খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

আত্মসমর্পণ করে যা বললেন ইউপিডিএফ ‘র বিচার বিভাগের পরিচালক আনন্দ চাকমা

এস. এম. ইউছুফ আলী, খাগড়াছড়ি: ছিলাম শান্তিবাহিনী, পরে যোগ দিলাম ইউপিডিএফ’এ। এভাবে জীবনের ৩৬টি বছর কাটলো যে অধিকার আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তা কতটুকু বাস্তবসম্মত ছিল বা কতটুকই সত্যিকারার্থে সাধারণ মানুষের দাবি পূরণ করতে পেরেছে সে কথাই সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরলেন অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবেন ফিওর আসা সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণকারী আনন্দ চাকমা (সাংগঠনিক নাম পরিচিত)।

৬ ডিসেম্বর বৃহপতিবার ইউপিডিএফ’র বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক আনন্দ চাকমা ওরফে পরিচিত ৭.৬৫ এমএম বিদেশী পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন। মাহালছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মোস্তাক আহমদ এর নিকট আত্বসমর্থন করার পর খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আনন্দ চাকমা বলেন, আমার আসল নাম আনন্দ চাকমা আর সাংগঠনিক নাম পরিচিত। আমি ইউপিডিএফ (মূল) এর নানিয়ারচর সার্কেলের বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি ৩৬ বছর ধরে জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে সংগ্রামী জীবন যাপন করছি। এর আগে আমি শান্তিবাহীনীতে ছিলাম, বিগত ৪ বছর ধরে ইউপিডিএফ এর সাথে আছি কিন্তু দঃখের বিষয় পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে এবং তাদের উন্নতির যে লক্ষ্য নিয়ে যুবক বয়সে এই আনন্দলনের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম তা থেকে বর্তমান ইউপিডিএফ সম্পূর্ণভাবে বিচ্যুত। আজকের ইউপিডিএফ এর কোন নীতি নেই, কোন আদর্শ নেই। তারা সকলেই রক্তের নেশা ও ক্ষমতার মোহে পড়ে আছে।

চাঁদাবাজি, মানুষকে হয়রানি আর ভয়ভীতি ও অন্যায় অত্যাচার করে সকলেই নিজের আখের গুছাতে ব্যস্ত। গুম, খুন, হত্যা ও অপহরণই বর্তমানে তাদের আসল কাজ। ইউপিডিএফ (মূল) এর কাছে স্বজাতীয় কোন ভাইবোন নিরাপদ নয়। এরকম পরিস্থিতিতে তাদের সাথে আমার থাকা সম্ভব না সেকারণেই আমি আত্বসমর্থন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলাম। তিনি তার ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা ও পূনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দাবি জানান।