পাহাড়ের সংবাদরামগড়

রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন থেকে আজকের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ

18রামগড় প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলায় বিজিবি এর জন্ম সম্পর্কিত ঐতিহাসিক স্থানটি রামগড় উপজেলা পরিষদের পাশে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর গোড়াপত্তন হয় রামগড়ে। কালের বিবর্তনের ফলে বিভিন্ন সময় এর নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন নামে। ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন ৪৪৮ জন সৈন্য সংখ্যা নিয়ে এই বাহিনীর সৃষ্টি হয়। ৬ পাউন্ড গোলা, ৪টি কামান ও ২টি অনিয়মিত অশ্বরোহী দল নিয়ে গঠিত হয় সেদিনের রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন।

১৮৬১ সালে পূর্বাঞ্চলের নিয়মিত ও অনিয়মিত পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়নকে নতুন ভাবে ফ্রন্টিয়ার গার্ডস নামে পূর্ণগঠিন করা হয়। যার সদস্য সংখ্যা ১৪৫৮ জনে উর্ত্তিন্ন করে চট্টগ্রামে সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। ১৮৭৯ সালে স্পেশাল রির্জাভ কোম্পানী নামে এ বাহিনী তৎকালীন সদস্যদের নিয়ে পিলখানায় প্রথম ঘাঁটি স্থাপন করা হয়।

সে থেকে অদ্যাবধি পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র কর্মকান্ড অব্যাহত আছে। ১৮৯১ সালে বাহিনীর নতুন নামকরণ করা হয় বেঙ্গল মিলিটারী পুলিশ। ঢাকা, খুলনা, ভাগলপুর ও গ্যাংটকে ৪টি ব্যাটালিয়নে ভাগ করে কোম্পানীগুলোকে স্থানান্তর করে একজন ইউরোপীয় সুবেদারের অধীনস্থ করা হয়। ১৯২০ সালে কালের বির্বতনে বেঙ্গল মিলিটারী পুলিশকে ইন্টান ফ্রন্টিয়ার রাইয়েল্স নামে পুনঃ নামকরণ করে ১৬টি প্লাটুনে বিভক্ত করে সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাত্তা রক্ষায় নিয়োজিত করা হয়।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তের পর এ বাহিনীর নামকরণ করা হয় ইষ্ট পাকিস্তান রাইয়েল্স (ইপিআর)। কলকাতা মেট্রোপলিটন আর্মড পুলিশের একটি দল পরবর্তীতে আরও তিন হাজার বাঙ্গালীকে নিয়োগ করে এ বাহিনীকে পূর্ণগঠিত করে দক্ষ নেতৃত্ব এবং দিক নির্দেশনার প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী থেকে অফিসার নিয়োগ করা হয়। ১৯৫৮ সালে এ বাহিনীকে প্রদান করা হয় চোরাচালান দমনের দায়িত্বে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য এ বাহিনীর ১৪২ জন সদস্য জাতীয় বীরত্বপূর্ণ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন যার মধ্য মরণোত্তর বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন ৯ জন, বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন ৪০ জন এবং বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন ৯১ জন। দেশ স্বাধীনের পর নতুন আইন সংশোধন এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ইপিআর এর পোশাক পরিবর্তন সহ নতুন নামকরণ করা হয় বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেল্স)। পরবর্তিতে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানা সদর দপ্তরে অনাকাঙ্খিত বিভীষিকাময় অধ্যায়ের মাধ্যমে ২৩ জানুয়ারি ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র পতাকা উত্তোলন করেন।

৬ জুন ২০০৫ সালে রামগড় ৩৩ রাইফেল্স ব্যাটালিয়নের উদ্দ্যেগে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেল্স এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এনডিসসি.পিএসসি রামগড়ের অফিসটিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর দৃষ্টিনন্দন “রাইফেল্স স্মৃতিস্তম্ব” শুভ উদ্ভোদন করেন। কালের বিবর্তনের ফলে এখানে স্থাপন করা হয় বাহিনীটির ফোড়ামাটির তৈরী ৮টি অবয়ব সংবলিত ইতিহাস। এই স্মৃতিফলক স্থাপন করার ফলে ১৯২০ সালের প্রাচীন মহকুমা শহর রামগড়ের মান আরো উজ্জল হয়ে উঠেছে দেশ-বিদেশ ও পর্যটকদের কাছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট রামগড়বাসীর দাবী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জোয়ানদের আরো শক্তিশালী করার লক্ষে রামগড়ে রিক্রটিং (লোকভর্তি) কেন্দ্র এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর জাদুঘর স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিহিনীটির সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে আরো উজ্জল ভূমিকা রাখবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

Comment here