গুইমারাপাহাড়ের সংবাদপ্রবন্ধ ও কবিতাশিরোনামস্লাইড নিউজ

একজন ব্রি.জে. তোফায়েল এবং আজকের গুইমারা

BG Tfylবিশেষ প্রতিবেদক: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: তোফায়েল আহমেদ,পিএসসি। ২৪আর্টিলারি ব্রিগেড গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার হিসেবে যোগদান করেন ২০১৪ সালের ২২আগষ্ট।

রিজিয়ন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমি কাজ করতে চাই এ অঞ্চলের মানুষের জন্য। সমস্যা ও সম্ভাবনা আমাকে জানান। মানুষের কল্যাণে চেষ্টা করব সাধ্যমত। তবে আমাকে কী করতে হবে সেই পরামর্শই চাই। আসুন সবাই মিলে একসাথে ভালো কিছু করি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল আহমেদ শুধু মুখেই বলেন নি। কাজে তার প্রমাণ করেছেন। কালের স্বাক্ষী যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে গুইমারা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। অতি অল্প সময়ে কলেজটির পাঠদান স্মীকৃতি লাভ করা ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। চালু করেছেন শিক্ষা বৃত্তি। শিক্ষা বৃত্তি ফান্ডে নিজের ব্যক্তিগত বেতন থেকে এবং প্রিয় বন্ধুদের সহায়তায় গড়ে তুলেছেন এই ফান্ড। যেখান থেকে গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ব্যায় করা হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগী শহর এবং খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে অতিমাত্রায় দূরবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলের ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা থেকে পিঁছিয়ে পড়ছিল অনেকটাই। গুইমারা এবং পাশ্ববর্তি এলাকার জন্য এই কলেজ মানব জীবনের কল্যাণে বিশাল এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। গর্বিত ও সুন্দর জীবন, মানুষ গড়ার কারিগড় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুইমারাবাসীর জন্য এক আর্শিবাদ।

স্থাপন করেছেন ডিজিটাল সেন্টার যেখানে বসে জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম গোটা বিশ্বকে।  তৈরী করতে পারবে সফ্টওয়ার এবং ইন্টারনেট’র ব্যাপক ব্যবহর। নির্মাণ করেছেন শিক্ষকদের জন্য গুরুগৃহ, যা শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যতিক্রম চিন্তারই এক ফসল। বিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের মেধা বিকাশে কুইজ প্রতিযোগীতাসহ নানা আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মত।

এদিকে বিনোদন বঞ্চিত এ এলাকার মানুষের জন্য বিশাল ক্রীড়া কমপ্লে´ নির্মাণ করার পর বৈসাবিন’র নানা আয়োজন ছিল উপভোগ করার মত। বৈসাবিন-বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু এবং নববর্ষ। ক্রীড়া কমপ্লে´ মাঠে ভলিবল ও ফুটবল টুর্ণামেন্ট আয়োজনও বাদ পড়ে নি।

এছাড়াও এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী গুইমারাকে উপজেলা ঘোষণা। এই এলাকার জন্য এটিও ছিল বিশাল প্রাপ্তী। গুইমারা বাজারকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, রাস্তা সম্প্রসারণ করে যানজট মুক্ত করা এবং গুইমারা সাংবাদিক ফোরাম’র অফিস নির্মাণ প্রশংসার দাবি রাখে।

স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তা সংস্কার করতেও দেখা গেছে ব্রি.জে. তোফায়েলকে। গুইমারা ব্রিজ থেকে চাকমা পাড়া পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করে ৪হাজার মানুষের কষ্টলাঘবেও রিজিয়ন কমান্ডারের অবদান স্মরনীয়।

অন্যদিকে চাঁদাবাজ নির্মূল ও সন্ত্রাস দমনেও তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়। সম্প্রতি তাঁর লেখা “অমিত সম্ভাবনার পার্বত্য চট্টগ্রাম : শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়নের স্বপ্ন ও বাস্তবতা” এই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের মূল মন্ত্রে আসতে হলে সবার আগে প্রয়োজন পরস্পর পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস। একজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি পাহাড়ের প্রতিটি মানুষ যদি তার অধিকার ফিরে পায় তাহলে কোনো সংঘাত থাকবে না, শান্তি আসতে বাধ্য। সময় এসেছে সবাই এককাতারে এসে জাতি ভেদা-ভেদ ভুলে পাহাড়ের সকল অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার। উজ্জ্বল সম্ভাবনাময়ী সবুজ পাহাড় যেন আর কারো রক্তে লাল না হয় এ কামনাই পার্বত্যবাসীর।

যা আর কেউ ভাবেনি-তাই তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। এখানকার মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করার পাশাপাশি তাঁর সুদুর প্রসারী সুস্থ্য চিন্তা ধারার বহি:প্রকাশ ঘটেছে জাতির বিবেক বলে পরিচিতি যাদের লেখনি দিয়ে সমাজ পরিবর্তন হতে পারে। বদলে দিতে পারে মানুষের জীবন যাত্রার মান, উন্নয়ন হতে পারে এলাকার। ঠিক সেই সব মানুষকে সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তোলা কিংবা সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মান সম্মত লেখা প্রস্তুত করা এবং একজন দক্ষ সাংবাদিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রি.জে. মো: তোফায়েল আহমেদ এখানেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গুইমারা রিজিয়নের অধীন সাংবাদিকদের টেলিভিশন সাংবাদিকতার উপর প্রশিক্ষণ এবং সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা আয়োজন করেন। এছাড়াও শ্রেষ্ট লেখার উপর সম্মাননা পুরস্কার প্রদান রিজিয়ন কমান্ডারের অনন্য এক অবদান।

গুইমারা রিজিয়নের উদ্যোগে সেনাবাহিনীর শীত বস্ত্র বিতরণ। ঈদ সামগ্রী বিতরণ। কঠিনচীবর দান অনুষ্ঠান, দুর্গাপুজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। সেই গুইমারা থেকে কালক্রমে আজকের গুইমারা উপজেলা- একদিন কী জেলা হওয়ার স্বপ্ন দেখবে ?

“একজন ব্রি.জে. তোফায়েল এবং আজকের গুইমারা” শীর্ষক শিরোনামে যাকে ঘীরে এই সংবাদ সেই গুইমারাকে পরিবর্তন ও উন্নয়নের নায়কের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হলো আজ (১২ জানুয়ারি’ ২০১৬) মঙ্গলবার রিজিয়ন মাল্টিপারপাস শেডে। যেখানে উপস্থিত নবাগত রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুজ্জামান।

Comment here