খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদলক্ষ্মীছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক বৌদ্ধ ভিক্ষু লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা সত্য নয়

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় সেনাবাহিনী কর্তৃক বৌদ্ধ ভিক্ষু লাঞ্ছিত হওয়ার খবর সত্য নয়, শুধুই ভুল বুঝাবুঝি বলে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে। খবরে প্রকাশ, বুধবার সকালে লক্ষ্মীছড়ি কুশীনগর বনবিহার থেকে বেশ কয়েকজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পিন্ডচরণ করতে তংতুল্যা পাড়া এলাকায় যাওয়ার পথে লক্ষ্মীছড়ি জোন এলাকার ক্যান্টিন পার হয়ে মাইক্রোবাস থেকে কিছু একটা ফেলে দিয়েছে এমন বস্তু নিরাপত্তা চেক পোষ্টের সেনা সদস্যদের নজড়ে পরে। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ফেরার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর সদসদ্যরা ভিক্ষুদের মাইক্রোবাস থামিয়ে কি ফেলেছেন তা জিগ্যাসা করে গাড়ি ছেড়ে দেন। এ সময় ভান্তেদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিহারে একটা ইঁদুর পাওয়া গেছে। সেটি গাড়িতে তুলে নিয়ে অন্যত্র ছেড়ে দেয়া হবে বলে অনিচ্ছাকৃতভাবে জোন এলাকার নিরাপত্তা বেস্টনির মধ্যে না বুঝে ছেড়ে দিয়েছি। বৌদ্ধ ভিক্ষু লাঞ্ছিত হয়েছে এমন খবর প্রচার হয়। ঘটনাটি অনুসন্ধান চালায় পাহাড়ের আলো ডটকম।

বৌদ্ধ ভিক্ষু লাঞ্ছিত হওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে কিনা এ বিষয় জানতে চাইলে কুশিনগর বনবিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবিল কুমার চাকমা পাহাড়ের আলোকে বলেন, ঘটনাটি সকালেই ভান্তে আমাকে জানিয়েছেন। সেনাবাহিনী গাড়ি থামিয়ে জিগ্যাসাবাদ করেছে। বৌদ্ধ ভিক্ষু লাঞ্চিত হওয়ার মত কোনো ঘটনা ঘটে নি। ভুলবুঝাবুঝি বলে প্রবিল চাকমা জানান। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা বলেন, সকালে কুশিনগরের ভান্তে আর্মি চেক পোস্টে গাড়ি থামিয়ে রাখার ঘটনাটি জানান, তবে নাজেহাল কিংবা লাঞ্চিত করেছে এমন ঘটনা হয় নি। ভুলবুঝাবুঝি বলে ভাইস চেয়ারম্যান এ প্রতিনিধিকে বলেন। কুশিনগর বনবিহার পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল চৌধুরী বলেন, গাড়ি থামানোর ঘটনাটি সঠিক, কিন্তু আর্মিরা লাঞ্চিত করেছে এটা সঠিক নয়, ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কুশিনগর বনবিহার ভান্তে শান্তিপদ ভিক্ষু এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা ধর্মীয় গুরু। গাড়ি থামিয়ে আমাদের জিগ্যাসাবাদ করেছে, তাতে আমরা কষ্ট পেয়েছি। তিনি বলেন, জীব হত্যা মহাপাপ। এ জন্য ইঁদুরটি না মেরে রাস্তায় ছেড়ে দেয়ার জন্য গাড়িতে করে নিয়ে যাই। আমাদের মনে আর কোনো উদ্দেশ্য ছিলনা, আমরা না বুঝেই ক্যাম্পের পাশে ছেড়ে দিয়েছি। এটাই আমাদের ভুল, অন্য কিছু নয় বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীছড়ি ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর ফেরদৌস বলেন, জোন সদরের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় কালর্ভাটের উপর কিছু একটা ফেলে চলে যান। পরবর্তিতে ভান্তেদের বহনকারি মাইক্রোবাসটি ফেরার পথে জোন সদরের আরপি চেক পোস্টে থামানো হয় এবং উপস্থিত ভান্তেদের অতি সম্মান ও শ্রদ্ধার সাতে ব্রিজের উপর  কি ফেলে গেছেন তা জনাতে চাওয়া হয়। উত্তরে ভান্তেরা বলেন, একটা ইঁদুর তারা ছেড়ে দিয়ে গেছেন। প্রাণী হত্যা মহাপাপ অন্যান্য জায়গায় খাদ্যের অভাব বিধায় তারা এখানে ছেড়ে দিয়ে গেছেন। পরবর্তিতে ভান্তেদের নাম, ঠিকানা রেখে অতি অল্প সময়ে মধ্যে মাইক্রোবাসটি ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ভান্তেরা সমাজের অত্যান্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তি। তাদেরকে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচারিত হলে জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। ভান্তেদের লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনাটি মোটেও সত্য নয় বলে তিনি জানান।