খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদলক্ষ্মীছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

কঠোর হলো প্রশাসন, পাল্টে গেছে লক্ষ্মীছড়ি বাজারের চিত্র

স্টাফ রিপোর্টার: প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অবশেষে কঠোর হলো প্রশাসন। গত ২৬ মার্চ থেকে সামাজিক দুরুত্ব বাজায় রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে সাথে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন বার বার অনুরোধ জানিয়ে আসলেও কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাঁট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। সরকারি নিদের্শনার প্রথম থেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল, লক্ষ্মীছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ হুমায়ুন কবির পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্সসহ এবং সেনাবাহিনীর অফিসার সেনাটহল নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। গত রবিবার লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: জাহংগীর আলম লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালের আইসোলেশন কর্ণার ও বাজার এলাকা পরিদর্শন করে ‘করোনা’ থেকে মুক্ত থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবাইকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।

এদিকে করোনার বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও যখন এর ভয়াবহতা বেড়েই চলছে তখনই সরকার আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সবশেষ আইইডিসিআর’র প্রেস ব্রিফিং অনুযায়ী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩জনসহ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১২জন। নতুন আক্রান্ত আরো ৩৫জন। মোট আক্রান্ত ১২৩জন। সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩জন।

এই যখন দেশের পরিস্থিতি তখন লক্ষ্মীছড়ি উপজেলাকেও নিয়ে আসা হলো লক ডাউনের আওতায়। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জাহিদ ইকবাল জানান, করোনা থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে ঘরে থাকতে হবে, প্রকৃত পক্ষে অবস্থাদৃষ্টে সাধারণ মানুষ সেইভাবে মানছে না। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কঠোর না হলে এর ভয়াবহতা যে কত মারাত্মক হতে পারে বাহিরের দেশের দিকে তাকালেই বুঝা যায়।

লক্ষ্মীছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ হুমায়ুন কবির বলেন, এক ধরনের লক ডাউনই বলা যায়। সকাল থেকে আমরা পুলিশ ফোর্স ও সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার জন্য সচেতনতামূলক কাজ করেছি। সরকারি নির্দেশনার আলোকে করোনা প্রতিরোধে যা যা করনীয় সব কিছুই করা হবে।

এদিকে লক্ষ্মীছড়ির দুল্যাতলী এলাকায় করনো সন্দেহে এক নারীর রক্ত সংগ্রহ করে নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ডা. কাজি সাইফুল আলম বলেন, এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির রুক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে করোনার কোনো লক্ষন তার মধ্যে নেই, দীর্ঘ দিন ধরে জন্ডিসে আক্রান্ত বলে রোগী ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।