খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

খাগড়াছড়িতে ‘নিজের বলার মতো একটাগল্প ফাউন্ডেশন’র হাজার তম দিন উদযাপন

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা: নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশনের এক হাজার তম দিন উদযাপন উপলক্ষে ফাউন্ডেশনের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। ৩০সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ১০০০তম দিন উপলক্ষে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় ফাউন্ডেশনের জেলা টিমের ১ম ব্যাচের সদস্য ও কমিউনিটি ভলান্টিয়ার কাউসার আলম সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি কেক কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। পরে সভাশেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা চারাগাছ লাগিয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।

সভায় অতিথিরা বলেন, প্লাটফর্মের কার্যক্রমটি খুবই ব্যক্তিক্রমী। কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য’র সাথে তাল মিলিয়ে প্রশিক্ষণ নিলে তরুণরা মাদকাসক্ত না হয়ে দেশের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য কাজ করবে। ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে পজিটিভ মন্তব্য করে অনেকে আবার বলেন, এরকম তরুণ উদ্যোক্তা এগিয়ে নিজেরাই কর্মদ্যোগ নিলে দেশের বেকারত্ব হ্রাস পাবে বলেও মন্তব্য করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাবেয়া সাফমা আফসার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রশিদ, পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা। এসময় ফাউন্ডেশনের জেলার বিভিন্ন উপজেলা এম্বাসেডর, কমিউনিটি ভলান্টিয়ারসহ সদস্যসহ শুভাকাঙ্খীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ফাউন্ডেশনের খাগড়াছড়ি জেলা টিমের সদস্য ফোরকান হোসাইন সোহা ‘র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সদর উপজেলা এম্বাসেডর ও ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী দহেন বিকাশ ত্রিপুরা।

পরে আবার প্রথম অধিবেশনের পরে জেলা সদরের বাসটার্মিনাল এলাকার এইচ এম পার্বত্য হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠিত হয়। এতে এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ কে এম তোফায়েল আহম্মদ, উপাধ্যাক্ষ ডাঃ জ্যোতি বিকাশ চাকমাসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, চার লক্ষ তরুণকে ফ্রী প্রশিক্ষণ কর্মশালার টানা ১০০০ দিনের ইতিহাস গড়ার পথে ‘নিজের বলার মতো একটা গল্প’ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল বাহার। শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো পৃথিবীতে কেউ কোন দিন টানা ১০০০ দিন প্রতিদিন নির্দিষ্ট কন্টেন্ট দিয়ে কোন ট্রেনিং কর্মশালা ফ্রিতে করেনি! আজ এই অনলাইন প্রশিক্ষণের এক হাজার তম দিন পূর্ণ হচ্ছে।

‘নিজের বলার মতো একটা গল্প’ উদ্যোক্তা হবার প্রশিক্ষণ, ১০টি বিষয়ে স্কিলস শেখানো ও মূল্যবোধ সংক্রান্ত অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্লাটফর্ম। মাত্র ১৬৪ জন তরুণদের নিয়ে এই সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজের উদ্যোগ ২ বছর ৯ মাস আগে নিলেও এখন এটি একটি প্রতিষ্ঠান, যার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এবং মেন্টর জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ। তিনি নিজেও একজন উদ্যোক্তা, এই ফাউন্ডেশন এখন বাংলাদেশের সম্পদ। প্রতিষ্ঠানটির ৯০০তম দিন পূর্তির ভার্চুয়াল আয়োজনে যুক্ত হন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি। ফাউন্ডেশন মূলত ৩টি বিষয় নিয়ে কাজ করে অনলাইন প্লাটফর্ম ‘নিজের বলার মতো একটা গল্প’– ‘চাকরি করবো না চাকরি দেব’। বিষয়গুলো হলো – ১। উদ্যোক্তা বিষয়ক অনলাইনে টানা ৯০ দিন করে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান অর্থাৎ একজন ইয়ুথকে উদ্যোক্তা হতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ৬৪ জেলায় ও ৫০ দেশে উদ্যোক্তা মিট আপ ও সম্মেলন।২। মূল্যবোধ, লিডারশীপ, ১০টি বিষয়ে স্কিলস ও একজন ভালমানুষ হয়ে ওঠার চর্চা কেন্দ্র। ৩। ভলান্টিয়ারিং এবং সোশ্যাল ওয়ার্ক ও মানবিক কার্যক্রম বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ও ৫০টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশীসহ মোট ৪০০,০০০ তরুণ-তরুণীদের ১০টি ব্যাচের মাধ্যমে ৩৬০ টা কন্টেন্ট দিয়ে টানা ৯০ দিন করে বিনামূল্যে অর্থাৎ কোন ফি ছাড়া উদ্যোক্তাবিষয়ক, মূল্যবোধ, ভলান্টিয়ারিং ও ১০টি স্কিলস নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এই প্লাটফর্ম থেকে। প্রতি সপ্তাহে মিটআপের মধ্য দিয়ে চলছে আর অফলাইন কার্যক্রমও, গত আড়াই বছরে সারাদেশে ও বিদেশে প্রায় ১২০০ অনলাইন ও অফলাইন মিট আপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলছে ৯০তম দিন করে ১১তম ব্যাচ।

গত ১০০০ দিন ধরে একদিনের জন্যও এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ বন্ধ ছিল না। এটা সারা বিশ্বে একটি ইতিহাস– এত লম্বা এবং টানা ৯০ দিন এবং টানা ১০০০ দিনের কোন প্রশিক্ষণ কর্মশালা পৃথিবীতে কেউ কোনদিন করেনি। ইতোমধ্যে এই প্লাটফর্ম থেকে আমাদের ৭০০০ জন উদ্যোক্তা হয়েছেন তার মধ্যে প্রচুর নারী উদ্যোক্তা এবং গত ১০০০ দিনে বদলে গেছে এই ৪০০,০০০ তরুণ-তরুণীদের জীবন, এখন যারা এক একজন স্কিলড, পজিটিভ ও ভাল মানুষ।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি দেশের প্রথম ৬৪ জেলাকে নিয়ে শুরু হয়েছে ‘নিজের বলার মতো একটা গল্প’ প্লাটফর্মের ‘সাপ্তাহিক অনলাইন হাট’- প্রতি মঙ্গলবার, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা – টানা ১২ ঘণ্টা। করোনার এই ভয়াবহ সময়ে যখন সবাই তাদের বিজনেস নিয়ে চিন্তিত, অনেকের সেল প্রায় বন্ধ তখন ‘নিজের বলার মতো একটি গল্প’ গ্রুপের মাধ্যমে তৈরি দুলাখ মানুষকে একটি ফেসবুক গ্রুপে অপার সুযোগ ও সম্ভাবনা, আবার ঘুরে দাঁড়ানোর! একই সঙ্গে সুযোগ করে দিল ক্রেতাদের জন্য অনলাইনে কেনাকাটার। ‘আমরাই ক্রেতা আমরাই বিক্রেতা’ এই স্লোগানে বেশ জমে উঠেছে এই অনলাইন হাট। নিজের বলার মতো একটা গল্প উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি করে যাচ্ছে মানবিক কাজও; যেমন অসহায় গৃহহীনকে ঘর বানিয়ে দেয়া, কিছু গরিব তরুণদের আর্থিক মূলধন দিয়ে সহায়তা করা, ৩৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, করোনাকালে ৮০০০ ত্রাণসামগী দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকা, ২০,০০০ ব্যাগ রক্ত প্রদান করা, সারাদেশে ৩৫,০০০ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন করা, ১৫০০০ এতিম-অসহায় শিশু ও বৃদ্ধকে ১ বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা, ৪০০০ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা করাসহ নানান উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী ১বছরের মধ্যে ১০০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা অন্তত ১০,০০০ উদ্যোক্তা হওয়ার মধ্য দিয়ে এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০০,০০০ উদ্যোক্তা ও ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করা উদ্যোগ নিয়েছেন এই প্লাটফর্ম।