কাপ্তাইচট্টগ্রাম সংবাদরাঙ্গামাটি সংবাদরাঙ্গুনিয়াশিরোনামস্লাইড নিউজ

কাপ্তাইয়ে ২ জন নিহতের ঘটনায় চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়কে অবরোধ

শান্তি রঞ্জন চাকমা, রাঙ্গুনিয়া(চট্টগ্রাম) : কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা রাইখালী ইউনিয়নের কারিগর পাড়া এলাকায় দুইজনকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়কে প্রায় ঘন্টাব্যাপী অবরোধ করা হয়েছে। অবরোধ চলাকালে সড়কের দু’পাশে শতশত যানবাহন আটকে যায়। এতে দুরপাল্লার যাত্রীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুপুরে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অবরোধের সময় সড়কের রাইখালী এলাকায় প্রতিবাদ সভার অনুষ্টিত হয়। রাইখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মংখ্য মারমার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী। সভায় নিহত দুইজনকে রাইখালী ইউনিয়ন আওয়ামী ও যুব লীগের সক্রিয় সদস্য দাবী করা হয়। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানানো হয় এবং এলাকায় নিরাপত্তার জন্য ভাল্লুকিয়া এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবী জানানো হয়।

সূত্র জানায়, রাইখালী কারিগর পাড়া এলাকায় গত সোমবার বিকালে সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) রাইখালী ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি মংসিনু মারমা (৪০), যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (২৭) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। সম্প্রতি মংচিনু মারমা আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ছেড়ে (জেএসএস সংস্কার) যোগ দেয় এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালান। এ নিয়ে স্থানীয় সশস্ত্র আঞ্চলিক দু’দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত এক মাস যাবত উত্তেজনা বিরাজ করছিল। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরহস্তে দমন না করলে খুনের বদলা হিসেবে দু’দলের মধ্যে আরো রক্তপাতের আশংকা করছে স্থানীয়রা।

রাইখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ কারবারী বলেন, নিহত মংচিনু মার্মা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং জাহিদ যুব লীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা দলের পক্ষে ভুমিকা রাখেন। নির্বাচনী বিরোধের জের ধরে জনসংহতি সমিতির সন্ত্রাসীরা হত্যকান্ডের সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনও থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশ্রাফ উদ্দিন বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় কেউ মামলা করতে আসেননি।