এসটি-এনআরএম প্রকল্পে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা: কৃষি উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে পাহাড়ে বদলের প্রত্যয়

শেয়ার করুন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে টেকসই কৃষি, ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণ এবং নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এসটি-এনআরএম (ST-NRM) প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা।

১৪মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ির কেশব মহাজন পাড়ায় “Experience Sharing Visit among PIC Members at Project Sites” শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে জাবারাং কল্যাণ সমিতি। এতে সহযোগিতা করে তেবতেব্বা ফাউন্ডেশন।
সভায় বিভিন্ন পাড়ার পিআইসি সদস্য, কৃষক, উপদেষ্টা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রকল্পের সাফল্য, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে পারস্পরিক শেখার সুযোগ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশব মহাজন পাড়ার কার্বারি ও পিআইসি উপদেষ্টা ধলেন্দ্র ত্রিপুরা। এছাড়াও বিভিন্ন পাড়ার পিআইসি সভাপতি, উপদেষ্টা, কৃষক ও কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রজেক্ট অফিসার দয়ানাথ রোয়াজা। সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, গত দুই বছরে এসটি-এনআরএম প্রকল্প পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে উন্নত বীজ, চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণের ফলে পারিবারিক আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি ও জুম চাষের চর্চা নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও পানি সংকট এখনো কৃষি উৎপাদনের বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সময়মতো বীজ ও চারা সরবরাহ নিশ্চিত করা, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সভায় জৈব সার ব্যবহারের গুরুত্ব, বীজ সংরক্ষণ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে প্রকল্পের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা। তারা বলেন, বর্তমানে নারীরা কৃষিকাজ, বীজ সংরক্ষণ, ফসল পরিচর্যা এবং সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও আত্মবিশ্বাসী ও সক্রিয় হয়ে উঠছেন। বক্তাদের মতে,এসটি-এনআরএম প্রকল্প শুধু কৃষি উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।