Thursday , 21 June 2018
লামায় পৌরসভার রাতের আঁধার দূর হলো সোলার’র আলোয়

লামায় পৌরসভার রাতের আঁধার দূর হলো সোলার’র আলোয়

লামা (বান্ন্দবান) প্রতিনিধি: লাময় পৌর এলাকার রাতের আঁধার দুর হলো দিনের আলোয়! পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে পৌরএলাকার বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ সড়কে স্থাপন করা হয়েছে “সোলার স্ট্রিট লাইট”। এছাড়া পৌরএলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে লাগানো হয়েছে সোলার হোম সিস্টেম। যা দিনে সূর্য থেকে আলো সংগ্রহ করে রাতে আলো ছড়াচ্ছে লামা বাজারসহ পৌরএলাকার বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ সড়ক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের ফলে রাতের বেলা পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে তারা নির্বিঘœ যাতায়াত করতে পারছেন।

সূত্র জানায়, লামা পৌরসভা থেকে ইতিমধ্যে লামা বাজার এবং এর আশ-পাশ এলাকায় বিদ্যুতের মাধ্যমে সড়ক বাতি লাইন স্থাপন করা হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো সড়ক বাতি লাইন স্থাপন করা সম্ভব হয় নাই। যার ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে রাত্রিকালিন যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচল ব্যহত হচ্ছিল। এমন অবস্থায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে লামা পৌরসভার লামা বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে ৪০টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। জানা গেছে, সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করাই সোলার সিস্টেমের কাজ। এ পদ্ধতি দু-ধরনের হয়। অফগ্রিড এবং অনগ্রিড। ব্যাটারির মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ সংরক্ষন করে রেখে রাতে কিংবা লোড শেডিংয়ের সময় ব্যবহার করার নাম অফগ্রীড। আর ব্যটারি ছাড়া যতক্ষন সূর্যের আলো আছে ততক্ষন ব্যবহার করার পদ্ধতির নাম অনগ্রিড। লামা পৌরএলাকায় স্থাপিত সোলার স্ট্রিট লাইট গুলো অফগ্রিড পদ্ধতিতে দিনের বেলায় সুর্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে রাতের আলো ছড়ায়। স্ট্রিট লাইট গুলো সম্পূর্ণ অটোমেটিক ভাবে চলে। সুইচ অন কিংবা অফ করার প্রয়োজন পড়েনা। রাতের আঁধার নামলেই জ্বলে উঠে, আবার দিনের আলোতে নিভে যায়। অপরদিকে, লামা পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের প্রায় সকল মসজিদ, মন্দির এবং বৌদ্ধ বিহার গুলোতে “সোলার হোম সিস্টেম” বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে ওই সকল প্রতিষ্ঠানও বিদ্যুতের লোডশেডিং চলাকালিন আলোকিত থাকে।

লামা পৌরসভার কলিঙ্গাবিল পাড়া এলাকার বাসিন্ধা মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সোলার স্ট্রিট লাইট লাগানোর ফলে বিশেষ করে পৌরসভার কাটাপাহাড় এলাকায় সোলার স্ট্রিট লাইট দেয়ায় জনসাধারনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমেছে। যানবাহনসহ স্থানীয়রা নির্বিঘেœ রাতে চলাচল করতে পারছে। তিনি বলেন, এখন লামা বাজার বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের সময়ও আলোকিত থাকে। পৌরসভার উপ-সহকারি প্রকৌশলী রাজিব বড়–য়া জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে ৪০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পাশাপাশি গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণা বেক্ষন প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার প্রায় সকল ধর্মীয় ও সামজিক প্রতিষ্ঠানে সোলার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পৌর ভবনে ৩ হাজার ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার সিস্টেম বসানো হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুত না থাকলেও পৌরবাসীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দান করা সম্ভব হচ্ছে।

লামা পৌরসভা মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং এমপি’র আন্তরিক প্রচেষ্টায় পার্বত্য জনপদে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পাদিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায়  রাত্রিকালিন লোডশেডিংয়ের সময় এবং বিদ্যুতবিহীন এলাকাবাসীর যাতে কোন ভোগান্তি না হয়, তারা যেন নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে সে জন্য তিনি লামা পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের  জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। যার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে পৌরএলাকায় সোলার স্ট্রটি লাইট স্থাপন করা হয়েছে। পৌর মেয়র বলেন, শীঘ্রই লামা পৌরসভার এলাকার বাকী জনগুরুত্বপূর্ণ  স্থানে আরো বেশ কিছু সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে।

লামা পৌরএলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্ধারা জানিয়েছেন, পৌরএলাকার সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করলে একদিকে যেমন রাত্রিকালিন তাদের স্বাচ্ছন্দে চলাচল সম্ভব হবে। অন্যদিকে পৌরএলাকার সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

Share This:

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes