চট্টগ্রাম সংবাদরাঙ্গুনিয়াশিরোনামস্লাইড নিউজ

চ্যানেল আই ‘পরিবর্তনের নায়ক’ এওয়ার্ড পেলেন রাঙ্গুনিয়ার এরশাদ মাহমুদ

           পদুয়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন বিলুপ্ত প্রজাতি গয়ালের খামার
শান্তি রঞ্জন চাকমা, রাঙ্গুনিয়া: বিলুপ্ত প্রজাতি গয়াল পালন, মৎস, কৃষি বিপ্লব ও সমাজ পরিবর্তনের একজন সফল মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন রাঙ্গুনিয়া পদুয়া গ্রামের মো. এরশাদ মাহমুদ। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও-এ আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘স্ট্যান্ডার্ট চাটার্ড ব্যাংক-চ্যানেল আই’ মো. এরশাদ মাহমুদকে খামার উদ্যোক্তা হিসেবে “পরিবর্তনের নায়ক” ক্যাটাগরিতে এওয়ার্ড সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কৃষি এবং কৃষককে সম্মানিত করার দেশের সবচেয়ে বড় এই আয়োজনটি করেছিল স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক এবং চ্যানেল আই যৌথভাবে। ৬ষ্ঠ বারের মতো এই আয়োজনে সম্মানিত করা হয়েছে দেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে। যেখানে “পরিবর্তনের নায়ক” ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেলেন রাঙ্গুনিয়ার সফল খামারী মো. এরশাদ মাহমুদ। এরআগে গতবছরের ২৪ ডিসেম্বর “চ্যানেল আই” জুড়িবোর্ড তার নাম ঘোষণা করেছিল।

নিজ গ্রাম পদুয়া ইউনিয়নে এরশাদ মাহমুদ একজন সফল খামারী। মৎস্য খামারী হিসেবে তিনি সরকারিভাবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে জাতীয় পর্যায়েও সফল মৎস্য খামারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছিলেন মো. এরশাদ মাহমুদ।
মৎস্য খামারের বাইরেও তিনি গড়ে তুলেছেন বিলুপ্ত প্রজাতি গয়ালের খামার। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ীদের কাছ থেকে প্রথমে ৩টি গয়াল সংগ্রহ করেন। পাহাড়ের বড় জাতের টং গরু ও গয়ালের সম্বনয়ে প্রজনন শুরু করেন। গয়াল পশুকে সাধারনত গরুর মত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয় বলে খামারী এরশাদ মাহমুদ বলেন।

তিনি জানান, কোন গয়াল অসুস্থ হলে সনাতন পদ্ধতিতে বনাজি ওষুধে চিকিৎসা করে প্রথমে সেই গয়ালকে গহীন বনে ছেড়ে দিয়ে আসি। সেটিকে কেয়ারটেকার দিয়ে নজরে রাখি। সুস্থ হলে আবার খামারে নিয়ে আসা হয়। এক যুগের বেশী সময় ধরে গয়াল লালন-পালন করে আসছেন। বর্তমানে খামারে শতাধিক গয়াল পালন করা হচ্ছে। এক-একটি গয়ালের ওজন প্রায় ২৫/৩০ মন। বনের গয়াল প্রাণীকে পালন করে বিলুপ্ত হওয়া থেকে মো. এরশাদ মাহমুদ রক্ষা করেছেন। দেশে মাংসের চাহিদা পূরণ করে বিরাট ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সরকার গয়াল কে গৃহপালিত পশু হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সফল খামারী এরশাদ মাহমুদ বলেন, পদুয়া পাহাড়ি এলাকায় গয়াল পালনের যতেষ্ট উজ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে এক হাজার গয়াল পালনের ইচ্ছা রয়েছে। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও যারা উপযুক্ত চাকরি থেকে বঞ্চিত, চাকরির পেছনে না দৌঁড়ে গয়াল, মৎস ও ফলজ বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়। সততা, পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা যায়। পাড়া-সমাজ থেকে অবহেলিত বেকার থাকা যুবকটি আর কারও বোঝা হয়ে থাকবেনা। সফল উদ্যোক্তা হিসেবে শতশত বেকার যুবককে চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবেন। এরশাদ মাহমুদ বলেন, দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে গয়াল, মৎস ও কৃষিকাজে নিজেকে মননিবেশ করে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় বেকার যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। সফলতা আপনার কাছে অবশ্যই ধরা দেবে।

উল্লেখ্য, চ্যানেল আই “পরিবর্তনের নায়ক” উপাধি পাওয়া মো. এরশাদ মাহমুদ বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের তথ্যমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়ার কৃতি সন্তান ড. হাছান মাহমুদ এমপি’র ছোট ভাই।