খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

খাগড়াছড়ি শহরে প্রকাশ্যে ভরাট করা হচ্ছে প্রাচীনতম পুকুর

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের যেকটি শহরে পুকুরের সংখ্যা হাতেগোণা সেসব শহরের মধ্যে খাগড়াছড়ি একটি। দ্রুত বর্ধনশীল এই শহরে পার্বত্য শান্তিচুক্তির সুবাদে জায়গা-জমির দাম বাড়ার সাথে সাথে সরকারি-বেসরকারি পুকুর-জলাশয় ভরাটের প্রতিযোগিতা অব্যাহত আছে। কোন কোন পুকুরের চারপাশে স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে কৌশলে আড়াল করা হচ্ছে পুকুর অস্তিত্ব। আবার কোন কোন পুকুর ভরাট করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে খোদ জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানও। বেশ কয়েক বছর ধরে শহরের মূল কেন্দ্রের জগন্নাথ বাড়ি পুকুর ভরাট করে পৌরসভা কর্তৃক মার্কেট এবং পানবাজার পুকুরের চারপাশে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এবার শহরের শান্তিনগর এলাকার প্রাচীনতম চাকমা’র পুকুরটি দিনে-দুপুরে ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। কয়েক বছর আগে থেকে গোপনে একটু একটু মাঠি ফেলে পুকুরটির একাংশ ভরাট করা হলেও এবার আর রাখঢাক ছাড়াই বিশালাকার যন্ত্রপাতি দিয়ে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, শহরের ঘনবসতিপূর্ণ শান্তিনগর, আরামবাগ, রাজু বোর্ডিং, বায়তুশ শরফ ও মূল সড়কের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অগ্নি নিরাপত্তার জন্য পুকুরটিই একমাত্র ভরসা ছিল। গত কয়েক দশকে বড়োসড়ো অগ্নিকান্ডে তারই প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া পুকুরটির যে অংশটি গোপনে ভরাট করা হয়েছে তাতে একটি খাস ড্রেনও পড়েছে। গেলো জুনের প্রথমভাগে টানা বর্ষণের সময় পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক কানি আয়তনের পুকুরটির আশেপাশে অসংখ্য বাড়িঘর। এরমধ্যে বহতল ভবনও আছে। বেশিরভাগ এলাকার বৃষ্টির পানিও এই পুকুরেই জমা হয়। পুকুরটি শেষতক ভরাট হয়ে গেলে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রুপ নিতে পারে। আর কোনো কারণে অগ্নিকান্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে আগুন নেভানোর কোনো বিকল্প পানির উৎস থাকবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুকুরের মালিকরা জেলা শহরের মহাজন পাড়ার প্রাচীন বাসিন্দা হলেও তাঁরা সবাই রাঙামাটি শহরেই থাকেন। আশে-পাশের সব জায়গা বিক্রির পর বেশি দামের আশায় এখন পুকুরটি ভরাট করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারীরা জানান, সরকারি রেকর্ডপত্রে এটি পুকুর হিসেবেই উল্লেখ আছে। আইন অনুযায়ী পুকুর ভরাটের কোনই বিধান নেই। তাছাড়া এই পুকুরটি শ্রেণী পরিবর্তনের জন্য একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু দাউদ বলেন, খাগড়াছড়ি শহরে পরিবেশ-প্রতিবেশ সংক্রান্ত সরকারি আইনগুলোর প্রয়োগ হয় না বললেই চলে। বরং দুর্বলদের ওপর মাঝে মাঝে আইন প্রয়োগের উদাহরণ দেখা গেলেও প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়।

তিনি শহরের পরিবেশ দুষণ মোকাবেলা, অগ্নিনিরাপত্তা, শিশু-কিশোরদের বিনোদন এবং জলাবদ্ধাতা নিরসনে সবকটি পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর রেকর্ডপত্র দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।