জাতীয় সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

উপজাতীয় জনপ্রতিনিধির ব্যানারে ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট: রাঙামাটির নান্যাচরসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রের একটি বিশেষ মহলের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ ও জোরপূর্বক চাঁদা আদায়সহ নানান অপকর্মের প্রতিবাদে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসাধারণের ব্যানারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮) বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ২নং রাঙামাটির নান্যাচর ইউপি চেয়ারম্যান জ্যোতিলাল চাকমা, ১নং সাবেক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান সুপন চাকমা। এতে সংহতি জানিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল’র সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক বরুণ চাকমা ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ’র সভাপতি বিনয়ন চাকমা। এছাড়া সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ৩নং বুড়িঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রমোদ বিকাশ চাকমা, ৪নং ঘিলাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান অমল কান্তি চাকমা ও নান্যাচর এলাকার মুরুব্বী সঞ্চয় চাকমা।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত বছর ১৫ নভেম্বর ‘নব্য মুখোশ বাহিনী’ গঠন হওয়ার পরদিন ১৬ নভেম্বর থেকে রাষ্ট্রের একটি বিশেষ মহলের মদদে নান্যাচর উপজেলায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাণ্ডব শুরু হয়। সংস্কারবাদী জেএসএস (এমএন লারমা)-এর সাথে মিলে উক্ত নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা বিশেষ মহলটির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ উপজেলার প্রতিটি পাড়া থেকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, উক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাত থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। তাদেরকেও খোদ উপজেলা সদর থেকে একাধিকবার অপহরণের চেষ্টা করা হয়। সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে উপজেলার ৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ অধিকাংশ ইউপি সদস্য এলাকায় যেতে পারছেন না।

বক্তারা আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা একের পর এক খুন, অপহরণ এবং জনসাধারণের কাছ থেকে তথাকথিত গণবাজেট ও সামরিক বাজেটের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করলেও প্রশাসন এর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা আারো বেশি বেপরোয়া হয়ে এলাকার জনগণের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনা সেখানেই শেষ নয়, উক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ জনসাধারণের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এসব মামলায় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ সাধারণ মানুষ ও ইউপিডিএফ-এর নেতা-কর্মীদের কল্পিত আসামী বানিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় পাইকারিভাবে হয়রানিমূলক গণমামলা দায়ের করা হয়েছে।

বক্তরা অবিলম্বে রাষ্ট্রের বিশেষ মহল কর্তৃক সংস্কারবাদী জেএসএস ও নব্য মুখোশবাহিনী সন্ত্রাসীদের মদদদান বন্ধের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে খুন, অপহরণ ও অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় বন্ধ করা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নিরীহ জনসাধারণ ও ইউপিডিএফ-এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মৎস্যভবন মোড় প্রদক্ষিণ করে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।