কক্সবাজারচট্টগ্রাম সংবাদস্লাইড নিউজ

বিদ্যুৎ খাতে নতুন সম্ভাবনা টেকনাফের সোলার পার্ক

ঢাকা অফিস: প্রথম বারের মতো দেশের সর্ববৃহৎ ২০ মেগাওয়াটে সোলার পার্ক চালু হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে। এটি বাস্তবায়ন করেছে জুলস পাওয়ার লিমিটেড (জেপিএল)। টেকনাফ উপজেলার গ্রাহকের চাহিদার ৮০ শতাংশই সরবরাহ হচ্ছে এ সোলার পার্ক কেন্দ্র থেকে। জুলস পাওয়ার লিমিটেড ও টেকনাফ সোলারটেক এনাজি লিমিটেডের পরিচালক নোহর লতিফ খাঁন বলেন, উপজেলার হ্নীলার আলীখালীতে ১১৬ একর জমিতে ২০ মেগাওয়াটের সোলার ২০ মেগাওয়াটে প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এ সোলার থেকে উৎপাদিত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। জানা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এবং ব্যক্তি খাতের বিভিন্ন কোম্পানির আওতায় নির্মাণাধীন রয়েছে ৩৪টির মতো সোলারপার্ক বা সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প। এটি দেশে সর্ববৃহৎ ২০মেগাওয়াট ক্ষমতার সম্পন্ন সোলারপার্ক।

টেকনাফের হ্নীলার আলীখালী এলাকায় যুক্তরাজ্যের প্রোইনসোর সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জুলস পাওয়ার লিমিটেড। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সেবা দিয়েছে টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড (টিসিইএল)। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলায় ৪০ হাজার বিদ্যুৎতের গ্রাহক আছে। এর মধ্যে টেকনাফে দৈনিক ১১ মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে। সোলার টেক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ স্থানীয়ভাবে চাহিদা পূরণ করে পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের পূর্বপাশে নাফনদীর তীর সংলগ্ন লবণ মাঠের ওপর এবং উপজেলার দক্ষিণ হ্নীলার আলীখালী এলাকায় টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড (টিসিইএল) বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অবস্থান।নদীর তীরে সারি সারি করে বসানো হয়েছে ৮৭ হাজার সৌর প্যানেল। প্যানেলগুলোর মাঝখানে রয়েছে পাঁচটি সাব-স্টেশন। একই সঙ্গে প্রকল্পে যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকটি সড়কও। এসব প্যানেল থেকে উৎপাদিত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রথমে মূল স্টেশনে রাখা হয়। পরে হ্নীলার লেদার পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড সরবরাহ করা হচ্ছে। টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড (সিএফও) মাহমুদুল হাসান বলেন, সোলারটেক প্রথম প্রকল্প হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়নে অনেক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার জটিলতাসহ নানা সমস্যা ছিল। তবে সরকারের আন্তরিকতায় প্রকল্পটি দ্রুততার সঙ্গেই শেষ করা গেছে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জেপিএলের সঙ্গে বিপিডিবির চুক্তি হয়। এরমাত্র ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়।

দেশের প্রথম সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে উৎপাদন শুরু করেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ কিনে জাতীয় সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে গ্রাহকের সরবরাহ করছে। সাংসদ আবদুর রহমান বদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে কাজ করছে। এর মধ্যে টেকনাফে চালু হয়েছে সৌর বিদ্যুতের দেশের সর্ববৃহৎ সোলার পার্ক। টেকনাফ মূলত বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে রয়েছে একটি স্থলবন্দরও। যার কারণে এখানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু সবসময় তা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কেন্দ্রটি উপজেলায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দূর হবে দীর্ঘদিনের ঘন ঘন লোডশেডিং সমস্যাটিও। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎতের জোনাল কর্মকর্তা মিনারুল ইসলাম পরির্বতন ডটকমকে বলেন, এ প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে তারা প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া শুরু করেছে। এ প্রথম টেকনাফ থেকে সূর্যের আলোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হয়েছে। ২০ মেগাওয়াটের এ প্রকল্পটি সোলার পাওয়ার হিসেবে একটি বড় প্রকল্প। এ প্রকল্পটি চালু হওয়াই আর তেমন সমস্যা পোহাতে হবে না স্থানীয় গ্রাহকদের।