খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার জেলার সর্বনিম্ম পানছড়িতে, সমালোচনার ঝড়

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। তার মধ্যে পানছড়ি সরকারী ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের অবস্থা করুন। ৭২৫ জন শিক্ষা পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করে পাস করেছে মাত্র ১০৮ পরীক্ষার্থী। যেখানে পাশের হার শতকরা ১৪ দশমিক ০৪ শতাংশ। ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। অপর দিকে খাগড়াছড়িতে ৭ হাজার ২৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৬৪৭ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৩৬.৬১ শতাংশ। ফলাফল বিপর্যয় কৃতকার্য’র মধ্যে সর্ব নিম্ম অবস্থানে আছে পানছড়ি ডিগ্রী কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১০৮ জন।

অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরও ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। যা জেলার মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করেছে। অপর দিকে ১ম বারের মতো পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আলোচিত ফলাফল করেছে জেলার গুইমারা কলেজ। এই কলেজের ১০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮২ জন। গড় পাসের হার ৮৬.৯২ শতাংশ। লক্ষ্মীছড়ি কলেজে পাশের হার ২৩.১৯ ভাগ। ৬৯জন পরীক্ষা শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৬জন। সবোচ্চ পয়েন্ট জিপিএ ৪.৫৮।

পানছড়ির ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক সমালোচনার ঝড় বইছে। চট্রগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈমুল ইসলাম ফারাবী এফবিতে লিখেছেন, পানছড়ি কলেজ ও কিছু কথা, যা পাঠকদের জন্য হুবহু তোলে ধরা হলোঃ আমি এই কলেজের ছাত্র নই, তবুও নিজ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কলেজটির সকল ব্যপারে মোটামুটি খোঁজ রাখি। কারণ, ২বছর আগে পর্যন্তও পাহাড়ী-বাঙ্গালীর জন্য একমাত্র কলেজ ছিলো এটি, যা গতোবছর সরকারী হয়েছে। কিন্তু, সরকারি হয়েও গতবারের চেয়ে এইবার যেনো তাদের রেজাল্টের অবস্থা আরো করুন। ১৪% পাস যা গত একযুগে সবচেয়ে কম।আমার প্রশ্ন, এখানকার ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা নাকি শিক্ষকদের? নরমাল সেন্সে সমস্যা আসলে শিক্ষার্থীদের ই, তাদের পড়ালেখায় তেমন কোন স্প্রীড আমার চোখে কখনোই পড়েনি, আর তাদের মধ্যে খুব কম শিক্ষার্থীদের চোখেই আমি আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছি। আর না তারা কাউকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়, না তাদের মনে কোন বিষয়ে জানার আগ্রহ আছে। তারা চায় আমি ৩৩ পাইলেই হবে, আর সেজন্য কলেজের ১২টা বাজে। এযাবৎকালে এখান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পেয়েছে কিনা আমি জানিনা। আমি বলবো এরজন্য শিক্ষার্থীরা যেমন দায়ী, শিক্ষকেরা কোন অংশে কম নয়। যা খুব সহজে সবাই অনুধাবণ করতে পারেনা। এটি নিয়ে সামনের বছর পোষ্ট করবো।

এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এফবিতে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো: পানছড়ির আজকের এইচ এস সি পরীক্ষার রেজাল্টে যারা পাশ করেছে তাদের অভিনন্দন। আজকের এই রেজাল্ট আমাদেরকে একটে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে বৈকি। যদিও পুরো জেলার রেজাল্টের প্রায় একই চিত্র আমি পানছড়ির বিষয়ে আলাদা করে বলব। এই উপজেলার দুইটি কলেজের চিত্র সামনে এনে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বুঝা যায় কলেজ পর্যায়ে কি রকম একটা হতাশাজনক শিক্ষার মান আমাদের। সবচেয়ে দুঃখজনক আমাদের ঐতিহ্যবাহী পানছড়ি ডিগ্রী কলেজের মাত্র ১৪.০৯% পাশের হার।
প্রশ্ন হলো একই উপজেলার আরেকটা কলেজ যদি অনিবন্ধিত অনভিজ্ঞ শিক্ষকের পাঠদানে এত ভাল রেজাল্ট প্রায় (৬০% পাশ) করতে পারে, তাহলে কেন পানছড়ি ডিগ্রী কলেজ নিজেদের ভেন্যুতে এত খারাপ রেজাল্ট করল!! আমাদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে এখানে নিয়মিত ক্লাস হয় না। শিক্ষকদের অনেকে শুধু মাসে একবার এসে বেতন নিয়ে যায়। আঞ্চলিক ও দলীয় রাজনীতি চর্চার একটা উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এই প্রতিষ্টানটি। আমি এই কলেজের সম্মানিত প্রিন্সিপাল মহোদয়, পরিচালনা পরিষদের সকল সদস্য, এই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, সম্মানিত অভিভাবক ও সচেতন সুশীল সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই আপনাদের এই প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দিন। এমন একটা প্রতিষ্ঠান দিন দিন ধ্বংস হয়ে যেতে আমরা দিব না, দিতে পারি না।

পড়ালেখা না করে পাশ করার যে মানসিকতা ও ইচ্ছা এখানে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা লালন করে আসত, সে ধারণা থেকে তাদের বের করে নিয়ে আসুন। অভিভাবক সমাবেশ করে তাদের বুঝান। আমরা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিব। যারা এবারের পরীক্ষায় খারাপ করেছ, প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, তোমাদের প্রতি গভীর সমবেদনা। ভাল করে পড়। সুন্দর আগামীর প্রতীক্ষায়।-উপজেলা নির্বাহী অফিসার,পানছড়ি।