চট্টগ্রাম সংবাদরাঙ্গুনিয়াশিরোনামস্লাইড নিউজ

মাদকের ভয়াল ছোবলে রাঙ্গুনিয়ার যুব সমাজ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মাদকের ভয়াল ছোবলে রাঙ্গুনিয়ার যুবসমাজ। ধ্বংসের মুখে নতুন প্রজন্ম। মাদক এখন এতো টাই নিকটে যা হাত বাড়ালে পাওয়া যাচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। প্রকাশ্যে চলছে মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়। দেখার যেন কেউ নেই। উপজেলার চিহ্রিত কোন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে রাঙ্গুনিয়ার শীর্ষ মাদক কারবারি রানীরহাটের আজিজুল হক প্রকাশ জলিক্কা, চন্দ্রঘোনার আমির হামজা প্রকাশ হামজু, রোয়াজারহাটের কালু, রানীরহাটের জলিক্কার পুত্র ইকবাল হোসেন সহ একডজন শীর্ষ মাদক কারবারি গা ঢাকা দেয়। পুলিশ মাদক আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তাঁরা আতœগোপনে চলে গেলেও একদিনের জন্যও মাদক বিক্রয় বন্ধ হয়নি। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় অর্ধশতাধিক স্পটে কৌশল ও বিভিন্ন পন্থায় মাদক বিকিকিনি করছে।

সূত্র জানায়, পুলিশ অভিযানে যাওয়ার আগে কথিত সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা সর্তক হয়ে যায়। যার ফলে পুলিশ মাদক আস্তানায় অভিযান চালিয়ে কাংখিত সুফল পায়না। অপরাধীর বিভিন্ন জায়গা থেকে কথিত সোর্স নামধারীরা পুলিশের নামভাঙ্গিয়ে অবৈধ টাকা উত্তোলন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চন্দ্রঘোনার এক স্কুল শিক্ষক বলেন, অপসংস্কৃতি ও মাদকের ছোবলে ধ্বংসের পথে এখানকার যুবসমাজ। উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা নেশায় আসক্ত হচ্ছে, অশ্লীলতার ছোবলে হারাচ্ছে নৈতিকতা। অবশেষে পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে তারা। আর এর পেছনে কারণ হিসেবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। রাজানগর ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ মুছা বলেন, স্কুল বা কলেজ থেকেই নেশার দিকে হাত বাড়ায়। ধীরে ধীরে বন্ধুদের আড্ডায় শুরু করে গাঁজা সেবন। সিগারেট ও গাঁজার পাশাপাশি তার নেশার উপকরণে যুক্ত হয় ফেনসিডিল। বছর দুয়েক হলে মরণ নেশা ইয়াবা ও হেরোইনে আসক্ত। এভাবে একজন শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হয়ে উঠে।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, সর্বত্র মাদকের ছড়াছড়ি। ঘরের বাইরে বেরিয়ে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে চোলাইমদ, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা। প্রতিদিনই ধরা পড়ছে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। কিন্তু কোনভাবেই দমন করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন পর্যায়ে মাদকের কুপ্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চুরি ও অপরাধের ঘটনা ঘটছে।

পৌর এলাকার মো. আবু সায়েম নামের এক হাই স্কুল শিক্ষক তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, এলাকায় প্রতিনিয়ত একাধিক চুরির ঘটনা ঘটছে। মাদকের টাকা জোগার করতে এসব ঘটনার জন্ম হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন। ইতিমধ্যে চুরি ও মাদকের বিরুদ্ধে গনসচেতনতা ও প্রতিবাদ সভা সহ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করেছে রাঙ্গুনিয়া পৌর এলাকার সচেতনমহল।
রাঙ্গুনিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি চোলাই মদ পাচারকারী চন্দ্রঘোনা ফেরীঘাটের সাহারা খাতুন, গোছরার মাদক বিক্রেতা এক মহিলাসহ অর্ধশতাধিক মদ-ইয়াবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্বরাস্ত্র মন্ত্রানালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী মরিয়ম নগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা আলতাফ হোসেন প্রকাশ কানা আলতাফ সম্প্রতি দুবৃর্ত্তদের গুলিতে মারা যান।

সরফভাটা সিএনজি চালক মো. রবিউল হোসেন জানান, রাঙ্গুনিয়ায় মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পেঁছনে সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অনেকই অবৈধ নেশাজাত দ্রব্যের আমদানিকারক হলেও তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। ইসলামপুরের মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটা অভিভাবক আজ তাদের প্রিয় সন্তান নিয়ে চিন্তিত। মাদকের ছোবল থেকে বাদ যায়নি স্কুল, কলেজ ছাত্র-ছাত্রীরাও। তাই মাদকের এই করাল ছোবল থেকে বাঁচতে হলে, মাদক সম্বদ্ধে সচেতন হতে হবে, সন্তানের প্রতি অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সমাজের ব্যক্তিবর্গদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সবার একান্ত প্রচেষ্টার সমন্বয়ে সমাজ কে মাদক মুক্ত করা সম্ভব।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা রাঙ্গুনিয়া শাখার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার বলেন, সমাজের বা সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে, যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কে রোধ করার জন্য তাদের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার ধারণা তৈরি করা। এখানে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার ব্যাপারে। তারপর সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন, স্কুল-কলেজ এবং গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে হবে। গণমাধ্যমে যদি এসব বিষয়ের ক্ষতিকর দিক ও প্রভাব তুলে ধরা হয়, তারা যদি এ ধরনের কাজ যে গর্হিত অপরাধ এবং এটা করা অনুচিত এ বিষয়টিকে প্রচার করেন তাহলে বিষয়টির ব্যাপারে সচেতনা সৃষ্টি হতে পারে এবং মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে পরিবার ও দেশকে রক্ষা করতে হলে আগে দরকার পরিবারের সচেতনতা।