Thursday , 16 August 2018
ট্রাফিক সপ্তাহের প্রভাব নেই রামগড় ও গুইমারাতে

ট্রাফিক সপ্তাহের প্রভাব নেই রামগড় ও গুইমারাতে

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় সিএনজি পরিবহণে সেবার নামে নৈরাজ্য চললেও অতিরিক্তি ভাড়া আদায়সহ যাত্রীদের সাথে দুর্বাবহার ও হয়রানী করা যেন চালকদের নিয়মিত রুটিনে পরিনত হয়েছে। এছাড়াও লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভার দিয়ে চলছে এসব সিএনজি ও মোটরসাইকেল। সূত্র মতে, ৯০ শতাংশ গাড়িরই কোন কাগজপত্র নেই। দেশব্যাপী ছাত্র/ছাত্রীদের দাবীর মুখে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ চললেও খাগড়াছড়িতে এর দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। লাইসেন্স বিহীন এসব সিএনজি অবাধে ঘুরে বেড়ালেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
রাজধানী ঢাকা থেকে জেলার প্রবেশ মুখ রামগড়-বারইয়ারহাট, রামগড়-জালিয়াপাড়া, জালিয়াপাড়া-মানিকছড়ি, মানিকছড়ি-হাটহাজারী, মানিকছড়ি-লক্ষীছড়ি, গুইমারা-মাটিরাঙ্গা, মাটিরাঙ্গা-তবলছড়ি, মাটিরাঙ্গা-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-পানছড়ি খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি ও খাগড়াছড়ি-দীঘিনালার প্রায় সবক’টি সড়কে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এখন সিএনজি। এক সময় এসব সড়ক ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলের দখলে থাকলেও এখন সড়কগুলে ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে সিএনজি। সূত্রমতে, বর্তমানে খাগড়াছড়ির প্রায় সব’কটি উপজেলাতেই সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে পুরো জেলায় অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার সিএনজি রয়েছে। এরমধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ৩শতাধিক সিএনজির। এছাড়াও চালকদের মধ্যে প্রায় ৯০ভাগই লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ। যার কারেণ পাহাড়ি আকা-ঁবাঁকা রাস্তায় প্রায়শই সিএনজি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অন্যতম কারণ অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গতিতে চলাচল।
যাত্রীদের অভিযোগ, বছরে হিসেব করে ৩থেকে ৪বার ভাড়া বাড়ানো হয়। তাছাড়া বিভিন্ন উৎসবের নামে বে-হিসেবি চাঁদাবাজি তো আছেই। গত ৬মাস পূর্বে রামগড় থেকে বারইয়ারহাটের ভাড়া ছিলো ৬০টাকা যা বর্তমানে ৮০টাকায় রুপান্তরিত হয়েছে। রজব আলী, আমিনুল হক, গিয়াস উদ্দিন, আপ্রুসি মারমা’সহ বেশ কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিএনজি চালকরা যখন যেভাবে খুশি, তখন সেভাবেই ভাড়া বাড়িয়ে নেয়, আর ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে এক প্রকার জোর করেই নির্ধারিত ভাড়ার চাইতেও দ্বিনগুন ভাড়া আদায় করে। কিছু বলতে গেলে চালকদের দুর্বাবহার শুনতে হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মালিক, চালক সমিতি, চালক কল্যান সমিতি, পৌর টোল এবং এক সমিতির গাড়ি অন্য সমিতির এরিয়ায় ভাড়া নিয়ে গেলে সেখানেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স না থাকায় কোন রকম হয়রানী বা মামলা না করার শর্তে খাগড়াছড়ির প্রতিটি থানার সাথেই সিএনজি চালকদের মাসিক একটা মাসোহারা ধার্য্য থাকে যা প্রতিটি চালককেই মাস শেষে সমিতির সভাপতি/সম্পাদকের মাধ্যমে গাড়ি প্রতি ৮শত টাকা হারে থানায় জন্য জমা দিতে হয়।

এছাড়াও প্রতিদিন প্রত্যেকটি গাড়িকে সংগঠনের নামে ১০টাকা হারে প্রতি উপজেলায় চাঁদা দিতে হয় চালকদের। তবে এ টাকা দিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত কোন গাড়ির মেরামত কিংবা কোন চালকের চিকিৎসার খরচে ব্যবহার করা না হলেও এর যথাযথ ব্যবহার কারা হয় বিভিন্ন সময়ে ডোনেশনের নামে সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারীসহ শ্রমিক নেতাদের কল্যানে। এতসবের পরও বছর শেষে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে বাৎসরিক মোটা অংকের চাঁদাও পরিশোধ করতে হয় চালকদের।
এদিকে গত ৫ আগষ্ট থেকে দেশব্যাপী চলমান ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে সারাদেশে অবৈধ পরিবহন ও চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ট্রাফিক সপ্তাহের কোন কার্যক্রম এখনো পরিলিক্ষিত হয় নি। গুইমারা, রামগড়, মাটিরাঙ্গা ও মানিকছড়ি থানা সূত্রে জানাযায়, গত ৩দিনে রামগড় থানায় ৯টি, গুইমারা থানায় ১০টি, মানিকছড়ি থানায় ১২টি এবং মাটিরাঙ্গা থানায় ৪৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই করা হয়েছে মোটরসাইকেলের হেলমেট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার অপরাধে। তবে সিএনজি’র বিরুদ্ধে মানিকছড়ি থানায় ১টি, মাটিরাঙ্গা থানায় ৭টি মামলা করা হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে গুইমারা ও রামগড় থানায় লাইসেন্স বিহীন এসব সিএনজির বিরুদ্ধে কোন মামলা নেয়নি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মোঃ ফরহাদ জানান, রামগড় এবং গুইমারায় সব ধরণের যানবাহনের লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র চেক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমাদের উদ্দ্যেশ্য মামলা দেয় নয় বরং নিরাপদ সড়ক ও নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
সাধারণ যাত্রীদের দাবী লাইসেন্সবিহীন এসব সিএনজি ও চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সিএনজি পরিবহণে নৈরাজ্য ও যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। পাশাপশি সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।

Share This:

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes