Thursday , 16 August 2018
চন্দ্রঘোনায় ছাগল পালন করে শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী
Exif_JPEG_420

চন্দ্রঘোনায় ছাগল পালন করে শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী

শান্তি রঞ্জন চাকমা,রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনায় ছাগল পালন করে শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী। ছাগল পালন করে আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি বেকারত্ব দুরীকরণ হয়েছে অনেক পরিবারে। এ বছর ছাগলের ন্যায্যমুল্যে পেয়ে খামারীরা লাভবান হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার চন্দ্রঘোনার জুমপাড়া, সিএলসি এলাকা, মিশন এলাকা, বারঘোনিয়া কয়লার ডিপু, দোভাষী বাজার, লিচুবাগান, রেশম বাগান, কলাবাগান, বনগ্রাম এলাকায় শতশত পরিবার ছাগল পালন করেন। চন্দ্রঘোনা জুমপাড়ায় ২৯টি পরিবারে প্রায় শতাধিক বড় জাতের ছাগল পালন করছেন। মনসা পুজাকে ঘিরে উপজাতীয় জুমপাড়ায় প্রতিদিন ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ করা গেছে। নিজের পছন্দমত ক্রেতারা ছাগল ক্রয় করছেন। জুমপাড়ার মংলা বিজয় চাকমা বলেন, দু’টি বড় জাতের (পাবনায়্যা) ছাগল পালন করেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতারা আসছেন। বড় জাতের ছাগলের চাহিদা বেশী। পুজা যত ঘনিয়ে আসায় ছাগল বিক্রি বেড়েছে। তিনি তার দু’টি ছাগল এক লাখ ১০ হাজার টাকা বিক্রি করেন।

চন্দ্রঘোনা দোভাষীবাজার এলাকায় জনৈক নয়নের একটি বড় জাতের ছাগল এক লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দাম হাঁকা হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্রেতারা ছাগলের দাম দেড় লক্ষ টাকা বলেছেন। ছাগলটি এক নজর দেখার জন্য ইচ্ছুক জনতার ভীড় বেড়েছে। পটিয়া উপজেলা থেকে চন্দ্রঘোনায় আসা ক্রেতা পলাশ দে জানান, এত দুর থেকে এখানে আসার মুল কারন হচ্ছে গৃহস্থলীর পালিত ছাগল নির্ভেজাল। পুজা দেব বলে নিয়ত করেছি, তাই নিজের পছন্দমত ছাগল ক্রয় করবো। বেপারী (ব্যবসায়ী) থেকে ছাগল কিনে গত বছর ঠকেছি।
রাউজান থেকে আসা মলিন বসাক নামের একজন ক্রেতা জানান, বেপারীরা মেয়াদী ইনজেকশন দিয়ে ছাগল মোটাতাজা করে। এসব ছাগলের কোন গ্যারান্টি নেই। পুজা আসার পূর্বে ক্রয়কৃত অনেক ছাগল মারা যায়। গতবছর কমমূল্যে কেনা পুজার ছাগল মারা যায়। লিচুবাগান ফেরীঘাট লাইনের এক মুদি দোকানদার বলেন, তিনি দু’টি ছাগল পালন করেছেন। মধ্যম সাইজের দু’টি ছাগলের দাম হাকিয়েছেন ৯০ হাজার টাকা। কমবেশী করে ন্যায্য দাম পেলে ছাগল বিক্রি করবেন। জুমপাড়ার সাথোয়াই মারমা বলেন, দু’টি ছাগল ন্যায্যমুল্যে বিক্রি করেছি। এ অর্থ দিয়ে ব্যাটারি রি´া কিনবেন এবং অভাবের সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবুল হক এ প্রতিবেদককে জানান, চন্দ্রঘোনা জুমপাড়ায় গৃহস্থলী একাধিক পরিবার ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে। ছাগলের ন্যায্যমূল্যে পেয়ে খামারীরা লাভবান হয়েছে। ছাগল পালন করে আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি বেকারত্ব কমে আসবে।

Share This:

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes