি থাকায় গুচ্ছগ্রামের খাদ্যশস্য কোন অনিয়ম হয় না।
খাদ্যশস্য বিতরণের সময় সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও কোন কেন্দ্রেই কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি।

পানছড়ি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম মঈনুল খাইর জানান, ১২টি গুচ্ছগ্রামের জন্য এবার ৬০৪ মেট্টিক টন গম ও ৪৪৫ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিক ভাবে প্রকল্প চেয়ারম্যানদের খাদ্যশস্য বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণের পর যদি কোথাও কোন অনিয়ম হয়ে থাকে সেটি প্রশাসন জানে।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম জানান, কয়েকজন প্রকল্প চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের কথা শুনেছি। তাদের ডাকানো হয়েছে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্র: খাগড়াছড়ি প্রতিদিন।