অন্য মিডিয়াচট্টগ্রাম সংবাদজাতীয় সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শাহেদ চৌধুরী
জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিতে। আগামী ডিসেম্বরে এ নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো চেয়ারম্যান পদে যে কোনো একজন প্রার্থীকে সমর্থনের সুযোগ পাবে। তবে ওই প্রার্থী দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ পাবেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি গত শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনার পর জেলা পরিষদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের আমলে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এসব নির্বাচনে বিজয়ীদের সিংহভাগই আওয়ামী লীগ সমর্থক। অর্থাৎ স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এ অবস্থায় ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিতে এ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাইছেন। ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে উপজেলা

পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সর্বশেষ পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ীদের দুই-তৃতীয়াংশই আওয়ামী লীগ সমর্থক। এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল রোববার সমকালকে জানিয়েছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে বিদ্যমান আইনে কিছু সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। তাই দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেছেন, দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও যে কোনো প্রার্থীকে সমর্থনের সুযোগ পাবে রাজনৈতিক দলগুলো। এ ক্ষেত্রে তারা বর্তমান সরকারের আমলে সিটি করপোরেশন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। ওই দুটি নির্বাচনে প্রার্থীরা দলের সমর্থন পেলেও দলীয় প্রতীক পাননি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের আভাস পাওয়া গেছে। কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পন্ন করছে। আগামীতে জেলা পরিষদ নির্বাচনও হবে। প্রধানমন্ত্রী এর আগে গত ২৮ মার্চ মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে জেলা পরিষদ নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাচকম লীতে রেখে পূর্ণাঙ্গ জেলা পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা বেশ পুরনো। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ লক্ষ্যে জেলা পরিষদ আইন-২০০০ পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে। আইনের ১৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র, কমিশনার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে নির্বাচকম লী গঠিত হবে।’

১৭(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ‘নির্বাচকম লীর সদস্য নন এমন কোন ব্যক্তি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।’ আইনের এ ধারা অনুযায়ী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের ভোটদানের মাধ্যমে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর একটি পূর্ণাঙ্গ পরিষদ গঠন করা হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত পাঁচজন নারী সদস্য নির্বাচন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার বাদে বাইরে থেকে কাউকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিতে চাইলে জটিলতা বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা ছাড়া বাকি ৬১টি জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। তখন স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলেছিলেন, ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন করা হবে। তবে তখন এ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সূত্র: সমকাল অনলাইন ভার্সন।

Comment here