প্রবন্ধ ও কবিতাবিশেষ প্রতিবেদন

বনায়ন: বৃক্ষ আমাদের শত্রু নয়; বন্ধু

retyt4y5॥ মো: মোশারফ হোসেন॥

বৃক্ষ আমাদের শত্রু নয়, বন্ধু। গাছপালা ও বন মানুষের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষ তার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ত্রই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে গাছ-পালার উপর নির্ভরশীল। বনায়ন বলতে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে গাছ-পালা তরুলতা, এবং পশু-পাখি সমৃদ্ধ একটি মনোরম এলাকা। অর্থ্যাৎ বনায়ন হচ্ছে একই জমিতে বহু উদ্ভিদের সাথে অন্যান্য ফসল উৎপাদন এবং পশু সম্পদ লালন পলন করা। বৃক্ষই আমদের মৌলিক চাহিদার- খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, চিকিৎসা ও শিার অনেকটাই পূরণ করে থাকে। পাহাড় কিংবা সমতল ভূমি যেখানে হাজার বছর ধরে শোভা পাচ্ছে প্রকৃতির লালিত এক স্বপ্নের রাজ্য। পৃথিবীতে বৃক্ষের আগমন ঘটেছে মানুষ সৃষ্টির অনেক পূর্বেই। ধর্মীয় দৃষ্টি কোন থেকে জানা যায়, আল্লাহপাক মানুষ সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠানোর অনেক আগেই পৃথিবীকে গাছ-পালা দ্বারা ফুলে-ফলে শোভিত করে ছিলেন, মানুষের বাসযোগ্য করার জন্য। পৃথিবীতে বৃক্ষ তথা বনায়ন না থাকলে মানুষ কিংবা প্রাণী কিছুই বাঁচতে পারতো না। কাজেই গাছ-পালা প্রাণীকুলের জীবন ধারনের প্রধান সহায়ক। দারিদ্র বিমোচনে কৃষি ফসল চাষাবাদের পাশাপাশি কৃষি বনায়ন করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করা সম্ভব। এতে গরীব জনগোষ্টি দুর্যোগের সময় বৃক্ষ বিক্রির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। প্রকৃতি আমাদের জীবন বাঁচায়, আমাদের জীবনের স্বার্থে নির্মল পরিবশের জন্য প্রত্যেকেরই কমপক্ষে ২টি করে ফলজ, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা রোপন করা এবং রোপিত গাছের চারার সঠিক পরিচর্যা করা উচিৎ।

কৃষি বনায়নকে ক্ষুদ্রাকার প্রাকৃতিক বনের সাথে তুলোনা করা যায়। প্রকৃতির বনে নানা ধরণের উদ্ভিদ জন্মে এই সব উদ্ভিদ একাধীক স্তর তৈরী করে বন্য পশু পাখির আবাস স্থল সৃষ্টি করে। সভ্যতা আমাদের যেমন দিয়েছে প্রচুর, তেমন কেড়ে নিয়েছে অনেক কিছু। আজ আমরা হারিয়ে যাচ্ছি উত্তপ্ত পৃথিবীর শ্যামল ছায়ায়। নষ্ট হচ্ছে পৃথিবীর ভারসাম্য। বৃষ্টির ধারা গেছে হারিয়ে। রুক্ষ হয়েছে প্রকৃতির স্বভাব। কমে যাচ্ছে পৃথিবীর অক্মিজেন ভান্ডার। দিনে দিনে কার্বন-ডাই অক্মাইড এর পরিমাণ যাচ্ছে বেড়ে। ফলে জনাকীর্ণ শহরের বাতাস হয়েছে দূষিত। এই দূষিত বাতাস গ্রহণ করার ফলে মানুষ এবং পশু-পাখির মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি। এই সব কিছুর মূল কারণ হলো বনায়ন ধ্বংস বা নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন। বৃক্ষ নিধনের ফলেই নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। জীববৈচিত্র এবং মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই প্রয়োজন প্রচুর পরিমানে বৃক্ষ রোপন, রা ও পরিচর্যা করা। বনায়ন সৃষ্টি, পরিচর্যা, বনজ সম্পদ রা শুধু প্রকৃতিকে ভালবাসা নয়, এ হলো মানবজাতীকে বাঁচিয়ে রাখার এক মহাপ্রয়াশ। দারিদ্র,জনসংখ্যা বিষ্ফোরণ, শিল্প বিস্তারে ত্রিমুখী আক্রমনে বাংলাদেশের বনাঞ্চল আজ প্রায় ধ্বংসের পথে। নির্বিচারে অরণ্য উচ্ছেদের কারণে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য আজ বিনষ্ট। ফলে দেখা দিয়েছে ভূমিক্ষয়, উর্বরতা, বৃষ্টিহীনতা। তাই আগামী প্রজন্মে সুখে শান্তিতে বসবাসের জন্য আজ থেকে আমাদের অঙ্গিকার হোক-

আর নয় বৃক্ষ নিধন, বৃক্ষ রোপন ও বনায়ন করে ফুলে ফলে, বনে সবুজ শ্যামলে ভরে তুলি এই পৃথিবীকে। আসুন আজ থেকে আমরা সকলে মিলে বনায়ন সৃষ্টিতে ও রাক্ষার্থে ব্রতী হই এবং আমাদের আজকের শ্লোগান হোক-

           একটি গাছ একটি প্রাণ,  এই কথাটির রাখবো মান।

                                                                                                                                                লেখক: মোঃ মোশারফ হোসেন,উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, লক্ষ্মীছড়ি।

Comment here