চট্টগ্রাম সংবাদধর্ম ও জীবনশিরোনামস্লাইড নিউজ

মাইজভাণ্ডারী’র দর্শন বৃহত্তর পরিমন্ডলে তুলে ধরেছেন হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের দূর দূরান্ত থেকে আসা লাখো ভক্ত জনতার আমিন আমিন ধ্বনীতে আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে শেষ হয়েছে হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর ৮২ তম খোশরোজ শরিফ ও মাইজভাণ্ডার রহমানিয়া মইনীয়া মাদ্রাসার ৩১তম সালানা জলসা। খোশরোজ শরিফ উপলক্ষে আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ১০ ফেব্র“য়ারি রবিবার, চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে ব্যাপক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন মাইজভাণ্ডার রহমানিয়া মইনীয়া মাদ্রাসার বার্ষিক সভা ও দস্তরবন্দি অনুষ্ঠিত হয়। রহমানিয়া মইনীয়া হেফজখানা ও এতিমখানার হেফজকৃত ৯জন কুরআনে হাফেজকে দস্তরবন্দি করা হয়।

খোশরোজ শরিফ মাহফিলে সভাপতিত্ব ও অশান্ত বিশ্বে শান্তি, জননিরাপত্তা ও সর্বমানবতার কল্যাণ কামনা করে আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজ প্রেসিডেন্ট শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (মা.জি.আ.)। তিনি বলেন, স্বদেশী ঘরানার এখানকার মাটি ও মানুষের উপযোগী ত্বরীক্বা ও দর্শনের নামই হচ্ছে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীক্বা। গণকল্যাণ, সর্বজীবের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ সুধা বিলানো এবং অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদই মাইজভাণ্ডারী ত্বরীক্বা ও দর্শনের মূলকথা। সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেন, স্বদেশী চেতনা লালনকারী ও মাইজভাণ্ডারী ত্বরীক্বা দেশ ও বহির্বিশ্বে এমনকি জাতিসংঘে পর্যন্ত বৃহত্তর পরিমন্ডলে তুলে ধরে যুগনন্দিত সংস্কারকের ভূমিকাই পালন করেছেন হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ। এজন্য তাঁর কীর্তি ও অবদান চির অম্লান হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, আজ বিশ্বজুড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও হানাহানিতে বিশ্ব থেকে শান্তি উধাও হয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশে সহিংসতা ও নৃশংসতায় নিরীহ মানুষের জান মালের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

অথচ জাতিসংঘসহ বিশ্ব সংস্থাগুলো সহিংসতার কবল থেকে নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে বাঁচাতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। ফিলিস্তিনে রক্ত ঝরছে। ইয়েমেনে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে রক্তের প্লাবন বয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হায়েনাদের জঘন্য নৃশংসতার সাক্ষী আজ বিশ্ববাসী। এই নৃশংসতা ও বর্বরতার রাশ টেনে ধরতে হলে ইসলামের শান্তি ও মানবতাবাদের শিক্ষাকে সর্বোতভাবে অনুসরণ করতে হবে। ওলী বুজুর্গদের চর্চিত শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতাবাদের আদর্শে স্বস্তিময় মানবিক বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান তিনি। খোশরোজ মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহ্জাদা সৈয়দ মেহবুব-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী, শাহ্জাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী (মা.জি.আ.), হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রস্টের মহাসচিব খলিফা অ্যাডভোকেট কাজী মহসীন চৌধুরী। আলোচক ছিলেন আন্জুমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপাতি এডভোকেট ওয়াজ উদ্দীন মিয়া, আল্হাজ্ব কবীর চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলমগীর খাঁন, প্রচার সম্পাদক হযরত মাওলানা রুহুল আমীন ভুঁইয়া চাঁদপুরী, সহপ্রচার সম্পাদক শাহ্ মো: ইব্রাহিম মিয়া, হযরত মাওলানা মুফতী খাজা বাকী বিল্লাহ আল-আজহারী, মাওলানা বাকের আনসারী, মাওলানা আব্দুস ছাত্তার ছিদ্দিকী, মাওলানা হাসান প্রমুখ।

সালাত সালাম শেষে বিশ্বের নিপীড়িত মানবতার পরিত্রাণ এবং দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি কল্যাণ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। -বার্তা প্রেরক (শাহ্ মুহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া) কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া।