খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদদীঘিনালাপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

ভাতা বিহীন একই পরিবারে ৬ প্রতিবন্ধী

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : বিদ্যুৎ নেই, বিশুদ্ধ পানীয় জলের দুষ্পাপ্যতা, অনুন্নত যোগাযোগ, চিকিৎসার অভাব, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, শিক্ষার অভাব, আধুনিক চাষাবাদ ও পশুপালনে জ্ঞানের অভাব, শুধু অভাব আর অভাব। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ভুইয়াছড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ। শারিরিক প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বিধবা, বাল্য বিবাহ, স্বামী পরিত্যক্তাসহ অসংখ্য অসহায়দের বসবাস এ গ্রামে। খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলাধীন মেরুং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের অর্ন্তভুক্ত প্রত্যন্ত এলাকা ভুইয়াছড়া গ্রাম (কিনাচাঁন কারবারী পাড়া)। এখানে একই পরিবার বা বংশের মধ্যে ৬ জন প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকে তাহারা প্রতিবন্ধী ছিলেন না। বিভিন্ন বয়সে তাহারা তাদের দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন। সত্তরোর্ধ আব্দুল কাদেরের স্ত্রী সাহারা খাতুন (৬০) দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তার ছেলে মনির হোসেন (২১) ক্ষীণদৃষ্টি, কন্যা খালেদা (২৭) ক্ষীণদৃষ্টি এবং খালেদার দুই সন্তান শারমিন(৯) ও খোরশেদ(৭) দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সাহারা খাতুনের ভাইয়ের কন্যা ছাবিনা ইয়াছমি(১০) ক্ষীণদৃষ্টি। ৬ জনের মধ্যে মনির, খালেদা ও ছাবিনা ইয়াছমিন এই ৩ জনকে সময় সময় চক্ষু অপারেশন করা হয়েছে। ফলে তারা আংশিক দেখতে পায়। কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ্য নয় বলে জানিয়েছেন তাদের অভিভাবক। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ৬ জনের কেহই প্রতিবন্ধী ভাতা পায় না। আদৌ তাদের নামে প্রতিবন্ধী কার্ড হয়েছে কিনা? তাও তারা জানে না। তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শুচনীয়। প্রতিবন্ধী খালেদার বসতঘর নেই। তার ফুফুর ভাঙ্গা কুড়েঁ ঘরে একত্রে বসবাস। প্রতিবন্ধী সাহারা খাতুনের অপর কন্যা মাজেদা বেগমের বসতঘর একবছর পূর্বে আগুনে পুড়ে যায় কিন্তু অর্থের অভাবে এখনো বসতঘর তৈরি করতে পারেন নি। পিতার পুরাতন ঘরে মাটিতে বিছানা পেতে রাত্রি যাপন করে। যার এক পাশে থাকে গরু ও অন্য পাশে ছাগল।

অপর বিধবা মরিয়মের পরিবারের ৪ সন্তানের মধ্যে এক ছেলে প্রতিবন্ধী আব্দুর রহিম(৩০), সুস্থ ছেলে আল আমিন (১৭) স্বামী পরিত্যাক্তা দুই কন্যা-রোকেয়া(২১) ও তাছলিমা(১৯)। তার মধ্যে রোকেয়ার ১ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে এবং তাছলিমা অন্তসত্বা।

আরেক বিধবা নারী হাদিছা। তার ৩ মেয়ের মধ্যে ১ জন প্রতিবন্ধী। ১ থেকে ৫ বছর বয়সের ৩ সন্তান নিয়ে বিধবা হয়েছে ২য় জন। ৩য় কন্যা সন্তান ভাল। সে তার স্বামীর ঘরে আছে। এ গ্রামে অনেক পরিবারেই জটিল সমস্যা রয়েছে।

বিদ্যুৎ, প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসা, ভাল যাতায়ত, ফল, সবজি বা আধুনিক চাষাবাদে প্রশিক্ষণ। গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী পালনে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী।