অন্য মিডিয়াখাগড়াছড়িজাতীয় সংবাদঢাকাপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

রাষ্ট্রের একক চরিত্র বিধ্বংসী অসাংবিধানিক পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন বাতিল

স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনের বৈষম্যমূলক বিধানও বাতিল, রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতে সরকারের তাৎক্ষণিক আবেদন খারিজ
নাজমুল আহসান রাজু : পার্বত্য শান্তিচুক্তির অধীনে প্রণীত পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের একক চরিত্র ধ্বংস করার দায়ে বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। এক রায়ে আদালত বলেছেন পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন রাষ্ট্রের একক চরিত্রকে ধ্বংস এবং সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করেছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনে বিদ্যমান অ-উপজাতীদের (বাঙ্গালী) জন্য বৈষম্যমূলক বিধানও বাতিল করা হয়েছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির অধীনে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্রগ্রাম images-1-150x93আঞ্চলিক পরিষদ আইনসহ চারটি আইন প্রণয়ন করেছিল। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেন। রায় দেয়ার পরই সরকারের অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করতে এবং দ্রুত আপিলের জন্য সনদ চেয়ে আবেদন করলে তা নাকচ করে দেয়া হয়েছে। রায়ের ফলে পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত জ্যোতিরিন্দ্র বোধি প্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) তার পদ হারাবেন। পরিষদ গঠনের পর থেকে তিনি গত এক দশক ধরে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া পদাধিকার বলে পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে পার্বত্য চট্রগ্রাম ভূমি কমিশনের সদস্য হওয়ার সুযোগও আর তার থাকবে না। পার্বত্য শান্তি চুক্তির স্বাভাবিক কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে মন্তব্য করে হাইকোর্ট কোন সিদ্ধান্ত দেননি।
আদালতের রায়ের পর রিট আবেদনের কৌঁসুলি সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তির জীবন শেষ হয়ে গেছে। এই চুক্তি বৈধ না কী অবৈধ তা আর বলার প্রয়োজন নেই। শান্তি চুক্তির আলোকে প্রণীত পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন বাতিল করা হলো। ফলে আজ থেকে আঞ্চলিক পরিষদ আইন বলে কিছু থাকবে না। এই আইনের অধীনে এ পর্যন্ত যে সকল কাজ করা হয়েছে সব অবৈধ হয়ে গেল। হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, আঞ্চলিক পরিষদ আইন করে রাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি রাষ্ট্র গঠন করা হয়েছে যা সংবিধানের কাঠামোগত রাষ্ট্রের একক চরিত্র ধ্বংস করেছে। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিকভাবে আঞ্চলিক পরিষদ আইন করা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত অ-উপজাতীয় নির্ধারণের জন্য উপজাতীয় হেডম্যানের কাছ থেকে সনদ নেয়া, জমির মালিকানা না থাকলে ভোটার না করার বিধান এবং উপজাতীয়দের সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়ার বিধান অসাংবিধানিক বলে রায়ে বাতিল করা হয়েছে। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, হাইকোর্টের এই রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমরা একটি ভাল রায় পেয়েছি। বাতিল হওয়া এসব বিধানের কারণে পার্বত্য তিন জেলার বাঙ্গালীদের অধিকার হরণ হয়েছিল।
রায়ে পাঁচ দফা গাইড লাইন এবং পর্যবেক্ষণ দিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, সংবিধানের ৮ম সংশোধনীতে রাষ্ট্রের একক চরিত্রের কথা বলা হয়েছে। ১৯৯৮ সালের পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন রাষ্ট্রের সেই একক চরিত্রকে ধ্বংস এবং সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করেছে। এছাড়া সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে কেন্দ্রীয় সরকার (জাতীয় সংসদ) এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোন সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়নি। আঞ্চলিক পরিষদ আইনে পরিষদকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই পরিষদ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নয়। কিন্তু নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত পরিষদ পার্বত্য অঞ্চলে আলাদা একটি সরকারের মতো কাজ করছে। এ কারণে ১৯৯৮ সালের পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন অবৈধ ও অসাংবিধানিক। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দিতে যেয়ে রাষ্ট্রের বিশাল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। এটি সংবিধানের ২৭ অনেুচ্ছেদে উল্লেখিত সমঅধিকারের লঙ্ঘন।
শান্তিচুক্তি প্রসঙ্গে রায়ে আদালত বলেন, সশস্ত্র বৈরিতা সমাপ্তির জন্য রাষ্ট্রের বিবাদমান দুইটি পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটাকে রাষ্ট্রের আন্ত্য রাজনৈতিক সমঝোতা বলা যায়। এছাড়া এই চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিবদমান দুইটি পক্ষ অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার শর্তাবলী নির্ধারিত হয়। তাই এই চুক্তিকে শান্তি চুক্তি হিসেবে গণ্য করা যায়। সরকার ও উপজাতি নেতাদের মধ্যে সম্পাদিত এই রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছিল। ফলে এই চুক্তিকে সংবিধানের ১৪৫/১(ক) অনুচ্ছেদে বর্ণিত কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি বলা যাবে না। তাছাড়া এই চুক্তি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনারও কোন বিষয় নয়।
১৯৯৮ সালের তিন পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধিত) আইনের ৬(ঙ) ধারা অনুযায়ী উপজাতিদের হেডম্যানের দেয়া সনদ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের বাঙ্গালীরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ বা পাসপোর্ট তৈরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। ১১ ধারা অনুযায়ী কোন বাঙ্গালীর ওই অঞ্চলের জমির মালিকানা না থাকলে সেখানের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং ভোটার হতে পারবে না। কিন্তু জায়গার মালিকানা ও স্থায়ী বাসিন্দা না হলেও দেশের যেকোন নাগরিক পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া দেশের অন্য যেকোন স্থানে ভোটার হতে পারে। ফলে এই ধারার মাধ্যমে অ-উপজাতিদের ওই অঞ্চলের ভোটার হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ১৫(খ) ধারা অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার সকল নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতিরা অগ্রাধীকার পাবে।এছাড়া ২৮ ধারার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে পুলিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতিরা একতরফাভাবে অগ্রাধিকার পায় এবং জেলা পরিষদ তাদের নিয়োগ দেয়। এ বিষয়গুলো সংবিধানের ২৭, ২৮(১), ২৯(১) এবং ৩১ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।
হাইকোর্টের পাঁচ গাইড লাইন:
১. পার্বত্য শান্তি চুক্তির স্বাভাবিক কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। চুক্তির আলোকে চারটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এই চুক্তির শর্তাবলী ওই আইনের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে। ফলে চুক্তিটির এখন আর কোন কার্যকারিতা নেই। এ কারণে এই চুক্তিটি আদালতের বিবেচনায় নেয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই।
২. পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ বাতিল হওয়ায় সরকার চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের জন্য ইচ্ছা করলে পার্বত্য পরিষদের আদলে বিধিবদ্ধ সংস্থা তৈরি করতে পারে। নির্বাচিত সদস্যের পরিবর্তে এই সংস্থার সদস্যরা হবেন সরকার মনোনীত।
৩. শান্তি চুক্তি সম্পাদনের পর দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারগুলো এখনও লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। আদালত মনে করে, শান্তি প্রক্রিয়া সকল রাজনৈতিক দলের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সকলের অংশিদারিত্ব প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক শাসন প্রক্রিয়াই হল এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ার প্রাণ। তাই এই অঞ্চলের সকল ক্ষেত্রে গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করতে হবে।
৪. সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বলা হলেও এই গোষ্ঠী কিভাবে নির্ধারিত হবে সে বিষয়ে কোন দিকনির্দেশনা নাই। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নির্ধারিত কমিশন বা সংস্থা অনগ্রসর জনগোষ্ঠী কারা হবেন তা নির্ধারণ করে। এই কমিশন বা সংস্থা জীবনযাত্রা, জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা, আয়, পোশাক, সামাজিক প্রেক্ষাপটসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী নির্ধারণ করে। ফলে আমাদের দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠী নির্ধারণ করতে রাষ্ট্রকে একটি যৌক্তিক ও সুবিধাজনক পদ্ধতি বের করতে হবে যেন রাষ্ট্র তাদের জন্য কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। এবং
৫. শান্তি চুক্তি সম্পাদন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং ভূ-কৌশলগত অবস্থান বিবেচনা করে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যৌক্তিক হবে।
প্রসঙ্গত পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তির প্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন (সংশোধন) ১৯৯৮, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন (সংশোধন) ১৯৯৮, বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন (সংশোধন) ১৯৯৮নামে চারটি আইন প্রণয়ন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তিন জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন ১৯৮৯ সালে প্রণীত আইন সংশোধন করে প্রণয়ন করা হয়েছিল। পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সৃষ্টি করা হয়। এতে প্রায় একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং সুবিধাদি দেয়া হয়। আঞ্চলিক পরিষদ প্রাদেশিক সরকারের মতো কাজ করছে। এটা দেশের একক চরিত্র ধ্বংস করেছে। আইন অনুযায়ী উপজাতীয় ব্যক্তিই হবেন আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান। এর প্রধান বালাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে আসছেন। ১৯৯৮ সালে আঞ্চলিক পরিষদ গঠনের পর থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধি প্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) । শুধু তাই নয় আঞ্চলিক পরিষদকে আইন প্রণয়ন এবং কর নির্ধারণেরও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অন্য দিকে সংশোধিত পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনেও উপজাতি ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করার এবং এক তৃতীয়াংশ সদস্য উপজাতীয় হবেন বলে বিধান করা হয়। এর চেয়ারম্যান হচ্ছেন জেলার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। পার্বত্য তিন জেলার সমন্বয়ে গঠিত হয় আঞ্চলিক পরিষদ।
গত ২৩ মার্চ শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন। গত সোমবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে রায় দেয়া শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে। সরকারের পক্ষে তখন চীফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং পার্বত্য চট্রগ্রাম জন সংহতি সমিতির পক্ষে জ্যোতিরিন্দ্র বোধি প্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বান্দরবান জেলার বাসিন্দা মো. বদিউজ্জামান রিট দায়ের করলে ২০০০ সালের ২৯ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম আরেকটি রিট দায়ের করলে ২০০৭ সালে ২৭ আগস্ট রুল জারি করেন হাইকোর্ট গত বছর ১৪ মে হাইকোর্টের বর্তমান বেঞ্চ দু’টি রিট আবেদনে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। ওই দিনই রুলের শুনানি শুরু হয়। গত ২৩ মার্চ শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করা হয়। মোট ২০ কার্য দিবস শুনানি গ্রহণ শেষে আদালত রায় দেয়া শুরু করেন। দু’টি রিট আবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর,সম্পাদন ও বাস্তবায়ন,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদ সংশোধনী আইন ১৯৯৮-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। রিট আবেদনের একটিতে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক,ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন। অপরটিতে মামলা পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এবং এডভোকেট তাজুল ইসলাম। আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষে ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় এবং সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা মামলা পরিচালনা করেন। এছাড়া আদালতে এমিকাস কিউরির বক্তব্য দেন সাবেক বিচারপতি টিএইচ খান এবং ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম, ২৩.০৯.২০১৬খ্রী.

 

Comment here