খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদচট্টগ্রাম সংবাদপাহাড়ের সংবাদফটিকছড়িলক্ষ্মীছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই শিক্ষার আলো ছড়াতে এগিয়ে এলেন জিওসি

মোবারক হোসেন: ২৯ অক্টোবর সোমবার। সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। আবহাওয়ার নিন্মচাপের সতর্কতা জারি। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি মতে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান লক্ষ্মীছড়ি সফরে এসে একটি স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন ধার্য ছিল আজ। সকাল ৯টায় আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি। বেলা ১১টায় ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হবে বাইন্যাছোলা-মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের। এর মিলিত হওয়ার কথা মতবিনিময় সভায়। লক্ষ্মীছড়ি জোন সদর পরিদর্শন করবেন বলে কর্মসূচিতে রয়েছে। কিন্তু বাধা এক মাত্র আবহাওয়া। পিপঁড়ার মত মানুষের ঢল। মঞ্চ ছাড়িয়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে গেলো বাইন্যাছোলা ক্যম্প সংলগ্ন পুরো এলাকা। সাজ সাজ রব। এ যেন এক উৎসবের আমেজ। প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান। ইতি মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাজেদুল ইসলাম ও লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: মিজানুর রহমান। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সংবাদ কভার করতে লক্ষ্মীছড়ি, গুইমারা, ফটিকছড়ি ও চট্টগ্রাম থেকে সাংবাদিকরাও হাজির। দুই উপজেলার সরকারি কর্তা ব্যাক্তি, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিরাও উপস্থি হলেন। এখন শুধুই অপেক্ষার পালা। ছেলে-মেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আলোকিত জীবন গড়তে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হতে যাচ্ছে, কম প্রত্যাশা নয়, যা বিরল দৃষ্টান্ত। বৃষ্টি তখনো হচ্ছে। লক্ষ্মীছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর জান্নাতুল ফেরদৌস মাইকে ঘোষণা দিলেন। জিওসি স্যার লক্ষ্মীছড়ি আসার জন্য প্রস্তুত কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টারে ঝুঁকি থাকায় সড়ক পথেই রওয়ানা দিয়েছেন। একটু সময় নেয়ার জন্য দু:খ প্রকাশ করলেন তিনি।

কয়েক মিনিট পরেই জানানো হলো। জিওসি স্যার বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সবার কথা চিন্তা করে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক অনন্য অবদান রাখতে জীবনের ঝুকি নিয়েই হেলিকপ্টারে যাত্রা করেছেন। সবার মুখে হাসি ফুটলো। হাতে একটু সময় থাকায় সকলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখলেন লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মিজানুর রহমান। মাইক্রফোন দিলেন কাঞ্চননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রশিদ উদ্দিন চৌধুরী কাতেব এর হাতে। তিনি বক্তব্য রাখলেন। এর পর একে একে লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবিল কুমার চাকমা, ফটিকছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌস হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য রাখলেন। সুযোগ নিয়ে বক্তব্য রাখলেন, সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী, আবু মুসা জীবন, বিশ্বজিৎ রাহা ও মো: মোবারক হোসেন। ঠিক ১৫/২০ মিনিটের মাথায় হেলিকপ্টারের শব্দ। এসে গেছেন প্রধান অতিথি। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে তখনো। বৃষ্টিতে ভিজেই উপস্থিত জনতা অধিক আগ্রহে অপেক্ষা করছেন প্রধান অতিথির বক্তব্য শুনার জন্য। এলাকাবাসীর পক্ষ হতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বহু প্রতিক্ষীত বাইন্যাছোলা-মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়ার ঘোষণায় সকলের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এ সময় মঞ্চ থেকে আওয়াজ আসে এ এলাকা আর অবহেলিত ‘থাইক তো ন’। ‘আরার ছেলে-মেয়েদের দু:খ কমি গেল’। উচ্চ শিক্ষা থেকে আর বঞ্চিত হবে না এখানকার ছেলে-মেয়েরা।

উল্লেখ্য সেনাবাহিনীর উদ্যোগে লক্ষ্মীছড়ি-ফটিকছড়ি সীমান্তে মাধ্যমিক শিক্ষার আলো ছড়াতেই এ পদক্ষেপ। লক্ষ্মীছড়ি ও ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী ১৫টি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এতোদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে যেতে হতো ১০ কিলোমিটার দূরের হাই স্কুলে। ভৌগলিক দুর্গমতা-সামাজিক নিরাপত্তা আর দারিদ্র্যের কারণে অনেক পরিবারের সন্তানরা প্রাথমিকে পাঠ শেষ করতে বাধ্য হতো। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এতো দূরের বিদ্যালয়ে পায়ে হেঁটে স্কুল করাও দুরুহ ছিল।

আর এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সমস্যাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে দুই উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা অনুরাগীদের সাথে নিয়ে ‘বাইন্যাছোলা-মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন লক্ষ্মীছড়ি জোন অধিনায়ক লে: কর্নেল মিজানুর রহমান।

আর এ কাজে সার্বিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ান গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম সাজেদুল ইসলাম। স্বপ্ন পূরণ হলো এলাকাবাসীর, শুরু হলো শিক্ষার আলো ছড়াতে এ যেনো এক নতুন দিগন্তের।