Thursday , 21 June 2018
বৈ-সা-বি উৎসবে মাতোয়ারা পাহাড়

বৈ-সা-বি উৎসবে মাতোয়ারা পাহাড়

জিয়াউর রহমান জুয়েল, কাউখালী: পাহাড়ি সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈ-সা-বি ও বাংলা নববর্ষ বরণকে  ঘিরে পাহাড় যেন উৎসবে মাতোয়ারা। প্রতিটি এলাকা সেজেছে বর্ণিলরূপে। এবারও বেশ আনন্দমূখর পরিবেশে বৈ-সা-বি ও বাংলা নববর্ষ পালনের জন্য নানা অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বাগুলো তাদের ধর্মীয় আদর্শে এ উৎসব পালন করবে। এ উপলে ১০ এপ্রিল রবিবার সকাল দশটায় কাউখালীর ঘাগড়ায় আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

পার্বত্য জেলায় ১১টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের লোকজনের সংস্কৃতি ও বৈচিত্র সংরণে এগিয়ে আসার আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হয় এবারের আয়োজন। এ উপলে সকাল ১০টায় ঘাগড়া কলেজ মাঠে সকল শ্রেণী পেশার মানুষে অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল শোভাযাত্রা। সাবেক মেম্বার শরৎ চন্দ্র চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত র‌্যালীর উদ্বোধন করেন জনসংহতি সমিতি কাউখালী শাখার সভাপতি সুবাষ চাকমা, এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পিসিপি কাউখালী শাখার সভাপতি কাজল চাকমা, সাধারণ সম্পাদক চাইহলাপ্রু মারমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, ধারশমনি চাকমা। শোভাযাত্রাটি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে ঘাগড়া বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদণি শেষে পূনরায় কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। বিকেলে আয়োজ করা হয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলা নববর্ষকে পাহাড়ের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে পালন করে থাকে। নিয়মানুযায়ী আগামী ১২ ও ১৩ এপ্রিল চাকমা সম্প্রদায় পালন করবে বিজু। ১৩, ১৪ ও ১৫ এপ্রিল মারমা সম্প্রদায় পালন করবে সাংগ্রাই অনুষ্ঠান। বর্ষবরণকে ঘিরে পার্বত্য জেলা এখন যেন উৎসবে মাতোয়ারা। অনুষ্ঠানকে সফল করতে পাড়ায় পাড়ায় চলছে ব্যাপক প্রচারণা। ব্যানার ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে প্রতিটি অলি গলি। নিত্য নতুন পোষাকে সজ্জিত শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ পর্যন্ত। বিশেষ দিনে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে সংগ্রহের ভান্ডারে জামা করছে রকমারি তরিতরকারি।

চৈত্রের শেষ দিনকে মূল বিঝু হিসেবে পালন করা হয়। এটাই হচ্ছে মূল উৎসব। এই দিনে সবার ঘরে অন্তত পাঁচ পদের তরিতরকারী মিলিয়ে বিশেষ ধরণের “পাঁচন” রান্না করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পিঠা, তিলের নাড়–, বিন্নি ধানের খই ও মিষ্টি তৈরী করা হয়। এর পাশাপাশি অতিথিদের বিশেষ পানিয় পরিবেশন করা হয়। চাকমা যুবতী মেয়েরা তাদের কোমড়ে তাঁদের বোনা রাঙ্গা খাদি এদিন বুকে জড়িয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়। তাছাড়া যুবক-যুবতীরা এক সঙ্গে ঘিলা, পোত্তি (বউচি) প্রভৃতি খেলায় মেতে উঠে। পাহাড়ের মানুষের একটাই কমনা কোন ধরণের সংঘাত সহিংসতা ছাড়াই যেন বরণ করা যায় বাংলা নববর্ষকে।

Share This:

Leave a Reply

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes