খাগড়াছড়িগুইমারাপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

খাগড়াছড়িতে ভূমি হারানো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ায় নি কেউ

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি: আমার পিতার রেখে যাওয়া পৈত্তিক সম্পত্তির উপর গড়ে উঠলো গুইমারা বাজার। ভেবে ছিলাম ভুমির মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে নূন্যতম তিপুরণ বাড়ানো হবে সাহার্য্যরে হাত, দীর্ঘ দিন ফেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করা হয় নি সেই জায়গাও। দীর্ঘ তিন যুগেও মিলেনী নুন্নতম তিপূরণ। বর্তমানে সেই আশাও যেন এখন  মরিচিকা।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ১৯৭নং গুইমারা মৌজার বাসিন্দা ৯০ উর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্বাই মারমা মানবেতর জীবন যাপনের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে কান্না জড়িত কন্ঠে এ সব কথা বলেন।

খাগড়াছড়িতে দীর্ঘ তিন যুগেও মিলেনী তিপূরন,উদ্ধার হয়নী পৈত্তিক সম্পত্তি। অর্ধহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন কাটছে অসহায় এ পরিবারটির। তিনি জানান, ব্রিটিশ সরকার আমলে সমতল থেকে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে আসেন আব্বাই মারমার নানী জগাদি মগীনি ও তার স্বজনরা। তার কোন ওয়ারিশ না থাকায় আব্বাই মারমার পিতা অংক্যয় মারমা এ ভূমির মালিক হয়। পিতার মৃত্যর পর ওয়ারিশ সূত্রে ভূমির মালিক হয় আব্বাই মারমা। সেই ব্রিটিশ সরকারের সময় থেকে গুইমারার দার্জিলিং টিলায় তাদের বসবাস। পৈত্তিক প্রাপ্ত সম্প্রত্তি বর্তমান গুইমারা বাজারের আওতাই পরলেও ওয়ারিশদের ভাগ্যে মিলেনী দেড় একর জায়গার তিপুরণ। এখন পরিশোধ করে যেতে হচ্ছে সরকারী খাজনা। বংশানুক্রমে পৈত্তিক ওয়ারিশ সূত্রে জায়গার মালিক পিতা: মৃত অংক্যয় মারমা ও পরে আব্বাই মারমা নিজে।

সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর বদল হতে থাকে বাংলাদেশের দৃশ্যপট। এরই ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয় গুইমারায় বাজারের। পার্বত্য জেলা পরিষদের আওয়াধীন এ বাজারে কোন ধরনের তিপূরণ ছাড়াই আব্বাই মারমার পৈত্তিক সম্পত্তি চলে বাজারের আওতাই। ১৯৭নং গুইমারা মৌজার ৯২নং হোল্ডিং ১১৮নং খতিয়ানের ৬০২নং জরিপ দাগের প্রায় দেড় একর জায়গা বাজারে আওতায় পড়ছে বলে দাবী করেন তিনি। এ ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে বলে জানিয়ে এ অসহায় অন্ধ বৃদ্ধ বলেন, বর্তমান সময়ে মিড়িয়া সকল অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে অনেক সচ্চার তাই এ ভূমির বিষয়ে সুষ্ঠ তদস্ত করে এ অসহায় পরিবারের পাশে দাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি। এ সময় সুষ্ঠ তদন্ত ও সঠিক ন্যয় বিচার দাবী করে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেন আব্বাই মারমা।

তবে বিষয়টি নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক, বাজার ফান্ড,বাজার চৌধুরী,উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিত ভাবে একাদিক বার আবেদন নিবেদন করা হলেও তার কোন ফল হয়নী বলে জানান তিনি। এছাড়াও দূর্বিসহ জীবন আর অসহায়ত্বর কথা কেঁধে উঠে বলেন, বর্তমানে অসহায় মানুষের পাশে কেউ থাকেনা। তিনি মৃত্যুর আগে তার পিতার রেখে যাওয়া এ সম্পত্তির তিপূরণ পেলে ছেলে-মেয়ে আর নাতী-নাতনিদের সুন্দুর ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পুরণের জন্য নুন্যতম লেখা-পড়ায় সু-শিায় শিক্ষিত করাসহ বসবাস উপযোগি বাসস্থান তৈরি করে ছেলে বেঁচে থাকার মত কর্মসংস্থান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানান।

এ বিষয়ে বর্তমান বাজার মূল্যে জায়গার তিপুরণ পেতে সরকারের হস্থপে ও বর্তমান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেন অসহায় আব্বাই মারমা ও তার পরিবার।

Comment here