উপজেলা নির্বাচনপাহাড়ের সংবাদবাঘাইছড়িরাঙ্গামাটি সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

উপজেলা নির্বাচনকে কেন্ত্র করে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল, বিলাইছড়িতে আরেক খুন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটি জেলার প্রত্যন্ত বাঘাইছড়ি থেকে ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আব্দুল হান্নান আরব নামে এক প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৭জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবৃদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে আরো ১৮ জন। নিহতদের অন্যরা হলেন ভিডিপি সদস্য মোঃ আল আমিন, বিলকিস আক্তার, মিহির কান্তি দত্ত ও স্কুল শিক্ষক আমির হোসেন, মোঃ তৈয়ব। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে রাতেই হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, গুরুতর আহত ৭জনকে ঢাকা সিএমএইচ-এ ভর্তি করা হয়। বাকী ১১জন চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন আছেন।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়ন থেকে নির্বাচনীর কাজ শেষে ফেরার সময় দিঘীনালা-মারিশ্যা সড়কের নয়কিলো নামক এলাকায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৫জন। তাৎক্ষনিক নিবাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে। এ ঘটনার পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জোরদার করা হয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অভিযানে মাঠে নেমেছে সেনা-বিজিবিসহ যৌথবাহিনী। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদিম সারোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে উপজাতি সন্ত্রাসীদের গুলিতে হতাহতের ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার না হতেই জেলার বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সকালে ৯টার দিকে নিজ বাড়ি উপজেলার ফারুয়া থেকে ফেরার পথে তাকে গুলি হত্যা করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার কেরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দায়ী করেছেন। উল্লেখ্য, এরআগে নির্বাচন বর্জন করে এ সন্ত্রাসী সংগঠনটি।

পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদ

অন্যদিকে রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলায় হতাহতের ঘটনায় যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি: আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া এবং পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাহাদাৎ ফরাজি সাকিব। এর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তিন জেলায় বিক্ষোভ মিছিলের পর পরবতী কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে বলে ও বিবৃতিতে জাননো হয়। ঘটনায় প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক ভাবে খাগড়াছড়ি শহরে পিবিসিপির জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম মাসুদের নেতৃত্বে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদ খাগড়াছড়ি জেলার নেতা কর্মীরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পিবিসিপি’র পৌর শাখার নেতা নয়ন, কামরুল, সাওন সহ অসখ্য নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি শহরে এই ঘৃণ্য ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার নেতা কর্মীরা। জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্ত্বে এতে অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন পিবিসিপির জেলা সাধারন সম্পাদক আব্দুল মান্নান জেলা সদস্য মোঃ জাবেদ নাগরিক পরিষদের জেলা সদস্য সচিব ছগির আহম্মদ কৃষি ডিপ্লোমা কমিটির সভাপতি আবু নাঈম সহ অসখ্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা, এই নিন্দনীয় ঘটনার সাথে জরিত উপজাতিয় সন্ত্রাসীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার পূর্বক বিচারের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় পার্বত্যবাসী কে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন নেতারা।
বিবৃতিতে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি:আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া এবং পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাহাদাৎ ফরাজি সাকিব বলেন, ইউপিডিএফ এবং জেএসএস এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠন গুলো সব সময় পার্বত্য এলাকাকে নৈরাজ্যপূর্ন এলাকায় পরিনত করেছে। তাই এসব সন্ত্রাসী অস্ত্রধারি সংগঠন গুলোকে নিষিদ্ধ করার দাবী জানান।