• May 22, 2024

কান্নার সাগরে ভাসিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেলেন আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়ারুল

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: নিজের এবং আওয়ামীলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কান্নার সাগরে ভাসিয়ে অবশেষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ফটিকছড়ির আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন বলে জানান। শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ির দলীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তিনি এক আবেগঘন বক্তব্যেও মাধ্যমে নির্বাচন থেকে তাঁর সরে দাড়ানোর কথা জানান। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের মধ্যস্থতায় জেলা এবং উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ ঘোষনা দেন তিনি। এ সময় তাঁর সমর্থক আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পেয়ারুল ইসলামের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছিল ফটিকছড়িতে। গত ১৮ ডিসেম্বর দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশে হঠাৎ প্রচারণা বন্ধ করে তিনিসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা ঢাকায় চলে যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনার পর আওয়ামীলীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলকে বিষটি মিমাংসা করার দায়িত্ব দেয়া হয়। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার সদরের দলীয় কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে। বৈটকে কোন গনমাধ্যম কর্মীসহ দলের নেতাকর্মীদেরকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। প্রায় ৩-৪ ঘন্টার বৈঠকের পর পেয়ারুল ইসলাম মাইকে তাঁর বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। এসময় তাঁকে বেশ আবেগাপ্লুত দেখা গেছে। এসময় ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী রাজনীতি করে আসছেন উল্লেখ করে পেয়ারুল ইসলাম বলেন, সব সময় দলের প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করেছি। ফটিকছড়িতে আওয়ামী রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। সব সময় নিজের স্বার্থেও চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছি। পেয়ারুল ইসলাম তার আবেগপূর্ণ বক্তব্যে নজিবুল বশর উদ্দেশ্য কওে পেয়ারুল ইসলাম বলেন, আপনি (নজিবুল বশর) নিজের স্বার্থে সব সময় নৌকা নিয়ে জয়ী হয়েছেন। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা দলের জন্য আপনাকে নৌকা দিয়ে জয়ী করেছেন। কিন্তু আপনি প্রতিবারই নৌকা নিয়ে বিজয়ী হয়ে নৌকার ক্ষতি করেছেন। আপনার কারণে ফটিকছড়িতে অসংখ্য আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের হত্যা হয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য রুস্তম আলীর তিন ভাই খুন হয়েছে ২০০১ সালের নির্বাচনে আপনার কারণে। যতবারই বিজয়ী হয়েছেন প্রতিবারই আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদেরকে মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করেছেন। অনেককেই করেছেন বাড়ীঘর ছাড়া। ফটিকছড়িতে আপনার সময়ে হযনি কোন দৃশ্যমান উন্নয়ন। প্রজেক্টের অর্থ লোপাটসহ হাতিয়েছেন। সাবেক এমপি রফিকুল আনোয়ারের কন্যা খাদিজাতুল আনোয়ার সনি যে স্কুলের সভাপতি এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক যে মাদ্রাসার সভাপতি সেখান থেকেও টাকা নিয়েছেন। আপনার এতো শুধু খাই খাই চাই চাই কেন ? কতটাকা প্রয়োজন আপনার। বিগত সময়ে আপনার দ্বারা উপজেলার আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মীও কোন উপকার হযনি। বিগত সময়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান, সাবেক এমপি রফিকুল আনোয়ার, দলের সাবেক সভাপতি জহুরুল হক, ছাত্রলীগ নেতা টিপু’র মৃত্যু বার্ষিকীতে আপনি উপস্থিত হননি। ভুজপুর ট্রাজেডিতে নিহত তিন যুবলীগ নেতার পরিবারকে কোন অনুদান প্রদান আপনার মাধ্যমে হয়নি। আওয়ামীলীগ নেতা কাইয়ুম, হালিমকে মামলা দিয়েছেন। যারা ইয়াবা ব্যবসা করে এবং যে সব ছেলেকে শিক্ষক অভিভাবকরা ভয় পায় তাদেরকে নিয়ে আপনি ভোটের প্রচারনা করছেন। মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী রাজিয়া মাসুদকে সেনাবাহিনী দিয়ে পিটিয়েছেন। নৌকার টিকেটে এমপি হয়ে বিএনপিতে গিয়ে নেত্রীর বিরুদ্ধে বিষোধগার করেছেন।
পেয়ারুল ইসলাম তার দীর্ঘ বক্তব্যে এভাবে নজিবুল বশর কর্তৃক আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদেও নির্যাতিত হওয়া এবং তাদেও ক্ষোভের বিষয় গুলো তুলে ধওে বলেন, আমার চেয়ে রাস্ট্রের স্বার্থ বড়। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত বড়। আমি আর কোনদিন মনোনয়ন চাইবনা। শেখ হাসিনার একজন সাধারন কর্মী হিসেবে থাকবো। দল আমাকে বহিস্কার করেনি এবং আপনারা যারা আমার জন্য কাজ করেছেন তাদেওর করবেনা। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকুক এটাই আমার মন কামনা এবং বাসনা। রাস্ট্রের স্বার্থে, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার স্বার্থে আমি দেশ রতœ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে নিলাম আপনারাও মেনে নেন। এতদিন রাজনীতি করতে গিয়ে রাজপথে আপনারা আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন সে জন্য আমি আপনাদেও প্রতি কৃতজ্ঞ। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
তরিকত চেয়ারম্যান ও নৌকা প্রার্থী সৈয়দ নজিবুল বশর ভান্ডারী বলেন, পেয়ারুল ইসলাম আমার বিরুদ্ধে যেসব দোষ তুলে ধরেছেন এবং যে অভিযোগ গুলো করেছেন আমি সব কিছু মেনে নিলাম। সব দোষ স্বীকার করে নিলাম। আপনারা আমাকে যে অফিসে ঢুকিয়েছেন সে অফিস থেকে বের করে দিবেননা। আমাকে দুরে সরিয়ে দিয়েননা।
এদিকে বৈঠক শেষে আওয়ামীলীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন পেয়ারুল ইসলাম সাহেব নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে দলের স্বাথে তিনি নেত্রীর নির্দেশ মেনে নির্বাচন থেকে সওে দাড়ালেন। এখন সবাই মিলে নৌকাকে বিজয়ী করতে কাজ করবেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ ছালাম, জেলা পরিষদ সদস্য শওকতুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো. শাহ জাহান, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী, সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গোলাপ রহমান, চেয়ারম্যান আবু তালেব, দিদারুল বশর চৌধুরী দুদু, সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম সিকদার, চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি এম এ কাইয়ুম,মহিলা নেত্রী রাজিয়া মাসুদ,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হক,দপ্তর সম্পাদক সামসুল আলম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মঈনুল আলম সউকি,উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম, সাবেক সভাপতি শাহেদুল আলম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

পাহাড়ের আলো

https://pahareralo.com

সর্বাধিক জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে জানতে চোখ রাখুন পাহাড়ের আলোতে।

Related post