ক্রীড়াখাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদলক্ষ্মীছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

এ্যাথলেটিক্ম-এ স্বর্ণপদক জয়ী লক্ষ্মীছড়ির পাইশিখই মারমা’র লক্ষ্য এখন জাতীয় পর্যায় খেলা

মোবারক হোসেন: পাইশিখই মারমা। নিজ বাড়ি লক্ষ্মীছড়ির বর্মাছড়ি ইউনিয়নে বিনাজুরী এলাকায় হলেও লেখা-পড়া করেন রাউজান মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেনীতে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে পিতা সাথোয়াই মারমা ছেলে পাইশিখই মারমাকে ৮ বছর বয়সে নিয়ে যান রাউজান মহামুনি আশ্রম কেন্দ্রে। সেখানে ৭৯ নং উত্তরা নবতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণীতে ভর্তি করান। পাইশিখই মারমা কৃতিত্বের সাথে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় পাশ করে। মেধাবী এই ছাত্র বর্তমানে রাউজান মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘ক’ শাখায় ১০ম শ্রেনীতে(ব্যবসায় শিক্ষা) অধ্যানরত। লেখা-পড়ার পাশাপাশি মনযোগ দেন খেলা-ধুলার প্রতি। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক শেখর ঘোষ-এর নজরে আসলে বিকেএসপিতে প্রথম ডাক আসে প্রশিক্ষণের। ২০১৫সালের শেষ দিকে তৃণমূল পর্যায় ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এ্যাথলেটি´ বিভাগে ঢাকার সাভার হতে ১ম ও ২য় পর্বে ৪মাস প্রশিক্ষণ নেন পাইশিখই মারমা। ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারী থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায় এ্যাথলেটি´’র বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগীতা করে ৬টি স্বর্ণপদক, ৪টি রোপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক জয়লাভ করেন লক্ষ্মীছড়ির এই কৃতি সন্তান। দলগতভাবে আরো ৩টি স্বর্ণপদক যোগ হয় সাফল্যের ঝুড়িতে। এছাড়াও প্রতিটি জয়ের জন্য আলাদা আলাদা ক্রেষ্ট ও সনদপত্র অর্জন করেন পাইশিখই মারমা।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি কুমিল্লা ফজিলাতুনেচ্ছা স্টেডিয়ামে বকুল অঞ্চল পর্যায়ে ১০০মিটার  দৌড়ে ব্রোঞ্জ ও দলগতভাবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট মাঠে ৪৫তম শীতকালীন জাতীয় স্কুল ক্রীড়া মাদরাসা এ্যাথলেটি´ প্রতিযোগীতা উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে ১০০ মিটার দৌড়ে রোপ্য, ব্রোঞ্জ ও (৪০০*২০০) মিটার রিলে দলগতভাবে স্বর্ণপদক পান। ২০১৭সালের ৩জানুয়ারি  চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ৪৬তম জেলা পর্যায়ে শীতকালীন জাতীয় স্কুল ক্রীড়া মাদরাসা এ্যাথলেটি´ প্রতিযোগীতায় ৩টি এবং দলগতভাবে ১টি স্বর্নপদক জয়লাভ করেন। ২০১৭সালের ১১জানুয়ারি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট মাঠে ৪৫তম শীতকালীন জাতীয় স্কুল ক্রীড়া মাদরাসা এ্যাথলেটি´ প্রতিযোগীতা দীর্ঘ লাফ স্বর্ণ পদক পান। ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়াম মাঠে সিজেকেএস এ্যাথলেটি´ প্রতিযোগীতা ২০০ মি: দৌড় রৌপ্য পদক পান। ২০১৭ সালে ২৬ ডিসেম্বর রাউজান আর.আর স্কুল ইচ্চ বিদ্যালয় ৪৭তম উপজেলা পর্যায় শীতকালীন জাতীয় স্কুল ক্রীড়া মাদরাসা এ্যাথলেটি´ প্রতিযোগীতা দীর্ঘ লাফ ও ২০০মিটার দৌড় প্রতিযোগীতায় রোপ্য ও স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ৪৭তম জেলা পর্যায় শীতকালীন জাতীয় স্কুল ক্রীড়া মাদরাসা এ্যাথলেটি´ প্রতিযোগীতা দীর্ঘ লাফ প্রতিযোগীতায় স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ যুব গেমস জেলা পর্যায় দীর্ঘ লাফ প্রতিযোগীতায় রৌপ্য পদক পান। এছাড়াও ২০১৭ সালেল ৫ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ৩৩তম জাতীয় জুনিয়র গ্রীস্মকালীন এ্যাথলেটি´ প্রতিযোগীতায় দীর্ঘ লাফ হিট ফাইনাল পর্বে ৫ম স্থান লাভ করার গৌরব অর্জন করেন পাইশিখই মারমা ।

সম্প্রতি এ প্রতিবেদক পাইশিখই মারমার সফলতার কাহিনী শোনেন। গরীব কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়েও যে অদম্য ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকলে যে ভালো কিছু করা যায় তার অনন্য দৃষ্ঠান্ত পাইশিখই মারমা। পাইশিখই মারমা এখানেই থেমে থাকতে চান না। জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনতে চান। পাইশিখই মারমা বলেন, এ্যাথলেটি´ এর মাধ্যমে আমার বাংলাদেশের পতাকাকে আমি বিদেশের মাটিতে উড়াতে চাই। সুযোগ পেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আবদান রাখার মনভাবের কথাও ব্যক্ত করেন এ্যাথলেটি´-এ স্বর্ণপদক জয়ী পাইশিখই মারমা। তার এই কৃতিত্বের জন্য মামা-বাবার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়–য়া, ক্রীড়া শিক্ষক শেখর ঘোষ ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোচ ম্যানেজার শাহজালাল উদ্দিনের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক শেখর ঘোষ-এর সাথে। তিনি বলেন, পাইশিখই মারমা আমার প্রিয় মেধাবী ছাত্র। এই ছেলে (পাইশিখই) মারমা এ্যাথলেলেটি´ এ এতো ভালো করবে কল্পনাও করতে পারি নি। তিনি বলেন, একজন খেলোয়ারের যে গুন থাকা দরকার তার মধ্যে সবগুলই আছে। সব চেয়ে বড় যে গুনটি তা হলো তাকে কখনো নেশা সেবন করতে দেখেনি। পাইশিখই যদি সুযোগ পায় তাহলে অনেক ভালো করতে পারবে। জাতীয় পর্যায় অবদান রাখার যোগ্যতা তার মধ্যে আছে বলে তিনি মনে করেন।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জাাহিদ ইকবাল বলেন, আমি তাহার সার্টিফিকেট দেখেছি। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে কিছু করার সুযোগ থাকলে অবশ্যই করবো। তবে এ ধরনের প্রতিভাবান ছেলে পাওয়া এলাকার জন্য নি:সন্দেহে সৌভাগ্যের।